নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে হোয়াইট হাউজে ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সেখান থেকেই তিনি করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা নেবেন। সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউজে ফিরেই তিনি ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েছেন। এ সময় মুখ থেকে সরিফে ফেলেন মাস্ক। এর আগে তিনি টুইট করে সবাইকে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, আমি আসলেই অনেকটা সুস্থ বোধ করছি। কোভিড নিয়ে ভীত হবেন না। একে আপনার জীবনে প্রাধান্য বিস্তার করতে দেবেন না।

ট্রাম্পের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর, তারপর পরস্পর বিরোধী বক্তব্য, হাসপাতালে অবস্থানকালীন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত মোটর শোভাযাত্রা, আবার এত তাড়াতাড়ি হোয়াইট হাউজে ফিরে আসা- এসব ঘটনায় তার অসুস্থতার সিরিয়াসনেস নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউজে ফেরার আগে তিনি হাসপাতাল থেকেই মার্কিনিদের করোনা ভাইরাস নিয়ে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ২০ বছর আগের চেয়ে আমি এখন বেশি সুস্থ বোধ করছি। শিগগিরই নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরে যাবো। উল্লেখ্য, আগামী ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর এক মাসেরও কম সময় বাকি। এ সময়ে ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তার প্রচারণা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। তবে প্রচারণা চালিয়ে নিয়েছেন ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। সেই ধারায় যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় নেভি বিজনেস স্যুট, টাই এবং মাস্ক পরে ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার থেকে হেঁটে বেরিয়ে আসেন। এ সময় মিডিয়ার প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি কি সুপার স্প্রেডার, মিস্টার প্রেসিডেন্ট? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি ট্রাম্প।
এরপর সংক্ষিপ্ত সময়ে হেলিকপ্টারে আরোহণ করে তিনি পৌঁছেন হোয়াইট হাউজে। কিছুক্ষণ পরেই তাকে হোয়াইট হাউজের ট্রুম্যান ব্যালকনিতে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি মুখ থেকে ডান হাত দিয়ে সরিয়ে ফেলছিলেন মাস্ক। এরপরেই থাম-আপ দেন এবং সামরিক স্টাইলে স্যালুট জানান। কয়েক ঘন্টা পরে তিনি হোয়াইট হাউজে ফেরার প্রচারণা স্টাইলের একটি ক্লিপ টুইট করেন। মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেন। তাতে মার্কিনিদেরকে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একে (করোনা ভাইরাস) পরাজিত করতে হবে আপনাদের। আমাদের সবচেয়ে সেরা চিকিৎসা সরঞ্জাম আছে। সবচেয়ে সেরা ওষুধ আছে। এসবই সম্প্রতি ডেভেলপ করা হয়েছে। তিনি আরো যোগ করেন, আমরা আমাদের ফ্রন্টে ফিরে যাচ্ছি। আপনাদের নেতা হিসেবে আমাকে সেটা করতে হবে। আমি জানি, এক্ষেত্রে বিপদ হতে পারে। তা সত্ত্বেও আমাকে তা করতে হচ্ছে। আমি বেরিয়ে এসেছি এবং নেতৃত্ব দিচ্ছি। ট্রাম্প আরো বলেন, আমি এখন বেশ সুস্থ বোধ করছি। হতে পারে আমি মুক্তি পেয়েছি। তবে এ সম্পর্কে আমি জানি না। তিনি আরো প্রতিশ্রুতি দেন যে, সহসাই টিকা আসছে। উল্লেখ্য, ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বলেছে, আগামী বছরের মধ্যভাগের আগে ব্যাপকভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য কোন টিকা প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না।
ওদিকে নৌ কমোডর, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের চিকিৎসক সিন কোনলি সোমবার বিকেলেও বলেছেন, ট্রাম্প এখনও পুরোপুরি বিপদমুক্ত নন। তবে তার মেডিকেল টিম প্রেসিডেন্টের অবস্থা এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে তাকে হোয়াইট হাউজে ফেরার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে তাকে। তবে সর্বশেষ কবে পরীক্ষায় ট্রাম্পের করোনা নেগেটিভ এসেছিল সে সম্পর্কে কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান ডা. কোনলি। তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও স্টেরয়েড ডেক্সামেথাসন নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ভাইরাস বিরোধী ওষুধ রেমডিসিভিরের তিনটি ডোজ নিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার আগে তার আরো একটি ডোজ নেয়ার কথা। এ ছাড়া হোয়াইট হাউজে ফেরার পর পঞ্চম ডোজ নেবেন।
ডা. কোনলিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নির্বাচনী প্রচারণায় ফেরার মতো নিরাপদ কি মিস্টার ট্রাম্প? জবাবে তিনি বলেছেন, আমরা ব্যাপারটা দেখছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English