Monday, August 8, 2022
spot_img
Homeকমিউনিটি সংবাদ USAগুয়ান্তানামো : ২০ বছরে 'মার্কিন অবিচারের প্রতীক'

গুয়ান্তানামো : ২০ বছরে ‘মার্কিন অবিচারের প্রতীক’

২০ বছর পর কেমন আছে গুয়ান্তানামো বে? মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ২০১৩ সালে যাকে এই জেলখানা বন্ধ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তাদের সাথে কথা বলে ডিডাব্লিউর এই প্রতিবেদন।

২০০২ সালে ২০ জন বন্দিকে যখন এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন দাবি করা হয়েছিল, ৯/১১-র ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, এটা তারই অংশ। ছবিতে দেখা গেছে, বন্দীদের উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাক পরানো হয়েছিল। তারা ছিল একটা খাঁচার ভিতর। বাইরে কাঁটাতারের বেড়া। তাদের চোখ ও কান ঢাকা। তাদের ঘিরে ছিল মার্কিন সেনা।

কেন বন্দিদের গুয়ান্তানামোতে আনা হয়েছিল?

প্রথমে এই বন্দিশালা ছিল লো-টেক, পরে এর নাম দেয়া হয় ক্যাম্প ডেল্টা এবং তা একটা হাই টেক সাইট হিসাবে গড়ে তোলা হয়। সেখানে বন্দিদের নিয়ে এসে জেরা করা, সামরিক বিচার করা হয়। আমেরিকার দাবি, এই বন্দিরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এর উদ্বোধন করেন। তখন থেকেই গুয়ান্তানামো নিয়ে প্রবল সমালোচনা চলছে। মানবাধিকার ভঙ্গের দীর্ঘ তালিকা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বুশ-চেনি প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এই মানুষদের দীর্ঘ জেরা (অত্যাচার) করার অধিকার তাদের আছে। কারণ, তারা ৯/১১-র ‘কুচক্রীদের’ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তাই আমেরিকার তটভূমির বাইরে একটি জায়গা খুঁজে নেয়া হলো, যেখানে মার্কিন আইন কাজ করবে না, জেনেভা কনভেনশনও নয়।

আজ গুয়ান্তানামো কিসের প্রতীক?

মার্কিন সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের(এসিএলইউ) ন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রজেক্টের ডিরেক্টর হিনা শামসি ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ‘গুয়ান্তানামো আজ মার্কিন অবিচার, অত্যাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিশ্বজোড়া প্রতীক।’

হিনা বলেছেন, ‘যদি সরকারের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ থাকে এবং যে প্রমাণ অত্যাচার করে পাওয়া নয়, তাহলে তারা বন্দিদের শাস্তি দিক। এমনকী যাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, তাদের সাজাও কার্যকর করা হোক। কিন্তু যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে তাদের মুক্তি দেয়া হোক।’

হিনার দাবি, ‘যাদের বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে, মার্কিন যুক্তারাষ্ট্র তাদের কাছে ক্ষমা চাক। এটা আমাদের সময়ের একটা ট্রাজেডি। এই মানুষগুলোর এতটা ক্ষতি করার পরেও আমেরিকা কখনো তাদের কাছে ক্ষমা চায়নি।’

তিনি বলেছেন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যেন এই বন্দিশালা শেষপর্যন্ত বন্ধ করেন। বাইডেনের কাছে সেই ক্ষমতা আছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই যে মানুষদের সেখানে বন্দি করে রাখা হয়েছে, অত্যাচার করা হয়েছে, দুই দশক ধরে বন্দি করে রাখা হয়েছে, তারা অন্তত ন্যায় বিচার পাক।

গুয়ান্তানামোর বন্দিদের কী হবে?

ক্লিফ স্লোয়ানকে ২০১৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গুয়ান্তানামো বে-র বন্দিশালা বন্ধ করে দেয়ার জন্য বিশেষ দূত হিসাবে নিয়োগ করেন।

তিনি ডিডাব্লিউকে জানিয়েছেন, ”বন্ধ করার কাজটা অনেকদূর এগিয়েছিল। কিন্তু তা শেষপর্যন্ত পুরো হয়নি।” তিনি বলেছেন, ‘নতুন বছরের প্রথম ছয় মাসে সব বন্দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। ২০ বছর হয়ে গেল। এটা লজ্জার ব্যাপার।’

বন্দিশালা বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে স্লোয়ান বলেন, ‘এই বন্দিশালা বন্ধ করার পথে প্রথম বাধা হলো রাজনৈতিক বিরোধ, যে বিরোধ যুক্তিহীন এবং তথ্যের উপর ভিত্তি করে হচ্ছে না। তাছাড়া কিছু আইনি বাধা আছে। কংগ্রেসে যে আইন পাস হয়েছিল তাকে খুব একটা দূরদর্শী বলা যায় না। কিন্তু এরপরও বলতে হয়, গুয়ান্তানামো বন্ধ করার ব্যাপারে না এগোনোর কোনো যুক্তি নেই।’

তিনি জানিয়েছেন, গুয়ান্তানামো বন্ধ করতে গেলে প্রচুর কাজ করতে হবে। ইউরোপের দেশগুলি সহ অনেকগুলি দেশ মনে করে, গুয়ান্তানামো বন্ধ হওয়া দরকার, তারা বন্দিদের পুনর্বাসন দিতেও রাজি। তাই এটা বন্ধ করা যেতেই পারে। আপনারা কখনো কখনো এটা শুনে থাকবেন, বন্দিদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। কিন্তু এই যুক্তি ঠিক নয়। তাদের জন্য আশ্রয়স্থল পাওয়া যেতে পারে।

সাবেক দূত এটা জানিয়ে দিয়েছেন যে, তৃতীয় কোনো দেশে তাদের পুনর্বাসন হতে পারে। তারা সেখানে বন্দি থাকবে না। মুক্ত অবস্থায় থাকবে।

প্রশ্ন করা হয়েছিল, এই বন্দিদের কি ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত? শামসি বলেছেন, ‘সরকারের অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত।’ কিন্তু স্লোয়ান বলেছেন, ‘আমেরিকা আগে গুয়ান্তানামোয় নৈতিক ও আইনি প্রতারণা বন্ধ করুক।’

২০০২ থেকে ৭৭৯ জনকে গুয়ান্তানামোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন সেখানে ৩৯ জন আছেন। তার মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে কোনোরকম তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে পারেনি আমেরিকা।

সূত্র : ডয়চে ভেলে

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments