Sunday, June 16, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনাসায় গিয়েছিল এক্সো ম্যাক্স

নাসায় গিয়েছিল এক্সো ম্যাক্স

রোবটিকস ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য প্রতিবছর নাসা আয়োজন করে থাকে নাসা কনরাড চ্যালেঞ্জ। এবারের আসরে গ্লোবাল ফাইনালিস্ট হিসেবে সরাসরি নাসায় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের টিম এক্সো ম্যাক্স। বিস্তারিত জানাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

শুরুটা

রোবটিকস নিয়ে আগ্রহ পাঁচজনের। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একে অপরের সঙ্গে পরিচয়।

রোবটিকসের অনেক ফেস্টেও অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে সবার মধ্যেই একটা বন্ধত্বসুলভ সম্পর্ক তৈরি হয়। তারপর একদিন নাদিম শাহরিয়ার অপূর্ব একটা টিম করে কাজ করার কথা সবাইকে বললেন। সায়ও মিলল।
নাম দিলেন ‘এক্সো ম্যাক্স’। নাদিম বলেন, ‘আমরা এমন একটি দল বানাতে চেয়েছিলাম যেটি হবে বাংলাদেশের সেরা রোবটিকস টিম। আগে থেকেই অনেক রোবটিকস ফেস্টে অংশগ্রহণ করেছি এবং আমার একটি ভালো কমিউনিটি আছে। তারপর সবার বিষয়গুলো ভালোভাবে দেখেছি এবং বুঝেছি যে কে দলের জন্য সেরা হবে।
এরপর আমি, মাহদী ও নূরের সঙ্গে কথা বলি। তারা রোবটিকসে অনেকবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে এবং আমিও বেশ কয়েকবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। মাহদী প্রজেক্ট হার্ডওয়্যারে অনেক ভালো এবং নূর তার বয়সীদের মধ্যে সেরা প্রগ্রামার। পাশাপাশি ওয়েবসাইট, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও হার্ডওয়্যারের কাজ করে থাকে। এদিকে আমি ইউএভি প্রযুক্তিতে নিয়ে অনেক কাজ করছি।
কিছু সময় হার্ডওয়্যার বিভাগে এবং কখনো এমবেডেড বিভাগেও কাজ করেছি। কিছুদিন পর মো. ত্বসিন এলাহী আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। তারপর একদিন গ্রুপে কনরাডের বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় সিদ্ধান্ত নিই কনরাড চ্যালেঞ্জ যেহেতু সরাসরি নাসা আয়োজন করে, তাই সেখানে অংশগ্রহণ করব।’ 

টিম এক্সো ম্যাক্সের সদস্যরা হলেন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের মো. নুর আহমাদ, নাটোর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাহদী বিন ফেরদাউস, নওগাঁর নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নাদিম শাহরিয়ার অপূর্ব, চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. ত্বসিন এলাহী এবং নরসিংদীর লোরেটো কলেজের সানজিম হোসেন।

টিম এক্সো ম্যাক্স

স্কুল থেকে নাসায়

সময় তখন ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস। অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা খুঁজতে খুঁজতে চোখে পড়ে নাসা কনরাড চ্যালেঞ্জ। এক্সো ম্যাক্স দলের সদস্যদের গ্রুপে তা শেয়ার করা হয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, যা নাসার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় তারা সেখানে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ধরনের বিভাগ রয়েছে। সেসবের মধ্যে ‘এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ বিভাগে অংশগ্রহণ করার পরিকল্পনা করে টিম এক্সো ম্যাক্স। সবার সম্মিলিত আইডিয়া থেকে ‘স্মার্ট রোড সেফটি বিস্ট’ বা ‘এসআরএসবি’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেজিস্ট্রেশনের পরে তাদের প্রথম রাউন্ড ছিল ‘লিন ক্যানভাস’। এই রাউন্ডে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রডাক্টের বিবরণ দিতে হয়। লিন ক্যানভাস রাউন্ড সাবমিশনের পর প্রথম ধাপটি তাঁরা সফলভাবে পার করেন। পরের ধাপে তাঁদের  প্রডাক্ট  বানাতে যা যা প্রয়োজন তার সব কিছুই সাবমিট করতে হয়। তখন ছিল নভেম্বর মাস। মাহদী, নাদিম এবং ত্বসিনের সামনে এসএসসি পরীক্ষা। পড়াশোনার চাপ। তবু তাঁরা ডিসেম্বরে বিভিন্ন জেলা থেকে এক হওয়ার পরিকল্পনা করেন। এরপর রাজশাহী এসে প্রডাক্টের সব কাজ করে ফেলেন। একটি রিসার্চ পেপার ও ভিডিও তৈরি করে ফেলেন। তারপর সাবমিশনের পালা। ডেডলাইন ১২ জানুয়ারি থাকলেও এক দিন আগেই সাবমিশন সম্পন্ন করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে তাঁরা গ্লোবাল ফাইনালিস্ট হন।

এসআরএসবি

এক্সো ম্যাক্স স্মার্ট রোড সেফটি বিস্ট (এসআরএসবি) মূলত গাড়ির গিয়ার বা যন্ত্রাংশ। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ নকশার মাদারবোর্ড, ভাইব্রেটর, রিডার সেন্সর, টেকোমিটার, ক্যামেরা ও অ্যাকসিডেন্ট ডিটেক্টর। প্রতিটি কম্পোনেন্টের সঙ্গে যুক্ত ডিসপ্লে চালকের সামনে থাকবে। এতে থাকবে ভয়েস সেন্সর, যা প্রয়োজনে চালককে সতর্ক করবে। এই যন্ত্রাংশ ব্যবহারে গাড়িটি ড্রাইভার ছাড়া নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারবে। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে গাড়িটি মনিটর করা যাবে। চালক অসতর্ক হয়ে পড়লে তাঁর আচরণ বিশ্লেষণ করে ভুল ধরিয়ে দেবে এআই বট। সম্পূর্ণ এ গিয়ারটি পেতে খরচ করতে হবে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এটি ব্যবহার করে রোধ করা যাবে সড়ক দুর্ঘটনা।

সেরা পাঁচে

প্রতিবছর কনরাড ফাউন্ডেশন এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে থাকে। মূলত এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এবং শেষ হয় পরের বছরের এপ্রিলের শেষে। মূল আসরে যাওয়ার আগে তিনটি ধাপ পার করতে হয়। যেসব টিম এই তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে সক্ষম হয় তারা সরাসরি নাসা জনসন স্পেস সেন্টারে অংশগ্রহণ করে থাকে। যেখানে প্রতি বিভাগ থেকে পাঁচটি করে টিম বাছাই করা হয়। তাদের মধ্যে এক্সো ম্যাক্স টিমও তিন ধাপের বাছাইপর্ব উতরে নাসা জনসন স্পেস সেন্টারে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছে। সবশেষে চূড়ান্ত রাউন্ড যাকে ‘কনরাড ইনোভেশন সামিট’ বলা হয়, যা নাসার হাস্টন স্পেস সেন্টারে ২৩-২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিসা জটিলতায় টিমের সদস্য নাদিম ও নূর যেতে পারেননি। বাকি তিনজন সদস্যই চূড়ান্ত আসরে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই প্রতিযোগিতায় পেটে কনরাড  স্কলার দেওয়া হয়েছে শুধু একটি টিমকে। তবে অংশগ্রহণকারী বাকিদের জন্য ছিল স্কলারশিপের ব্যবস্থা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে নাদিম বলেন,  ‘ভবিষ্যতে একটি রোবটিকস কম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে রোবট নিয়ে নিত্যনতুন গবেষণার পাশাপাশি বাজারজাত করা হবে। এ ছাড়া গাড়ি উৎপাদনকারী কম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে চাই। আর এক্সো ম্যাক্সকে একটি বড় প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চাই।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments