গত বছর মুক্তি পাওয়া শাকিব খান অভিনীত ও প্রযোজিত ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিতে বিনা অনুমতিতে ‘পাগল মন’ গানটি ব্যবহার করেছিলেন পরিচালক মালেক আফসারী। তখন কপিরাইট আইন ভঙ্গ করার দায়ে শাকিব খান ও একটি মোবাইল অপারেটর কম্পানির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ দায়ের করেন শিল্পী, গীতিকার ও সুরকারের পক্ষে আইনজীবী ওলোরা আফরিন। পরে শিল্পী দিলরুবা খান, গীতিকার কায়সার আহমেদ ও সুরকার আশরাফ উদাস ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশও পাঠান শাকিব খানের কাছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে শাকিব খান নিজে আইনজীবী ওলোরার অফিসে সমঝোতার জন্য বসেছিলেন একবার। তখন দুই লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টির সুরাহাও করতে চেয়েছিলেন ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’। কিন্তু শিল্পী, গীতিকার, সুরকার—কেউ রাজি হননি এত অল্প টাকায় সমঝোতা করতে। এরপর জল অনেক গড়িয়েছে। কেটে গেছে আরো ছয় মাস। শেষ পর্যন্ত ৩১ জুলাই চাঁদ রাতে উভয় পক্ষ বসে গানটির বিষয়ে সুরাহা করে। সেদিনও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ওলোরা আফরিন। তিনি বলেন, ‘সবাই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করেছেন। আমিও খুশি হয়েছি। তবে আশা করছি, ভবিষ্যতে আর কেউ বিনা অনুমতিতে অন্যের গান ব্যবহার করবেন না। এই ঘটনা একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।’ অবশ্য এই সমঝোতায় অতটা খুশি নন দিলরুবা খান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘জীবনে আর কখনো পাগল মন গান নিয়ে কথা বলব না। খুব কষ্ট পেয়েছি। সমঝোতার দিন প্রথম জানলাম, গানে শিল্পীর কোনো অধিকার নেই। সব অধিকার সুরকারের। কত টাকায় সমঝোতা হবে, কে কত পাবে—সব যখন সুরকার ঠিক করেন, তখন নামমাত্র শিল্পীর অধিকার নিয়ে কথা বলে আর লাভ কি! যা হয়েছে ভালো হয়েছে। আমি কারো প্রতি অভিযোগ রাখব না।’ অবশ্য সমঝোতার দিন শাকিব খান নিজে উপস্থিত ছিলেন না। পাঠিয়েছিলেন তিনজন প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন শাকিবের চাচাতো ভাই মোল্লা মনির। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমঝোতায় উপস্থিত থাকা বড় একটি অডিও কম্পানির কর্ণধার বলেন, ছয় লাখ টাকায় বিষয়টা রফা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শাকিব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিতে শাকিব খানের সহযোগী প্রযোজক ছিলেন মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আসলে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা শুরুতে ক্যাসেট কম্পানির কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি শিল্পী, গীতিকার আর সুরকারের কাছ থেকেও অনুমতি নিতে হবে। যা হোক, বিষয়টা মিটে গেছে। এটাই আসল কথা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English