Saturday, June 15, 2024
spot_img
Homeজাতীয়সেই বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আসামি শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার

সেই বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আসামি শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার

বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলায় শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করতে এসে ধরা পড়েছেন ঢাকার বহুল আলোচিত দর্জি শ্রমিক বিশ্বজিৎ সাহা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আলাউদ্দিন (৩৬)।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশ গোপনে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তাকে ওয়ারেন্টমূলে গ্রেফতার করে।

ওসি দীপক কুমার দাস জানান, আলাউদ্দিনকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, আলাউদ্দিন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ছোট ধাপ গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। ২০১২ সালে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। কুরবানির ঈদ উদযাপনে আলাউদ্দিন গত ৭ জুলাই স্ত্রী নাহিদ ফেরদৌসকে নিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা বন্দর এলাকায় শ্বশুর কাজী নুরুল ইসলামের বাড়িতে আসেন। ১৫ জুলাই রাতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

আলাউদ্দিন কক্সবাজারের টেকনাফে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী নাহিদ ফেরদৌস সেখানে একটি বিদেশি সাহায্য সংস্থায় চাকরি করেন। ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। আলাউদ্দিন এর আগে গাজীপুরে একটি পোলট্রি খামারে চাকরি করতেন।

ছাত্রলীগের কর্মী আলাউদ্দিন ২০১২ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার সূত্রাপুরের বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে দিয়ে দর্জি শ্রমিক বিশ্বজিৎ দাস (২২) হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করেন। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

এ ব্যাপারে বিশ্বজিতের ভাই উত্তম দাস ঢাকার সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ২১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার চতুর্থ দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামিদের মধ্যে আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেন।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে আটজন গ্রেফতার হলেও ঘটনার পর থেকে অপর ১৩ জন পলাতক রয়েছেন। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করলে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট দুইজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন এবং চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং দুইজনকে খালাস দেন। এজাহারে চার নম্বর আসামি আলাউদ্দিন ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন।

ওসি দীপক কুমার দাস জানান, আলাউদ্দিনের সাজার ওয়ারেন্ট নিজ এলাকা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানায় এসেছিল। শুক্রবার সকালে গোপনে খবর পেয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা বন্দর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আটোয়ারী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments