Sunday, June 16, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিহারমোনিওএস কি পারবে অ্যানড্রয়েড ও আইওএসের বিকল্প হতে?

হারমোনিওএস কি পারবে অ্যানড্রয়েড ও আইওএসের বিকল্প হতে?

হারমোনিওএস শুরুতে অ্যানড্রয়েডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হলেও ধীরে ধীরে হুয়াওয়ের নিজস্ব কার্নেল ও সার্ভিস ব্যবহার করে সেটির স্বকীয়তা তৈরি করা হচ্ছে। হুয়াওয়ের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘হারমোনিওএস’ একদিন আইওএস ও অ্যানড্রয়েডের ডুয়োপলি ভেঙে দেবে—এমনটাই কম্পানিটির আশা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

কিছুদিন আগে ‘মেট ৬০ প্রো’ মডেলের ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি বাজারে এনেছে হুয়াওয়ে, এর মধ্যেই সেটি চীনে বিক্রিতে আইফোনকে ছাড়িয়ে গেছে। চীনের মতো বড় স্মার্টফোন বাজারে প্রথম স্থান হারিয়ে এর মধ্যেই অ্যাপল বেশ চিন্তিত।

কিছুদিনের মধ্যেই আসতে যাচ্ছে ‘পিউরা ৭০’ সিরিজের আরো একটি হুয়াওয়ে ফ্ল্যাগশিপ, তারও কেন্দ্রে আছে হারমোনিওএস, অ্যানড্রয়েড নয়। নতুন ফোনটির মাধ্যমে বাজারে নিজের অবস্থান আরো জোরালো করবে নতুন এই অপারেটিং সিস্টেম।ধীরে ধীরে চীনা পণ্য ও সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ফলে চীনারাও চেষ্টা করছে পশ্চিমা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে। হারমোনিওএসের মাধ্যমে চীনা স্মার্টফোন বাজারের অ্যাপল ও গুগল নির্ভরতা কমানো হবে বলে জানিয়েছে হুয়াওয়ে।

বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য, চীনের মধ্যে ১ নম্বর অবস্থানে নিজেদের নিয়ে যাওয়া। এরপর অন্যান্য দেশের দিকে নজর দেবে হুয়াওয়ে।যেকোনো স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অ্যাপ তৈরিতে নির্মাতাদের উৎসাহিত করা। এখনকার হারমোনিওএস অ্যাপ ঘাটতি সামাল দিচ্ছে অ্যানড্রয়েড অ্যাপ চালানোর ব্যবস্থা রেখে।

গুগল প্লে স্টোর না থাকলেও ফোনগুলোতে এপিকে ফাইল ইনস্টল করে ব্যবহার করা যায়। তবে হুয়াওয়ে আশা করছে, তাদের গৃহীত বিভিন্ন নীতিমালার ফলে অ্যাপ নির্মাতারা দ্রুতই হারমোনিওএসের জন্যই অ্যাপ তৈরি শুরু করবেন। অ্যানড্রয়েড বা আইওএস অ্যাপ স্টোরে লাখের পর লাখ অ্যাপ থাকলেও মূলত পাঁচ হাজার অ্যাপই সবাই ব্যবহার করে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এই পাঁচ হাজার অ্যাপকে হারমোনিওএসে আনা গেলে তবেই অপারেটিং সিস্টেমটিকে অ্যানড্রয়েড বা আইওএসের প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যাবে।তবে হুয়াওয়ে বলেছে, আইওএসের জনপ্রিয়তার পেছনে অ্যাপলের নিজস্ব ইকোসিস্টেমেরও হাত আছে।

ম্যাক, আইফোন, এয়ারপডস, অ্যাপল ওয়াচ, অ্যাপল টিভি থেকে হোমপড ও অ্যাপল ভিশন—সব ডিভাইসের মধ্যেই একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার সিস্টেম রয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, হুয়াওয়ের হারমোনিওএসও একদিন এভাবে হুয়াওয়ের তৈরি সব ডিভাইসের সঙ্গে কাজ করে হুয়াওয়ে ইকোসিস্টেম তৈরি করবে। 

আপাতত চীনের বাইরে হারমোনিওএসের দেখা পাওয়া যাবে না। তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ১০ লাখেরও বেশি ফোনে চলবে হারমোনিওএস, আশা করছেন এটির নির্মাতারা। অ্যানড্রয়েড ও আইওএসের বিকল্প তৃতীয় অপারেটিং সিস্টেমের বাজার রয়েছে বলেই ধারণা করছেন তাঁরা। হারমোনিওএস অ্যানড্রয়েডের চেয়ে সাবলীলভাবে চলতে সক্ষম, আর হুয়াওয়ের তৈরি হার্ডওয়্যারের সঙ্গে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারে ফোনগুলোকে আরো দ্রুতগামী ও ব্যাটারিসাশ্রয়ী করা যাবে বলে জানিয়েছেন হুয়াওয়ের গবেষকরা। হয়তো একদিন তাদের কিরিন প্রসেসরভিত্তিক ল্যাপটপেও হারমোনিওএসের দেখা পাওয়া যাবে। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে আগামী দিনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক কেমন থাকে তার ওপর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments