Sunday, June 23, 2024
spot_img
Homeবিচিত্র৯৮ বছর বয়সে যাচ্ছেন স্কুলে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উদাহরণ কেনিয়ার এই নারী

৯৮ বছর বয়সে যাচ্ছেন স্কুলে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উদাহরণ কেনিয়ার এই নারী

কথায় বলে, শেখার কোনও বয়স নেই! সে কথাই আরেকবার প্রমাণিত হল। যে বয়সে মানুষ নাতি-নাতনি কিংবা তাদের সন্তানদের স্কুলে পড়তে দেখেন, সেই বয়সে স্কুলে যেতে শুরু করলেন কেনিয়ার প্রিসিলা সিটিয়েনি। এই শুক্রবারই ৯৯ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু শিক্ষার প্রতি অগাধ আগ্রহ তাকে নিয়ে গেছে স্কুলে। এখন তিনি দেশটির প্রত্যন্ত এক গ্রামে পাথর দিয়ে তৈরি ক্লাসরুমে ছোট ছোট শিশুদের সঙ্গে ক্লাস করেন। তার থেকে ৮ দশকেরও বেশি ছোট এই শিশুদের মতো করে স্কুল ড্রেসও পরেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে প্রিসিলা বলেন, এই বয়সে এসে স্কুলে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি তার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি উদাহরণ রেখে যেতে চান। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে একটি নতুন ক্যারিয়ারও বেছে নিচ্ছেন তিনি। পড়াশুনা করে তিনি চিকিৎসক হতে চান বলেও জানান।তার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন তার সন্তানেরা। ২০০৩ সাল থেকে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলো প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিতে শুরু করে। এরপরই দেশগুলোর বয়স্ক জনগোষ্ঠী, যারা অর্থের অভাবে পড়াশুনা করতে পারেননি তাদের অনেকেই স্কুলে ফিরতে শুরু করেন। এটি তাদের কাছে স্বপ্নের মতো।

এই বয়সে স্কুলে গিয়ে এর আগে অনেকেই গণমাধ্যমের আকর্ষনে পরিণত হয়েছেন। প্রিসিলাও তাদের একজন। এরইমধ্যে তিনি প্যারিস সফর করেছেন। তাকে নিয়ে সেখানে নির্মিত হয়েছে ‘গোগো’ নামের একটি চলচিত্রও। তার কালেনজিন ভাষায় গোগো শব্দের অর্থ হচ্ছে দাদীমা। নিউ ইয়র্কেও মুক্তি দেয়া হচ্ছে এই চলচিত্রটি। সেখানেও যোগ দিতে যাবেন প্রিসিলা। স্কুলে যোগ দিয়ে রীতিমতো সিনেমার তারকা বনে গেছেন তিনি। বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ছেন তিনি।

প্রিসিলা বলেন, তার নাতনির এক মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পরায় স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। স্কুলে তার যে বেতন দেয়া ছিল তা দিয়েই আবারও পড়াশুনা শুরু করেন প্রিসিলা। তিনি চান তার পরবর্তী প্রজন্ম লেখা পড়া ছেড়ে না দিক। নিজেকে স্কুলে ভর্তির মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহিত করছেন তিনি। প্রিসিলা জানান, পড়াশুনার পাশাপাশি স্কুলের অন্যান্য কার্যক্রমও পছন্দ করেন তিনি। শারীরিক শিক্ষার ক্লাসও করেন তিনি। তার ভাষায়, এটি আমাকে সুস্থ্য রাখছে। আমি লাফাতে পারি। যদিও আমার সহপাঠীদের মতো ভাল করে পারি না। কিন্তু আমি অন্তত আমার শরীর নড়াতে পাড়ছি। এটাই আমার আনন্দ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments