Friday, April 19, 2024
spot_img
Homeজাতীয়হাইকোর্টে আপিল : প্রদীপ চান রায় বাতিল, লিয়াকত চাইছেন খালাস

হাইকোর্টে আপিল : প্রদীপ চান রায় বাতিল, লিয়াকত চাইছেন খালাস

দেড় বছর আগে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যা মামলার বিচারিক আদালতের রায় বাতিল এবং রদ চেয় হাইকোর্টে আপিল করেছেন মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।  

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আরেক আসামি বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকতও খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

রবি ও সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল দায়ের করা হয়েছে বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত।

বরাখাস্তকৃত ওসি প্রদীপের আপিলে কী চাওয়া হয়েছে জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা বলেছি যে রায় এবং আদেশটি দেওয়া হয়েছে, সেটি প্রসিকিউশন এবং আসামিপক্ষের দাখিল করা নথিপত্র, যুক্তি, জবানবন্দির সুষ্ঠু বিচার-বিশ্লেষণ করে দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপনরায়ে যে দণ্ড এবং সাজা দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত তাড়াহুড়া করে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে বিচারিক আদালতের রায় এবং আদেশ শুনানিক্রমে বাতিল ও রদ করা হোক। ‘

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘গত রবিবার বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকতের পক্ষেও হাইকোর্টে আপিল ফাইল হয়েছে। তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। ‘

পরে লিয়াকতের আপিলের বিষয়ে বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান। কী যুক্তিতে আপিল দায়ের হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এখন বলা যাবে না। তবে এটুকু বলতে পারি, খালাস চেয়ে আপিলটি দায়ের করা হয়েছে। ‘

গত ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল সিনহা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকতকে ফাঁসির রায় দেন আদালত। আর সিনহাকে হত্যায় সহযোগিতা এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের তিন সোর্সকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

মামলার ১৫ আসামির মধ্যে বাকি চার পুলিশ সদস্য এবং তিন এপিবিএন সদস্যকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। সেদিন  জনাকীর্ণ আদালতে রায়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছিলেন বিচারক।

পরে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদনসহ রায় ও মামলার নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। হাইকোর্টের অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ‘ডেথ রেফারেন্স’ আকারে হাইকোর্টে পাঠাতে হয়। ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে ৩০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টিও পাঠানো হয়।  

এখন রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামিদের আপিল বা জেল আপিল হয়ে গেলে ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার সমস্ত নথি যাচাই-বাছাই করে পেপারবুক তৈরি জন্য পাঠানো হবে বিজি প্রেসে। ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ শেষ হলে তা আবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে। আবার যাচাই-বাছাই করে তা ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত রাখা হবে। পরে প্রধান বিচারপতি এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চে পাঠাবেন বা বেঞ্চ গঠন করে দেবেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments