Thursday, July 18, 2024
spot_img
Homeখেলাধুলাসাইকেল চালিয়ে চার বাংলাদেশির বিশ্বরেকর্ড

সাইকেল চালিয়ে চার বাংলাদেশির বিশ্বরেকর্ড

বৃষ্টি ঝরেছে অঝোরে। শীত ছিল প্রচণ্ড। কোনো কিছু থামাতে পারেনি বাংলাদেশের টিমবিডিসির চার সাইক্লিস্ট দ্রাবিড় আলম, তানভির আহমেদ, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও রাকিবুল ইসলামকে। ৪৮ ঘণ্টায় এক হাজার ৬৭০.৩৩৪ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তাঁরা। 

গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে গত পরশু শুক্রবার। বিডিসাইক্লিস্টসের (বিডিসি) স্পোর্টস উইং টিমবিডিসির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে গতকাল। এর আগে ২০১৬ সালেও একবার গিনেস বুকে নাম তুলেছিল বিডিসি। সেটা ছিল একক সারিতে সাইকেল চালিয়ে পৃথিবীর দীর্ঘতম সারি তৈরির রেকর্ড। বিজয় দিবসে ধীরগতিতে সাইকেল চালিয়ে রেকর্ডটা গড়েন এক হাজার ১৮৬ জন সাইক্লিস্ট। এবার বিজয়ের ৫০তম বছরে আরেকটি কীর্তি গড়ল এমেচার এই সাইক্লিস্ট টিম।

রাজধানীর পূর্বাচলের জয়নুল আবেদিন চত্বরে গত ৮ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়েছিল চার তরুণের বিশ্বরেকর্ড গড়ার অভিযান। প্রাথমিকভাবে তাঁদের লক্ষ্য ছিল ৪৮ ঘণ্টায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো। ১০ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে অভিযান শেষের সময় দেখা যায় এক হাজার ৬৭০.৩৩৪ কিলোমিটার চালিয়ে ফেলেছেন টিমবিডিসির এই তরুণরা। ১.৭ কিলোমিটার রাস্তাটিতে দুই দিনে প্রায় এক হাজার তিনটি চক্কর দিয়েছিলেন তাঁরা। রাইডে তাঁদের সঙ্গ দিয়েছেন আরো অনেক ‘পেসার’। মূল রাইডারদের সঙ্গ দিতেই পেসাররা গড়ে দুই দিন ছুটেছেন ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গতিতে।

শুরুর রাইডার ছিলেন দ্রাবিড় আর শেষটা করেছেন রাকিবুল। বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি পাওয়ার পর রাকিবুল পেসারদের পাশাপাশি প্রশংসা করলেন স্বেচ্ছাসেবকদেরও, ‘আমাদের সঙ্গে ১৫০ জনের বেশি ভলান্টিয়ার ছিলেন। পেসার ছিলেন অসংখ্য। তাঁদের জন্যই সম্ভব হয়েছে এটা। আমরা এই রেকর্ডের জন্য দুই বছর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। অবশেষে সফল হওয়ায় খুব ভালো লাগছে।’ বিশ্বরেকর্ডের এই অভিযানে পৃষ্ঠপোষক ডাবর হানি সব রকম সহযোগিতা করেছে সাইক্লিস্টদের। এ ছাড়া ফুয়েল পার্টনার ছিল ডাবর গ্লুকোজ ডি ও কমিউনিটি পার্টনার বিডিসাইক্লিস্ট।

১০ ডিসেম্বর অভিযান শেষ হলেও স্বীকৃতি পেতে মাসখানেক অপেক্ষা করতে হয়েছে টিমবিডিসিকে। কারণ, বিশ্বরেকর্ডের জন্য গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয়েছিল ভিডিও ফুটেজ, রাস্তার জরিপ প্রতিবেদন, বিচারকদের প্রতিবেদনসহ নানা নথি। ৪৮ ঘণ্টার এই অভিযানে জমা দেওয়া হয়েছিল ছয়টি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ। জিপিএসে রাইডের ডাটা, সার্ভেয়ারের দেওয়া প্রতিবেদন, ১৩ জন সাক্ষীর দেওয়া প্রমাণপত্র আর অসংখ্য ছবি। সেসব যাচাই-বাছাই করেই গত শুক্রবার স্বীকৃতি দেয় গিনেস কর্তৃপক্ষ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments