কারাবন্দিদের করোনার টিকা দেয়ার সিদ্ধান্তের ৬ মাস অতিবাহিত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। দাপ্তরিক ফাইলে বন্দি সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ নিয়ে চিঠি চালাচালি চলছে। কারা কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, শিগগিরই দেশের ৬৮ কারাগারে বন্দিদের টিকা দেয়া হবে। ইতিমধ্যে কারাবন্দিদের করোনার টিকা দেয়ার প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র মতে, কয়েক মাস আগে দেশে টিকা সংকট দেখা দিলে কারাবন্দিদের টিকা প্রদানের কার্যক্রমে গতি কমে যায়। যে কারণে ফেব্রুয়ারিতে সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা আসার পর সংকট কেটেছে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে টিকা প্রদান করা হবে কারাবন্দিদের। বন্দিদের মধ্যে প্রথমে টিকা পাবেন সাজাপ্রাপ্তরা। পরে পর্যায়ক্রমে সকল বন্দিদের টিকা দেয়া হবে। বর্তমানে দেশের ৬৮ কারাগারে প্রায় ৮৫ হাজার বন্দি রয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ হাজার সাজাপ্রাপ্ত।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন বলেন, অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েদীদের করোনার টিকা দেয়ার প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি । এটি যাতে দ্রুত করা হয়, সেজন্য আমরা অনুরোধ করে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুতই পেয়ে যাব। করোনার বিস্তার রোধে আমরা যথেষ্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। অনেক কয়েদীকে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের উদ্যোগে টিকা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় যদি বিষয়টির অনুমোদন দেয়, তাহলে টিকার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কারা কর্তৃপক্ষের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
কারা সূত্র জানায়, দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হওয়ার পর থেকেই কারাগারগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কারণ প্রত্যেক কারাগারেই ধারণক্ষমতার বেশি বন্দি থাকায় যেকোনো সময় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এই প্রেক্ষাপটে দেশের ৬৮টি কারাগারকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেয় কারা অধিদপ্তর। চলতি বছরের ৭ই ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয়ভাবে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর কারাবন্দিদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে অধিদপ্তর থেকে বন্দিদের টিকা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পরও কারাবন্দিরা করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সমপ্রতি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কক্সবাজার কারাগারের জেলা সুপার নেছার আলম জানান, দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই বন্দিদের সুরক্ষায় সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দিদের কারাগারে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। নতুন বন্দিদের প্রথমে তাপমাত্রা মাপা, তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নতুনদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক দুই সপ্তাহের আইসোলেশনে রাখা সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি পালনে বন্দিদের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান, কারাগারে যাতে করোনার সংক্রমণ না হয়, সেজন্য কারা অধিদপ্তরের নির্দেশে সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কারাগারে কোনো বন্দির করোনা উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পৃথক করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে যারা হাজতি, তারা কারাগারে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকায় একটা ঝুঁঁকি থেকেই যায়। এজন্য অন্তত কয়েদীদের করোনার টিকা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই কারা কর্মকর্তা।

English