Friday, April 12, 2024
spot_img
Homeধর্মসৃষ্টিকর্তার সন্ধানে ইবরাহিম (আ.)-এর জিজ্ঞাসা

সৃষ্টিকর্তার সন্ধানে ইবরাহিম (আ.)-এর জিজ্ঞাসা

আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো এর আগে ইবরাহিম (আ.)-কে সৎপথের জ্ঞান দিয়েছিলাম এবং আমি তাঁর সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলাম। সে তাঁর পিতা ও তাঁর সমপ্রদায়কে বলল, এই মূর্তিগুলো কী, যাদের তোমরা পূজা করছ? তারা বলল, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এর পূজা করতে দেখেছি। তিনি বললেন, তোমরা নিজেরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরাও স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে। ’ (সুরা আম্বিয়া, ৫১-৫২)

তাফসির : নবী-রাসুলদের ধারাবাহিক ঘটনা বর্ণনার দ্বিতীয় ধাপে আলোচ্য আয়াতে ইবরাহিম (আ.)-এর কথোপকথন তুলে ধরা হয়।

মূলত মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-এর আগে ইবরাহিম (আ.)-কে নবুয়ত দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁর বংশধরের মধ্যেই নবী ও রাসুলদের পাঠানো হয়। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে আরবজাতির আদিপুরুষ ইসমাইল (আ.) ছিলেন, যার বংশধরের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শেষনবী মুহাম্মাদ রাসুল (সা.)। অন্য সন্তান ছিলেন ইসহাক (আ.) যার বংশধরের মধ্যে অসংখ্য নবী-রাসুল জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তা আমার প্রমাণ, যা আমি ইবরাহিম (আ.)-কে সমপ্রদায়ের মোকাবেলায় দিয়েছিলাম, যাকে ইচ্ছা আমি উঁচু মর্যাদা দিই, নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ। আমি তাঁকে ইসহাক (আ.) ও ইয়াকুব (আ.)-কে দিয়েছিলাম, তাদের সবাইকে সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম…। ’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৮৩-৮৪)

মোটকথা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ ও যুক্তি-তর্কের মানসিক শক্তি ইবরাহিম (আ.) শৈশবেই লাভ করেছেন। উত্তম চরিত্র ও উন্নত আচার-ব্যবহারের অধিকারী আল্লাহভীরু ছিলেন তিনি। ইরশাদ হয়েছে, ‘ইবরাহিম (আ.) ছিলেন উম্মাহর সমতূল্য, আল্লাহর অনুগত, একনিষ্ঠ, তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাঁকে সরল পথে পরিচালিত করেছেন। আমি তাঁকে দুনিয়ায় কল্যাণ দিয়েছি এবং আখিরাতে তিনি সৎকর্মশীলদের অন্তভুক্ত থাকবেন। ’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১২০)

আল্লাহপ্রদত্ত মেধা ও বুদ্ধিমত্তায় ইবরাহিম (আ.) ছোটবেলা থেকেই মহাশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার সন্ধানে ছিলেন। তাই নিজ গোষ্ঠীর মূর্তি উপাসনায় তিনি খুবই অপছন্দ ও ঘৃণা করতেন। এ ক্ষেত্রে তার যুক্তি ছিল, এসব মূর্তি উপকার বা ক্ষতি কিছুই করতে পারে না; এসব বস্তুর কোনো কিছু দেখা বা শোনার সামর্থ্য নেই। কারণ তার বাবাই পাথর বা কাঠ দিয়ে তার সামনেই এসব মূর্তি বানিয়ে থাকেন। নিজ সমপ্রদায়কে এসব জড়পদার্থের উপাসনা করতে দেখে ইবরাহিম (আ.) খুবই অবাক হন। তিনি তাদের যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে পথভ্রষ্ট আখ্যায়িত করেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের কাছে ইবরাহিমের বৃত্তান্ত বর্ণনা করুন। তিনি যখন তার পিতা ও তার সমপ্রদায়কে বলেছিল, তোমরা কিসের উপাসনা করো? তারা বলেছিল, আমরা মূর্তির পূজা করি, আমরা তাদের পূজায় অবিচল থাকব। তিনি বললেন, তোমরা প্রার্থনা করলে তারা কি শোনে? অথবা তারা কি তোমাদের উপকার বা অপকার করতে পারে? তারা বলল, না, তবে আমরা পিতৃপুরুষদের এমন করতে দেখেছি। তিনি বললেন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা কিসের পূজা করছ। ’ (সুরা শুআরা, আয়াত : ৬৯-৭৬)। মূলত এসব ক্ষেত্রে পূর্বপুরুষদের অনুসরণের যুক্তি মক্কার মুশরিকরাও উপস্থাপন করেছিল। সত্য আসার পরও তারা কিভাবে তা প্রত্যাখ্যান করত সেই প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘বরং তারা (মুশরিকরা) বলে, আমরা তো পূর্বপুরুষদের এক মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করি। তেমনি আপনার আগে যখন কোনো জনপদে সতর্ককারী পাঠিয়েছি তখন এর ধনাঢ্যরা বলত, আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদের এক মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। সতর্ককারী বলতেন, তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে পথে পেয়েছ আমি তাদের চেয়ে উত্তম পথনির্দেশ আনি তবু কি তোমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে? তারা বলত, তোমরা যা নিয়ে এসেছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। ’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত : ২২-২৪)

গ্রন্থনায় : মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments