Saturday, April 20, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামসংসদে রাষ্ট্রপতির শেষ ভাষণ: গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে

সংসদে রাষ্ট্রপতির শেষ ভাষণ: গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে

বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম এবং নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে যে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, তা ছিল রাষ্ট্রপতি হিসাবে সংসদে তার শেষ ভাষণ। রাষ্ট্রপতি পদে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৩ এপ্রিল। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির দুবারের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকার সুযোগ নেই।

পদমর্যাদায় রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি হিসাবে এমনিতেই সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তার ওপর শেষ ভাষণের রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। রাষ্ট্রপতির শেষ ভাষণ সংসদ অধিবেশনে অন্যরকম একটি আবেগঘন পরিবেশও তৈরি করে। কারণ তিনি আমাদের প্রধান অভিভাবক।

এ ভাষণে রাষ্ট্রপতি এমন কিছু কথা বলেছেন, যা এ মুহূর্তে শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, সারা বিশ্বের জন্যই প্রাসঙ্গিক। যেমন তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ অতিবাহিত করছি আমরা। ২০২২ সাল আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। সমগ্র বিশ্বই পার করেছে এ কঠিন সময়।’

তিনি বলেছেন, আমরা করোনা মহামারি সফলভাবে মোকাবিলা করে অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের এ অগ্রযাত্রাকে শ্লথ করেছে। রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্য আমাদের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক। বস্তুত এই কঠিন সময় মোকাবিলায় আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। আমাদের আরও অনেক সমস্যা আছে। সেসব প্রসঙ্গেও বলেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দুর্নীতি দেশের অন্যতম বড় সমস্যা। এমন সরকারি প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করা কঠিন, যেখানে দুর্নীতির চর্চা হয় না। এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাস ও সহিংসতা দেশের একটি বড় ব্যাধি। রাষ্ট্রপতি ইতঃপূর্বেও এর বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলতে বলেছিলেন। বলা নিষ্প্রয়োজন, সহিংসতা গণতন্ত্রচর্চার ক্ষেত্রে এক বড় বাধা। এ বাধা সমাজ থেকে দূর করার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। এই সংগ্রামে শামিল হতে হবে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে।

জনগণকে সব ক্ষমতার উৎস এবং জাতীয় সংসদকে প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে সংসদ-সদস্যদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া আমাদের পবিত্র কর্তব্য।

এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, গত ৫০ বছরেও দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা শক্তিশালী করতে পারিনি। এটা আমাদের এক দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর চোখ দিয়ে দেখলে দেখা যাবে, এমন সমাজে নানা ধরনের সংকট বাসা বাঁধে। সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চা হয় যে সমাজে, সে সমাজ ততই এগিয়ে যায়। জনগণের ভালোমন্দ দেখা তথা জনস্বার্থ রক্ষাই সংসদ-সদস্যদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সবশেষে বলব, রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যকে গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে আমলে নিতে হবে আমাদের সবাইকে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments