Sunday, December 5, 2021
spot_img
Homeধর্মসিলেটে সুলতানি স্থাপত্যের ‘গায়েবি মসজিদ’

সিলেটে সুলতানি স্থাপত্যের ‘গায়েবি মসজিদ’

মসজিদটির নাম উছমানপুর জামে মসজিদ। কিন্তু অনেকের কাছে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত। প্রায় পাঁচ শ বছর আগে সুলতানি আমলে নির্মিত এই মসজিদটিকে ঘিরে নানা মিথ আছে। আয়তনে খুব ছোট এই মসজিদে নামাজ পড়তে পারেন মাত্র ৫০ জন।

সুলতানি আমলে ১৫৩০ থেকে ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মসজিদটি নির্মিত হয়। প্রচলিত আছে, একসময় মসজিদটি টিলা ও জঙ্গলের আড়ালে হারিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর জঙ্গল ও টিলা কেটে মসজিদ আবার পুনরুদ্ধার করা হয়। সেই থেকে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচয় পায়। মসজিদটি দেখতে অনেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে। সময়ের সঙ্গে গ্রামের জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মুসল্লির সংখ্যা বেড়েছে—এমন অজুহাতে প্রাচীন মসজিদটি ভেঙে ফেলতে চায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির একাংশ।

দলিলপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, একসময় নবাব আলীবর্দী খান এবং পরে সুবাদার নজমুদ্দৌলা মীর নজমুদ্দীন আলী খান মসজিদের ব্যয় নির্বাহের জন্য গ্রামের বিশিষ্টজন সৈয়দ খয়রুল্লাহকে ১৮০১ সালে সনদের মাধ্যমে (ফারসি ভাষার সনদ জেলা কালেক্টরেটে সংরক্ষিত আছে) কিছু জমি দান করেন, যাতে জমির আয় দিয়ে মসজিদ পরিচালনা করা যায়। পরবর্তী সময়ে খয়রুল্লাহর বংশধররা ১৯৯৫ সালে মসজিদসহ মসজিদের ভূ-সম্পত্তি ওয়াকফ তালিকাভুক্ত করেন।

বর্তমান পরিচালনা কমিটি মসজিদটি ভেঙে বড় পরিসরে নির্মাণ করতে চায়। এ জন্য ২০১৬ সালে ওয়াকফ এস্টেটের কাছে মসজিদটি ভেঙে ফেলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে সেটা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষও হয়েছে।

সরেজমিনে ওসমানীনগরের উছমানপুরের গায়েবি মসজিদ ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চতুর্ভুজ আকৃতির মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৩২ ফুট ও প্রস্থ ৩২ ফুট। চতুর্ভুজ আকৃতির হলেও ওপর দিকে উঠতে উঠতে ক্রমেই গোল হয়ে গম্বুজের সঙ্গে গিয়ে মিশেছে এর কাঠামো। মসজিদের দেয়াল ও ছাদে প্রাচীন আমলের নকশার কারুকাজ। দুই দিকে একটি করে জানালা এবং পূর্ব দিকে বিশাল প্রবেশ দ্বারের সঙ্গেই দুই পাশে আরো দুটি ছোট প্রবেশ দ্বার আছে। মসজিদে একসঙ্গে ৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

নানা গবেষণা ও স্থাপত্যবিদদের পর্যালোচনা বলছে, এটি সুলতানি আমলের মসজিদ। ঐতিহাসিক বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুলতানি আমলের বাংলার মসজিদ নিয়ে একটি মৌলিক গবেষণাকর্ম সম্পাদনা করেছেন, যার ভিত্তিতে ‘সুলতানস অ্যান্ড মস্কস, দ্য আর্লি মুসলিম আর্কিটেকচার্স অব বাংলাদেশ’ নামে গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। যেখানে উছমানপুর গায়েবি মসজিদের উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে চায়নিজ ইউভার্সিটি অব হংকং থেকে নুজাবা বিনতে করিম ২০০৮-০৯ খিস্টাব্দে ‘দ্য গ্রামার অব সালতানাত মস্ক ইন বাংলা আর্কিটেকচার’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। সেখানেও সুলতানি আমলের স্থাপনা হিসেবে এই মসজিদের উল্লেখ আছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা মুবশ্বির হোসেন প্রথমে প্রাচীন মসজিদটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগের কথা অস্বীকার করেন। তবে ২০১৬ সালে মসজিদ ভাঙার জন্য ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তখন আবেদন করা হয়েছিল। তবে এখন সে রকম ইচ্ছা নেই।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments