Tuesday, May 21, 2024
spot_img
Homeধর্মহারাম শরিফের সীমানায় নবীদের কবর

হারাম শরিফের সীমানায় নবীদের কবর

কাবা বা বাইতুল্লাহ সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অবস্থিত। কোরআনুল কারিমের ভাষ্যমতে, এটিই হচ্ছে সেই ঘর, যা মানবকুলের জন্য হিদায়াত ও বরকতের উৎস। এই ঘরের সন্নিকটে নবীদের কবর নিয়ে মুসলিমসমাজে নানা মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। আজকের প্রবন্ধে আমি সেই বিষয়টি নিয়েই একটি পর্যালোচনা তুলে ধরার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও মুজতাহিদ আজরুকি আখবারে মক্কা গন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ১৩৩ পৃষ্ঠায়, ইবনে জারির তাবারি তাঁর তাফসিরের প্রথম খণ্ডের ১৯৯ পৃষ্ঠায় এবং ইবন আবি হাতিম তাঁর তাফসিরের প্রথম খণ্ডের ৩১৮ পৃষ্ঠায় মক্কার ফজিলতসংক্রান্ত আলোচনায় হাদিস নিয়ে এসেছেন। যেখানে আতা ইবনে সায়িব থেকে মুহাম্মাদ ইবনে সাবিত সূত্রে মহানবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আগের (নবীরা যখন নিজ নিজ সম্প্রদায়কে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেন আর তারা সে দাওয়াতে সাড়া না দিয়ে বিরুদ্ধাচরণ করার ফলে তৎকালীন রীতি অনুযায়ী) কোনো উম্মত ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যেত, তখন সেই সব সম্প্রদায়ের নবী ও তাদের অনুসারীরা মক্কায় চলে আসতেন। আর সেখান থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মহান রবের উপাসনায় মগ্ন থাকতেন। সেই সুবাদে এই মক্কায় নুহ (আ.), হুদ (আ.), সালিহ (আ.), শুয়াইব (আ.) ইন্তেকাল করেছেন। অতঃপর জমজম কূপ ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী জায়গায় তাদের কবরস্থ করা হয়েছে। (আখবারে মক্কা, হাদিস : ৭৫)

ইমাক ফাকেহি ফাজায়েলে মক্কা গ্রন্থের ৩৫০ পৃষ্ঠায় ও ইমাম কুরতুবি তার তাফসির গ্রন্থে সুরা বাকারার ১২৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তাবেঈন আব্দুল্লাহ ইবনে জমারাহ আস-সালুলি সূত্রে হাদিস উল্লেখ করেছেন যে কাবার রুকন, জমজম এবং মাকামে ইবরাহিম এই ত্রি-সার্কেলের মধ্যে ৯৯ জন নবীর কবর আছে। যাঁরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের প্রতিরোধের মুখে মক্কায় চলে এসেছেন। এখানেই ইন্তেকাল করেছেন আর এখানেই কবরস্থ হয়েছেন। ঠিক তেমনি ইমাম বাইহাকি শুআবুল ঈমান অধ্যায়ে হাদিস : ৪০০৪-এ অনুরূপ বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। তবে সেখানে তিনি ৯৯-এর পরিবর্তে ৭৭ জন নবীর কবরের কথা বলেছেন।

তবে ইমাম কুরতুবি (রহ.) সুরা বাকারার ১২৮ আয়াতের তাফসিরে ইবন আব্বাস (রা.) সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে মসজিদে হারামে শুআইব ও হুদ (আ.) ছাড়া আর কোনো নবীর কবর নেই। (আখবারে মক্কা, হাদিস : ১২৭৫)

ইবন সাদ (রহ.) তাঁর তাবকাতে আর ইবনুল জাওজি তাঁর আল-মুনতাজিমে তথ্য উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম (আ.)-কে কাবাঘর বানাতে ওহি পাঠিয়েছেন। তখন তাঁর বয়স ছিল এক শ বছর আর তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ.)-এর বয়স ছিল ৩০ বছর। তখন তারা দুজনে কাবাঘর বানালেন অতঃপর পিতার পর পুত্র ইসমাঈল (আ.) ইন্তেকাল করলেন। তখন তাঁকে তাঁর মায়ের পাশে হাজরে আসওয়াদের ভেতরের দিকে কাবার পাশে দাফন করা হলো।

এ ধরনের আরো অসংখ্য বর্ণনা বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে আছে, যার বিশদ বিবরণ সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে উল্লেখকরণ সম্ভব নয়। এসব বিবরণে কাবা আঙিনায় বা হারাম শরিফের সীমানায় নবীদের কবরের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা দেখা গেলেও সর্ব বিবরণে এ কথা দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে কাবা চত্বরে অনেক নবীর কবর আছে।

উল্লেখ্য, ইসলামী আইনজ্ঞরা বলেন, কোনো কবরের চিহ্ন মিটে গেলে সেখানে মসজিদ নির্মাণে কোনো সমস্যা নেই। এমনকি মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য প্রাচীন কবর নিশ্চিহ্ন করারও অনুমতি আছে। তবে কোনো কবরের চিহ্ন অবশিষ্ট রেখে মসজিদ নির্মাণের ব্যাপারে তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। কেননা তা মানুষকে শিরক ও বিদআতের দিকে ঠেলে দেয়। মহান আল্লাহ সবাইকে শিরক ও বিদআত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।  

লেখক :  প্রাবন্ধিক

অনুবাদক ও মুহাদ্দিস

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments