সুরক্ষা অ্যাপে ধীরগতি : বিদেশগামীদের টিকা প্রয়োগ শুরু

অবশেষে বিকল্প পথে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চালু করায় বিদেশগামী কর্মীদের টিকার নিবন্ধনে ভোগান্তি কমেছে। এছাড়া জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসগুলোর কম্পিউটার অপারেটররা শত শত ফরম বাসায় নিয়ে রাত জেগে নিবন্ধন ফি’র টাকা বিকাশে জমা দেয়ায় বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধনের সংখ্যা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশগামী কর্মীদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবাসী কর্মীদের করোনা টিকা দেয়ার নির্দেশ দেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার বিদেশগামী কর্মীর টিকার নিবন্ধন সর্ম্পন্ন হয়েছে। আরো ১৫ হাজার বিদেশগামী কর্মীর টিকা নিবন্ধনের কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিএমইটির নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার থেকে বিএমইটির সার্ভার জটিলতার দরুণ এবং বিকাশ ও রকেটে টাকা ঢুকাতে না পারায় বিদেশগামী কর্মীরা টিকার নিবন্ধন কাজ সম্পন্ন করতে গত পাঁচ দিন চরম হয়রানির শিকার হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় অবশেষে গত দু’দিন যাবত পূর্বের নিয়মের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে নিবন্ধনের ফি’র ২০০ টাকা জমা নেয়া শুরু করে। এতে বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধন কার্যক্রমে ভোগান্তি লাঘব হয়।

ঢাকা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি প্রশিক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিদেশগামী কর্মীদের টিকা নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ মঙ্গলবার এসব কর্মচারীদের লকডাউনে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রণোদনা ও ভাতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ঢাকা জেলা কর্মসংস্থান অফিসের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস রুপা মঙ্গলবার কর্মচারী ও ৬ জন কম্পিউটার অপারেটরের উদ্দেশ্যে এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টিকাদান কর্মসূচির অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। নিবন্ধনের জন্য তারা সুরক্ষা অ্যাপ ও ওয়েবসাইট তৈরি করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধনের পর তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা অ্যাপে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্ত গতকাল সকাল থেকে বিএমইটিতে নিবন্ধনকৃত বিদেশগামী কর্মীদের অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা চেষ্টা করেও সুরক্ষা অ্যাপে ঢুকতে পারেনি। ফলে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে না পেরে বিদেশগামী হাজার হাজার কর্মী চরম ভোগান্তির কবলে পড়েন। একাধিক ভুক্তভোগী বিদেশগামী কর্মী এতথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, সউদী আরব ও কুয়েতগামীদের ফাইজারের টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে বিদেশগামীদের টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। গতকাল বুধবার ঢাকার সাতটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে বিদেশগামীদের টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে সউদী প্রবাসী মো. সাইফুলকে প্রথম টিকা দেয়া হয়। টিকা নেয়ার পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় সাইফুল বলেন, মঙ্গলবার রাতে মোবাইলে এসএমএস পেয়েছি। ফরিদপুর থেকে টিকা নিতে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, টিকা না নিয়ে সউদী গেলে সাতদিন হোটেল কোয়ারেন্টিনে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হতো। সে এ মাসেই সউদী চলে যাবে। বিএসএমএমইউ’র ডেপুটি ডিরেক্টর ড. খোরশেদ আলম জানান, এ কেন্দ্রে প্রতিদিন তিনশর মতো সউদী ও কুয়েতগামীকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। সম্ভব হলে আরও বেশি পরিমাণে বিদেশগামীদের টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকার সাতটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১ হাজার ৪০০ জন বিদেশগামীকে টিকা দেয়া হবে। পরবর্তীতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বিদেশগামী কর্মীদের করোনা টিকা দেয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ। এসময়ে উপস্থিত অন্যান্য প্রবাসীরা টিকা না পেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে বিক্ষুব্ধ এসব প্রবাসী শ্রমিকদের শান্ত করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ফাইজার টিকা প্রয়োগ শুরুর দিনে এই দৃশ্য দেখা যায়। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রবাসী মন্ত্রীর কমিটমেন্ট অনুযায়ী আপনাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সচিব বলেন, ‘আমরা বিদেশগামীদের সঙ্গে আছি। এই মন্ত্রণালয় আপনাদের জন্য কাজ করছে। এ সময় প্রবাসীরা হট্টগোল শুরু করলে সচিব সবাইকে থামার অনুরোধ জানান। এই কর্মসূচির আওতায় শুধুমাত্র কুয়েত ও সউদী প্রবাসী কর্মীদের করোনা টিকা দেয়ার কথা থাকলেও উপস্থিত হয়েছিলেন ইতালিসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা। উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, অধর্য্য হলে কোনো সমাধান আসবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সাতটা হাসপাতালে টিকা দেয়ার কথা। ব্যবস্থাপনা করতে কিছুটা সময় দরকার।

তিনি বলেন, একটু ধৈর্য ধরেন। আজকালের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। যাদের ভিসার সময় শেষ, কিংবা মেয়াদ নেই সবাইকেই বিএমআইটিতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তাদের রেজিস্ট্রেশন করে দেয়া হবে মন্ত্রণালয় থেকে। গতকাল ঢাকার বাইরের জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসগুলোতেও সউদী-কুয়েতগামী কর্মীরা নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English