Tuesday, May 21, 2024
spot_img
Homeধর্মসাড়ে চারশ বছরের পুরোনো বখশী হামিদ মসজিদ

সাড়ে চারশ বছরের পুরোনো বখশী হামিদ মসজিদ

বারো আউলিয়ার পুণ্যভূমিখ্যাত চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন বখশী হামিদ মসজিদ।

প্রায় ৪৫৫ বছর আগে ইট, পাথর ও সুরকি দিয়ে নির্মিত হয়েছিল এ মসজিদ। ঐতিহাসিক এ মসজিদটি বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামের একটি দীঘির পাড়ে অবস্থিত।

এ মসজিদের নির্মাণ কৌশলের সঙ্গে ঢাকার শায়েস্তা খান (আনু: ১৬৬৪ খ্রি:) মসজিদ এবং নারায়ণগঞ্জের বিবি মরিয়ম মসজিদের (আনু: ১৬৮০ খ্রি:) বেশ মিল রয়েছে। কালপরম্পরায় স্থানীয়দের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হিসাবেই বিবেচিত হয়ে আসছে এ মসজিদ। পাথরের গাঁথুনিতে বানানো হয়েছে মূল প্রবেশপথ।

পাশেই তোরণে রয়েছে ফুলের অভিনব কারুকাজ। মসজিদে স্থাপিত ফলকে আরবিতে লেখা রয়েছে ‘বানাল মাসজিদুল মোকারেম ফি আহমিদ মূলক, ইসনাদুল মিলাত ওয়াদ্দিন সুলতানুল মুয়াজ্জাম সুলাইমান (কররানি) সালামালাহু আনিল ওয়াফাত ওয়াল বলিয়্যাতি মুরেখাত তিসযু রমজান, খামছুন ও সাবয়িনা ওয়া তিসআতু মিআত হিজরি আলাইহিস সালাম।

যার বাংলায় অর্থ দাঁড়ায়-এ মসজিদ নির্মাণ হয়েছে সেই বাদশাহর যুগে, যাকে উপাধি দেওয়া হয়েছে দ্বীন এবং মিল্লাতের সুলতানুল মুয়াজ্জম তথা মহান সম্রাট হিসাবে আর তিনি হলেন সুলাইমান কররানি (আল্লাহ তাকে বিপদাপদ থেকে মুক্ত রাখুন), তারিখ ৯৭৫ হিজরি সালের ৯ রমজান এবং ১৫৬৮ সালের ৯ মার্চ। এ ফলক থেকে সুলাইমান কররানি কর্তৃক প্রতিষ্ঠা করার কথা স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও প্রাচীনকাল থেকে লোকমুখে বখশী হামিদের নির্মিত মসজিদ বলে পরিচিত লাভ করে মসজিদটি।

বখশী হামিদের পুরো নাম মুহাম্মদ আবদুল হামিদ। বখশী তার উপাধি। বখশী ফার্সি শব্দ। এর অর্থ কালেক্টর বা করগ্রহীতা। স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বিদের থেকে জানা যায়, তারা বংশপরম্পরায় জেনে আসছেন তৎকালীন বখশী হামিদ এ অঞ্চলের কালেক্টর ছিলেন। তারা বলেন, তৎকালীন এ এলাকায় তেমন জনবসতি ছিল না। গৌড়ের জনৈক আমির। শাহ্ আবদুল করিম নামক এক সুফির সঙ্গে উপযুক্ত বাসস্থানের সন্ধানে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বাঁশখালীতে অবতরণ করেন।

এরপর বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশার দরগাহ বাড়ির স্থানে পৌঁছলে শাহ্ আবদুল করিম সেখানে বসবাসের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন এবং বসবাস শুরু করেন। বখশী আবদুল হামিদ ওই শাহ্ বংশেরই একজন বলে প্রাচীনকাল থেকে স্থানীয়দের মাঝে প্রচলিত রয়েছে। আর তিনিই এ মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করে গেছেন। মসজিদের ছাদের গম্বুজগুলোর চূড়া পদ্মফুলের মতো। বড় গম্বুজটির ভেতরে লতাপাতার অলংকরণ।

মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ মসজিদটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট। মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং ছোট গম্বুজ দুটি ধনুকের মতো করে ছাদের সঙ্গে যুক্ত। প্রাচীন এ মসজিদ লাগোয়া পুকুরে রয়েছে শানবাঁধানো ঘাট। এর সচ্ছ পরিষ্কার পানি দিয়ে ওজু করেন মুসল্লিরা। পূর্ব-উত্তরে গড়ে উঠেছে মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্সের নাম রাখা হয় দারুল কুরআন মুহাম্মদিয়া শাহ আবদুল হামিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানা। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করার জন্য দূরদূরান্ত থেকে হাজারও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সমবেত হন এ মসজিদে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments