Friday, April 19, 2024
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকসিঙ্গাপুরে গোতাবায়ার গ্রেপ্তার দাবি

সিঙ্গাপুরে গোতাবায়ার গ্রেপ্তার দাবি

* শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের দুয়ার খুলছে
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত

শ্রীলঙ্কায় কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করা গোতাবায়াকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইন্টারন্যাশনাল ট্র–থ এন্ড জাস্টিস প্রোজেক্ট (আইটিজেপি) নামের ওই সংস্থাটি অভিযোগপত্রে লিখেছে, গোতাবায়া ২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধের সময় জেনেভা কনভেনশনের গুরুতর লঙ্ঘন করেন। সেই সময় তিনি শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা প্রধান ছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা-ভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, সার্বজনীন এখতিয়ারের আওতায় এসব অভিযোগের বিচার সিঙ্গাপুরে করা যেতে পারে।  

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় জাতিগত সংখ্যালঘু তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের সাথে সরকারি বাহিনীর ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। সেই সময় বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করে, উভয়পক্ষই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় গোতাবায়ার বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা করে আইটিজেপি। তখন তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব ছিল। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর কূটনৈতিক দায়মুক্তি পান গোতাবায়া। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

এদিকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে আজ সোমবার থেকে কার্যক্রম চালু হচ্ছে। দেশটির নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ক্ষুদ্ধ জনগণ চলতি মাসের শুরুতে ভবনটি দখল করে নিয়েছিল। সে সময় কার্যালয়ের নিকটবর্তী প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। গোতাবায়া পরে মালদ্বীপ হয়ে সিঙ্গাপুর পালিয়ে গিয়ে পদত্যাগ করেন।  

বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের নির্দেশে গত শুক্রবারের অভিযানের মাধ্যমে ৯২ বছর পুরনো ভবনটি থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় সেনাবাহিনী। এই অভিযানে ৪৮ জন আহত হন এবং নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

গতকাল রবিবার দেশটির এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সোমবার থেকে কার্যালয়টি কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত। ভবনটির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা এবং প্রমাণ সংগ্রহে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে পরিদর্শন করে গেছেন।  

শুক্রবারে ভবনটি ত্যাগ করার অভিপ্রায় জানিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তারপরও সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করায় রনিল বিক্রমাসিংহের নিন্দা করেছে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।  

পুলিশের মুখপাত্র নিহাল তালদুয়া জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা চাইলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের পাশে নির্ধারিত স্থানে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে পারবেন। শহরের আরও কয়েকটি জায়গা বিক্ষোভের জন্য নির্ধারণ করতে পারে সরকার।  

এদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পরিবহন খাত বিপর্যস্ত হওয়ার জেরে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবারও চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সপ্তাহে তিনদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments