Monday, May 27, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিহঠাৎ করেই আইপ্যাড ইভেন্ট

হঠাৎ করেই আইপ্যাড ইভেন্ট

নতুন আইপ্যাডের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। আগামী মাসে ডাব্লিউডাব্লিউডিসি ইভেন্ট থাকলেও বিশেষ আইপ্যাড ইভেন্টের মাধ্যমে নতুন চারটি মডেল উন্মোচন করেছে তারা। সাধারণত অ্যাপল তাদের নতুন প্রসেসর উন্মোচন করে ম্যাক ল্যাপটপের মাধ্যমে। এবার আইপ্যাড প্রোর নতুন মডেলে দেখা মিলেছে সর্বশেষ এম৪ প্রসেসরেরও।

বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ 

 

অনেকেই ধারণা করছে, আইপ্যাডের বিক্রি ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় অ্যাপল তাদের উদ্বোধনীর সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে। হয়তো এম৪ আইপ্যাড প্রো মডেলগুলো পরেই উন্মোচন করার কথা ছিল, সেটা এগিয়ে আনা হয়েছে।

বাজেট আইপ্যাডে সামান্য রদবদল

সবচেয়ে কম দামি আইপ্যাড এত দিন ছিল নবম প্রজন্মের বেইস মডেল আইপ্যাড, সেটি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে অ্যাপল। তার বদলে এখন থেকে দশম প্রজন্মের আইপ্যাডই ৩৪৯ ডলার মূল্যে পাওয়া যাবে।

এর মাধ্যমে অবশেষে আইপ্যাড থেকেও লাইটেনিং পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক বাদ পড়ল। 

 

আইপ্যাড এয়ারে বড় পরিবর্তন

ট্যাবলেট ব্যবহারকারীরা সব সময়ই চায় বড়সড় ডিসপ্লে, যদিও সবাই ভারী কাজ করে না। সেটা মাথায় রেখেই প্রথমবারের মতো মাঝারি দামের আইপ্যাড এয়ার মডেলে ১৩ ইঞ্চি ডিসপ্লে সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে ১১ ও ১৩ ইঞ্চি, দুটি সাইজে পাওয়া যাবে আইপ্যাড এয়ার।

তবে ডিসপ্লে প্রযুক্তি থাকছে আগের মতোই লিকুইড রেটিনা এলসিডি। দুটি মডেলেই থাকছে এম২ প্রসেসর, অ্যাপল পেনসিল সমর্থন, ৮ গিগাবাইট র‌্যাম, ১২৮ থেকে ১০২৪ গিগাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ। ইউএসবি সি চার্জিং এবং টাচ আইডিও থাকছে অপরিবর্তিত। মূলত যারা মাঝারি দামের মধ্যে হালকা কাজ করার জন্য বড় ডিসপ্লে খুঁজছিল বা যারা বড় ক্যানভাসে ডিজিটাল আর্ট করার জন্য ট্যাবলেট কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্যই তৈরি নতুন আইপ্যাড এয়ার। তবে রিফ্রেশ রেট এখনো ৬০ হার্জে রাখায় এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসন্তোষ দেখা গেছে।
আইপ্যাড এয়ার ১১ ও ১৩ ইঞ্চি দুটি মডেলই পাওয়া যাবে চারটি রঙে—ব্লু, পার্পল, স্টারলাইট ও স্পেস গ্রে। মূল্য শুরু ১১ ইঞ্চি মডেলের জন্য ৫৯৯ ডলার এবং ১৩ ইঞ্চি মডেলের জন্য ৭৯৯ ডলার থেকে। 

 

সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ডিসপ্লে

একটি নয়, দুই পরতের অর্গানিক এলইডি বা ওলেড মেট্রিক্স একত্র করে তৈরি করা হয়েছে ট্যানডেম ওলেড প্রযুক্তি। আর বিশ্বের প্রথম ট্যানডেম ওলেড প্রযুক্তির ডিসপ্লেসমৃদ্ধ ডিভাইস নতুন আইপ্যাড প্রো। বাজারের বাকি সব ওলেড ডিসপ্লেতে এক পরতের ওলেড মেট্রিক্স দেওয়া হয়। ট্যানডেম ওলেড ডিসপ্লেতে দুই পরত ওলেড থাকায় যেমন রঙের গভীরতা বাড়ে, তেমনই একই পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে প্রায় দ্বিগুণ ঔজ্জ্বল্য পাওয়া যায়। ফলে দিনের আলোয় যেমন ১০০০ থেকে ১৬০০ নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতা পাওয়া যাবে, তেমনই রাতে ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখলে সাধারণ ওলেডের চেয়ে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাটারি সাশ্রয় হবে। প্রযুক্তিটি কয়েক বছর আগে আবিষ্কার করা হলেও অন্য কোনো নির্মাতা এটির সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেনি, অ্যাপলই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে। তবে আগামী দিনে অন্যান্য কম্পানির ডিভাইসেও ট্যানডেম ওলেডের দেখা পাওয়া যাবে।

 

অ্যাপল এম৪ প্রসেসর

শুরুতেই বলে নেওয়া ভালো, এম৪ সরাসরি এম৩-এর বড় আপগ্রেড নয়। প্রসেসর নির্মাতা টিএসএমসির কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকায় এম৩-এর সরবরাহ কম থাকবে, শুরুতেই জানা গিয়েছিল। তাই অ্যাপল এম৩-এর পাশাপাশি সেটার অল্পবিস্তর আপগ্রেড ডিজাইন এম৪ও একই সঙ্গে তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। সম্ভাবনা আছে, এম৩চালিত ডিভাইসগুলো এম৪ চিপ পাবে না, বরং সমসাময়িকভাবে বিক্রি হবে।

এম৪ প্রসেসরটিতে থাকছে ১০ কোর সিপিইউ ও ১০ কোর জিপিইউ। এর পাশাপাশি থাকছে ১৬ কোরের নিউরাল ইঞ্জিন। অ্যাপলের দাবি ইন্টেল বা এএমডির ল্যাপটপ প্রসেসরের চেয়ে এম৪ এআই পারফরম্যান্সে এগিয়ে আছে। তবে এম৪-এর ৩৮ ট্রিলিয়ন অপারেশনস পার সেকেন্ড নিউরাল পারফরম্যান্স স্ন্যাপড্রাগন এক্স এলিটের ৪৫ টিওপস-এর চেয়ে বেশ পিছিয়েই আছে। সিপিইউয়ের ১০টি কোরের মধ্যে চারটি পারফরম্যান্স কোর আর ছয়টি এফিশিয়েন্সি কোর। এম৪-এর জিপিইউ ডাইনামিক ক্যাশিং এবং হার্ডওয়্যার রে-ট্রেসিং সমর্থন করে। এ ছাড়া ইউনিফায়েড র‌্যামের ব্যান্ডউইডথ করা হয়েছে ১২০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড এবং ডিসপ্লে রেন্ডারিংয়ের ব্যান্ডউইডথ এম২-এর দ্বিগুণ করা হয়েছে।

ফলাফল, অ্যাপল আইপ্যাড প্রো হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গেমিং ট্যাবলেট। তবে বারংবার এম৩ নয়, এম২-এর সঙ্গে তুলনা দেওয়ায় একটি জিনিস পরিষ্কার, এম৪ হতে পারে এম২-এর চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী প্রসেসর বা গ্রাফিকসে চার গুণ এগিয়ে, কিন্তু এম৩-এর চেয়ে পারফরম্যান্সে এগিয়ে ১০ শতাংশের বেশি নয়।

 

আইপ্যাড প্রো

এবারও দুটি সাইজেই বাজারে আসছে আইপ্যাড প্রো, ১১ ও ১৩ ইঞ্চি। তবে দুটি ডিভাইসই এবার আগের চেয়ে অনেক হালকাপাতলা। মাত্র ৫.১ মিলিমিটার পুরুত্বের আইপ্যাড প্রো ১১ ইঞ্চি অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে পাতলা ডিভাইস। ডিসপ্লের চারপাশের বেজেলও কমানো হয়েছে অনেকটা, আর ওজন নামানো হয়েছে ৪৪৪ গ্রামে। দুটি মডেলই পাচ্ছে ট্যানডেম ওলেড প্রযুক্তির ‘আলট্রা রেটিনা এক্সিআর’ ডিসপ্লে, যার রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্জ। ন্যানো টেক্সচার গ্লাসও থাকছে অপশন হিসেবে, যাতে লেখা বা আঁকার সময় ভালো নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়। বাদ পড়েছে পেছনের ডুয়াল ক্যামেরা, এবারের মডেলে শুধু মূল ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আর লাইডার সেন্সর থাকছে। ব্যাটারির সাইজও কমানো হয়েছে, তবে নতুন ডিসপ্লে আর প্রসেসরের ব্যাটারি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ফলে ব্যাটারি লাইফ থাকছে আগের মডেলের মতোই। ট্যাবলেটগুলো ঠাণ্ডা রাখার জন্য গ্রাফাইট শিট ব্যবহার করা হয়েছে এর ভেতর। বাকি সব হার্ডওয়্যার আগের মডেলের মতোই, থান্ডারবোল্ট ৪ সমর্থিত ইউএসবি সি পোর্ট, ফেস আইডি, ম্যাজিক কি-বোর্ড ব্যবহারের জন্য স্মার্ট কানেক্ট পোর্ট, অ্যাপল পেনসিল ডকিং করার জন্য ম্যাগনেট।

তবে এবারের মডেলগুলোতে কিছু লুকানো ঘাপলা আছে। যারা ২৫৬ গিগাবাইট বা ৫১২ গিগাবাইট সংস্করণ কিনবে, তারা ৮ গিগাবাইটের ওপর র‌্যাম পাবে না। উপরন্তু র‌্যামের গতিও থাকবে কিছুটা কম। স্টোরেজের গতিও এ দুটি সংস্করণে কম পাওয়া যাবে। এ ছাড়া এ দুটি সংস্করণে থাকবে ৯ কোরের সিপিইউ। আবার ন্যানোগ্লাস কোটিংও এই দুটি সংস্করণে পাওয়া যাবে না। যারা আইপ্যাড প্রোর পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স পেতে চাইছে তাদের অবশ্যই ১ বা ২ টেরাবাইট সংস্করণ কিনতে হবে। সিলভার আর স্পেস ব্ল্যাক—দুটি রঙে পাওয়া যাবে আইপ্যাড প্রো। মূল্য শুরু ১১ ইঞ্চির জন্য ৯৯৯ ডলার আর ১৩ ইঞ্চির জন্য এক হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।

 

অ্যাপল পেনসিল প্রো

অবশেষে অ্যাপল পেনসিলের প্রো সংস্করণ তৈরি করেছে অ্যাপল। দেখতে অনেকটা বর্তমান ‘পেনসিল ২’-এর মতো হলেও এতে যোগ করা হয়েছে কয়েকটি নতুন ফিচার। প্রথমবারের মতো অ্যাপল পেনসিলে থাকছে স্কুইজ জেসচার, যাতে পেনসিল ব্যবহার করার সময় রাইট ক্লিকের মত মেন্যু ব্রাউজ করা যায়। এর সঙ্গে থাকছে রোটেশনাল সেন্সর, পেনসিলটি ঘোরালে আর্ট প্রগ্রামে ভার্চুয়াল ব্রাশও ঘুরে যাবে, ফলে যারা আঁকাআঁকি করে তারা আরো সাবলীলভাবে কাজ করতে পারবে। আর নানা জেসচার ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা জানানোর জন্য এতে দেওয়া হয়েছে হ্যাপটিক ফিডব্যাক মোটর। নতুন পেনসিলটি পুরনো আইপ্যাডে কাজ করবে না। মূল্য ১২৯ ডলার।

 

ম্যাজিক কি-বোর্ড পুরোই ম্যাকের মতো

ম্যাকের মতো ট্যাপটিক ইঞ্জিনসমৃদ্ধ প্রশস্ত টাচপ্যাড পাচ্ছে আইপ্যাড প্রোর ম্যাগনেটিক কি-বোর্ড। বহুদিন ধরেই ব্যবহারকারীরা এটি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল। কি-বোর্ডের ডিজাইনও ম্যাকবুক এয়ারের মতো করা হয়েছে, আর বডিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম। তবে ফাস্ট চার্জিং এখনো ম্যাজিক কি-বোর্ডের মাধ্যমে করা যাবে না। নতুন কি-বোর্ডটি ব্যবহার করলে আইপ্যাড দেখতেও ম্যাকবুক এয়ারের মতোই লাগছে, বলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। মূল্য শুরু ৩৪৯ ডলার থেকে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments