Monday, May 20, 2024
spot_img
Homeকমিউনিটি সংবাদ USAইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক হামলায় অংশ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক হামলায় অংশ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অন্ধ সমর্থন দেবে না। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল প্রতিশোধমূলক কোনো হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্র তাতে অংশ নেবে না। বাইডেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। খবর বিবিসির।

শনিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল রোববার ভোর পর্যন্ত ইসরাইলে তিনশ’র বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। গত ১ এপ্রিল সিরিয়ায় ইরানের দূতাবাসে ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ নিতে এই আক্রমণ চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইরান। তবে লক্ষবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইসরাইল। এই কাজে অংশ নেয় ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রসহ যৌথ বাহিনী।

এদিকে ইরানের এই হামলার কী জবাব দেওয়া হবে ইসরাইলকে তা সাবধানে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রোববার হোয়াইট হাউসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানান, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কীভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিয়ে সাবধানে ও কৌশলী হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সিরিয়ায় ইসরাইলের বিমান হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনার বিনিময়ে ইসরাইল সবচেয়ে সেরা জবাবটিই পেয়েছে বলে মনে করে বাইডেন প্রশাসন। এছাড়া ৯৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন গুলি করে নামিয়ে আনা ও প্রতিরোধ করার মাধ্যমে ইসরাইল ইরানের তুলনায় তার সামরিক শ্রেষ্ঠতা বজায় রাখতে পেরেছে বলেও মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের হামলার পরপরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা হয় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। টেলিফোন আলোচনায় দুই নেতা কীভাবে সব কিছু শ্লথ করা যায় ও একটির পর আরেকটি বিষয় নিয়ে এগোনো যায় তা নিয়ে কথা বলেন। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ইসরাইলের পক্ষে উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া দেওয়ার বিষয়ে কোনোকিছু জানাতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে শুধু এটাই বলেন যে, বিষয়টির হিসাব ইসরাইলকেই করতে হবে।

তবে টেলিভিশনের প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র জন কিরবি বারবার এই কথা বলেন যে, তার দেশ যে আরও বড় আকারের সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে না এই বিষয়টি এখন পরিষ্কার।

জন কিরবি ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে রক্ষায় কাজ করে যাবে। তবে এক্ষেত্রে ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ‘জবাব’ দিতে তারা দেশটির সঙ্গে যোগ দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের কথাবার্তায় একটি বিষয় পরিষ্কার যে, ইরানের হামলা প্রতিরোধে ওয়াশিংটন তেলআবিবকে সার্বিক সহায়তা করবে। তবে ইরানকে পাল্টা হামলায় ইসরাইলকে সমর্থন দেবেন না মার্কিন প্রশাসন।

ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর সময়, তাদের প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত হয়েছিল বা বাধা দেওয়া হয়েছিল – যা মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের ওপর ইসরাইলি সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের চিহ্ন হিসাবে দেখছে।

ইরান হামলার চালানোর সময় মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী বেশ কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে।

৮০টিরও বেশি ড্রোন এবং কমপক্ষে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরাকের উপর দিয়ে ভূপাতিত করে মার্কিন বিমান ও জাহাজ বা বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এর মধ্যে সাতটি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল যেগুলো তারা ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করেছিল, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রোববার এক আপডেটে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরাইলকে নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের এই অবস্থান নিয়ে কিছু মার্কিন আইন প্রণেতা এবং উভয় রাজনৈতিক দলের প্রাক্তন কর্মকর্তারা সমালোচনার করেছেন।

ওহাইও রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক টার্নার, যিনি হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বলেছেন, কারবি সংঘাত কমিয়ে আনার বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, সেটা “ভুল”। এটি ইতোমধ্যেই ক্রমে বাড়ছে এবং প্রশাসনকে এর প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।

জন বোল্টন, যিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তিনি বলেছেন ইসরাইল যদি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর প্রতিশোধমূলক আক্রমণ শুরু করে তবে যুক্তরাষ্ট্রের এর সঙ্গে যোগ দেওয়া উচিত।

‘আমি মনে করি ইসরাইল পুরোটা না হলেও, খুব উল্লেখযোগ্য অংশ (ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি) ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করতে পেরেছে। সত্যি বলতে, ইসরাইল যদি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গর্বের সঙ্গে যোগ দেয়া উচিত হবে। ‘

ইসরাইলে ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন যে তারা ইসরাইলের জন্য সামরিক সহায়তা পাস করতে আবারও চেষ্টা করবে।

ইসরাইলে আরও সাহায্য পাঠানোর পূর্ববর্তী প্রচেষ্টা ডেমোক্রেটদের আহ্বানের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল।

ডেমোক্রেটরা আহ্বান জানিয়েছিল যে ওই সহায়তা প্যাকেজে তাইওয়ান এবং ইউক্রেনের জন্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

মধ্যপ্রাচ্যের সাবেক উপ-প্রতিরক্ষা সচিব মিক মুলরয় বিবিসিকে বলেছেন যে, ইসরাইলের জন্য সাহায্য অনতিবিলম্বে পাস করা উচিত। মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তার জন্য যদি এটি না হয়, তবে আমরা একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখোমুখি হতে পারি।

এই সহায়তা সেইসঙ্গে ইউক্রেন এবং তাইওয়ানের জন্য আমাদের সহায়তা দেওয়া আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের মধ্যে পড়ে। এটি কোনো দান নয়। এটি মার্কিন জাতীয় প্রতিরক্ষার অংশ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments