Saturday, June 15, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামভবন সংস্কারে দুর্নীতি

ভবন সংস্কারে দুর্নীতি

ভবনের নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে সংস্কার ব্যয় দ্বিগুণ হওয়ার বিষয়টি গল্পের মতো মনে হলেও বাস্তবে তা-ই ঘটেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে এমন দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এর তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জানা গেছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের চাঞ্চল্যকর এই আর্থিক দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার পর অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে রুজু করা হয়েছে বিভাগীয় মামলা। এরপর অনিয়ম খতিয়ে দেখতে কয়েক মাস আগে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়।

আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশনের (এসএএআরসি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গবেষণার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভবনটি যে কাজে ব্যবহারের কথা ছিল, সে কাজে ব্যবহার হয়নি। পরে এটি অধিদপ্তরের জাতীয় আবহাওয়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে এ ভবনের ব্যবহার নিয়ে আরও কিছু পরিকল্পনা করা হয়। সেসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরকে (বিএমডি) অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে বিএমডির সাবেক পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন।

বিএমডি দেশের একমাত্র সংস্থা হিসাবে দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে এবং এ বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান করে থাকে। কাজেই এ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি। সামছুদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ তো দূরের কথা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের অধস্তন এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে দিয়ে প্রাক্কলন প্রস্তুত করেন। তিনি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ এবং ২০১৫ সালের ডেলিগেশন অব ফিন্যান্সিয়াল পাওয়ারের ব্যত্যয়সহ আরও অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ভবন সংস্কার কাজে কোটি কোটি টাকার ব্যয় মঞ্জুরি করে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ। ভবনটির সংস্কার কাজে জাতীয় পর্যায়ের স্ট্যান্ডার্ড বজায় না রেখে নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী খরচ বেশি করা হয়েছে।

তিনি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান হয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর (প্রধানমন্ত্রী) সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন, পিপিআর-২০০৮ লঙ্ঘন করেছেন এবং সরকারের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ ২০১৫ লঙ্ঘন করেছেন। তিনি আরও কী কী অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন; তাকে কে বা কারা প্রশ্রয় দিয়েছেন-এসব বিষয়ের দ্রুত বিস্তারিত তদন্ত হওয়া দরকার। আমরা আশা করব, দুদকের অনুসন্ধানে এ সংক্রান্ত সব রহস্য উন্মোচিত হবে এবং দুর্নীতিবাজদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments