বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করা একটি বড় অংশেরই মূল লক্ষ্য থাকে বিসিএস। কিন্তু করোনার কারণে আটকে আছে বিসিএস পরীক্ষা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে গত ৩১শে মার্চ পিএসসির অধীন সব পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ২৩শে মে থেকে ৪২তম (বিশেষ) বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কিন্তু লকডাউনের কারণে তাও স্থগিত করা হয়। ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার ফলাফলও আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। আটকে আছে সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নিয়োগ পরীক্ষাগুলোও থেমে আছে দীর্ঘদিন ধরে।ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় নিয়োগ বন্ধ রেখেছে বেশির ভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় স্নাতক ডিগ্রিধারী লাখ লাখ শিক্ষিত যুবারা তাদের মূল লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়ছেন। চাকরির বাজার স্থবির থাকায় বেকার হয়ে বসে আছেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে পিএসসিসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো বলে আসছে- পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষা ও নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কবেই বা নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ চাকরি প্রার্থী।
করোনার কারণে গত ৩১শে মার্চ পিএসসির অধীন সকল পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে উদ্যোগ নেয়া সাড়ে ৪ হাজার চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়াও থেমে আছে। স্থগিত আছে ৪২তম বিসিএসের ভাইভা পরীক্ষা। স্থগিত রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের লিখিত পরীক্ষা। আটকে আছে দশম গ্রেডের এ পদের লিখিত পরীক্ষাও। সম্প্রতি ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলেও করোনার কারণে স্থগিত করা হয় মৌখিক পরীক্ষা। ওদিকে ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার ফলাফলও আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। চাকরি প্রার্থীরা বলছেন, পরীক্ষা আটকে থাকলেও চাকরির বয়স ঠিকই তাদের কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। যদিও শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে বয়সে ছাড় দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
ওদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নিয়োগের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি) সূত্রে জানা যায়, করোনা শুরুর পর থেকে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল। সংকট কাটাতে মাঝে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়। দুই একটি পরীক্ষা হলেও এখনো বেশিরভাগ পরীক্ষা স্থগিত আছে। জানা যায়, গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালকের ১৮৮টি, রাষ্ট্রায়ত্ত ৭ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের ৭৭১টি, ৯ ব্যাংকের অফিসার জেনারেলের পদের দুই হাজার ৪৬টি এবং অফিসার ক্যাশের এক হাজার ৫১১টি পদে বিজ্ঞাপন দেয়া হলেও এখনো পরীক্ষার তারিখ দেয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর দেশের সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। করোনার কারণে গত বছর এ সংখ্যা কিছুটা কমলেও তা লাখের ওপরে ছিল। এ ছাড়া করোনাকালে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। ফলে বেকারত্বের সংখ্যাও উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশে ২০১৫ সালে স্নাতক বেকারের হার ছিল ৩২ শতাংশ। ২০১৬ সালে এ হার বেড়ে ৩৯ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৪১ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৪৩ শতাংশে পৌঁছে। ২০১৯ সালে এ হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ শতাংশে।
ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যসচিব আরিফ হোসাইন খান বলেন, ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ডিপেন্ড করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। কারণ একবার সংক্রমণ বাড়ছে আবার কমছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা কবে হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। সরকার থেকে যখন আমরা সবুজ সংকেত পাবো তখনই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে কিছুটা আশার কথা শোনালেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন। তিনি বলেন, যেহেতু করোনা পরিস্থতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তাই সহসাই আমরা স্থগিত পরীক্ষাগুলো শুরু করবো। এরমধ্যেও যেগুলো সম্ভব সেগুলোর কাজ করেছি। যেহেতু সংক্রমণ অনেকটা কমেছে। আমরা আশা করছি আরো কমবে। এরমধ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে পর্যায়ক্রমে সব স্থগিত পরীক্ষার তারিখ সহসাই জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এই পরিস্থতিতে চাকরি প্রার্থীরা যেমনটা উদ্বিগ্ন, তেমনি আমাদের ওপরও চাপ আছে। বরং এই চাপটা আমরা তীব্রভাবে অনুভব করছি। সুতরাং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা সব পরীক্ষা শুরু করার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English