Thursday, June 20, 2024
spot_img
Homeজাতীয়সরকার চোখে শর্ষে ফুল দেখছে: মির্জা ফখরুল

সরকার চোখে শর্ষে ফুল দেখছে: মির্জা ফখরুল

বিদ্যুৎসহ চলমান নানা সংকট আওয়ামী লীগ সরকারকে পতনের দিকে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার চোখে শর্ষে ফুল দেখছে। জনগণ ফুঁসে উঠছে এবং সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি স্থায়ী কমিটির ওই সভা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, রিজার্ভের সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার সরকার এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে দিয়েছে। এ টাকাটা কাদের দিয়েছে? যারা বিভিন্নভাবে দেশে-বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। তারা এই টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন, বাড়ি বানিয়েছেন। আর দেশের মধ্যে সেই টাকা আর আসছে না। এই তো শুরু। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সব জায়গাতেই এ সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে। এখন সরকার শর্ষে ফুল দেখবে, দেখতে হবে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি মূলত নির্ভর করে পোশাক শিল্পের ওপর। সেই খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার ঘাটতি হলে সমস্যা তৈরি হবে, পরিবহণে সমস্যা সৃষ্টি হবে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সম্পূর্ণভাবে অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেখানে যখন রেশনিং সিস্টেম চালু করা হবে, তখন কিন্তু উৎপাদনে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট থাকবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যেসব পাওয়ার প্ল্যান্ট কাজ করছে না তাদের পয়সা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে কিন্তু বিরাট অংশ চলে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেককে ডলারে পে করতে হয়। এ সমস্যাগুলো বলা যেতে পারে সামগ্রিক সমস্যা। এ সমস্যাগুলো সৃষ্টির বিষয়ে আমরা আগেই বলেছি যে, সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং দুর্নীতি চরম জায়গায় পৌঁছছে। সব জায়গাতে তাদের একটাই লক্ষ্য দুর্নীতি করা। এটা অস্বীকার করলে তো চলবে না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আজকে ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’ এ চলে গেছে। ঠিক একইভাবে শ্রীলংকাতে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭টা দেশকে ওয়ার্নিং দেওয়া হচ্ছে যে, শ্রীলংকার মতো অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এটা তো হয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুতের অর্থ লুটের বিচার হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা তাদের দিতে হয়েছে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই। এখন বলা হচ্ছে ৬টা ডিজেলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকবে, বাকিগুলোতে কিন্তু পয়সা পেতেই থাকবে। পত্রিকায় দেখেছি, ১৭৬০ কোটি টাকা বছরে তাদের জন্য গুনতে হবে। এতে প্রমাণিত শুধু দুর্নীতি করার জন্য কোনো বিশেষ কোম্পানিকে অর্থ বানানোর সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ না দিলেও ওইসব কোম্পানি মালিকদের এভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে, এরা এভাবে টাকা চুরি করেছে। একদিন তাদের এর হিসাব দিতেই হবে। এ হিসাব না দিয়ে তারা যেতে পারবে না। তাদের জনগণের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নয়, প্রতিটা মেগা প্রজেক্টে দুর্নীতি করার জন্য সরকার জনগণের পকেট থেকে টাকা কেটে নিচ্ছে। আজকে যে সংকট তৈরি হয়েছে তার প্রধান কারণ দুর্নীতি। আমরা বারবার বলেছি, এমন কোনো পরিকল্পনা, এমন কোনো প্রজেক্ট হাতে নেওয়া উচিত নয় যেটা আমরা চালাতে পারব না। এটার মূল্য এখন দিতে হচ্ছে জনগণকে। আমরা অবিলম্বে এ দুর্নীতির কারণে সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।

দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব জানান, বৈঠকে নড়াইলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। ঘটনার সরেজমিন তদন্তে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, অ্যাডভোকেট ফাহিমা মুন্নী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী। তদন্ত কমিটি ২৬ জুলাই প্রতিবেদন জমা দিলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

ওয়াসার পানি এবং ৫৩টি ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে জাতীয় স্থায়ী কমিটি। ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকার মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিবাদ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বক্তব্য হাস্যকর উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সিইসি এখন হাস্যকর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশন মনে করে যে, দেশের সব মানুষ আহাম্মক। তাহলে তো হবে না। এটা গত ১০ বছর ধরে প্রমাণিত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। একথা শামসুল হুদাও বলেছেন, শেষ মুহূর্তে একেএম নুরুল হুদাও তার চাকরি যাওয়ার পরে একথা বলেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, যারা পরিকল্পিতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করেছে এবং জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তাদেরকেই আবার সেটা ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তত্ত্বাধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া সংকট উত্তরণের কোনো পথ নেই।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments