Saturday, December 3, 2022
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামসবুজ জ্বালানি উৎপাদন, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায়ও অবদান রাখবে

সবুজ জ্বালানি উৎপাদন, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায়ও অবদান রাখবে

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য প্রসঙ্গের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, নেপাল ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে ঢাকা ও দিল্লি উপকৃত হতে পারে। কারণ এটি হবে সবুজ জ্বালানি ও সস্তা। প্রধানমন্ত্রীর এ উক্তি যথার্থ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সারা বিশ্বে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের পক্ষে জনমত বাড়ছে। সম্প্রতি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে সমাপ্ত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনেও (কপ২৬) বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে।

সেখানে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে কার্বনের নিঃসরণ কমিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা জোরেশোরে উচ্চারিত হয়েছে। কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী যেসব জ্বালানি, সেসবের ব্যবহার কমিয়ে আনার ব্যাপারে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও ক্রমান্বয়ে আমাদেরও এ পথে যেতে হবে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা-দশক ২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। জানা গেছে, এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সহনশীলতা ও সমৃদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত করার নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতির ক্ষতি মেনে নিয়েও সম্প্রতি ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের বিদেশি বিনিয়োগের ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল করেছে।

এর বদলে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুচালিত বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক অবকাঠামো জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। সেদিক থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল ও ভুটান রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। এ দুটি দেশে বাংলাদেশ ও ভারত বিনিয়োগ করলে সহজেই হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতে পারে। ইতঃপূর্বে নেপালে জলবিদ্যুৎ খাতে যৌথ প্রকল্প গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ।

আর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং চলতি বছরের ২৪ মার্চ বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে দুই সরকারপ্রধান ঐকমত্যে পৌঁছেন। আমরা মনে করি, জলবিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান যৌথ বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারে। বর্তমানে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। তবে ভবিষ্যতে সারা বিশ্বেই জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। সে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব ও কম ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানির ব্যবহারেই আমাদের গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সেদিক থেকে উল্লিখিত চারটি দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হলে তা হবে সার্ক চেতনার সঙ্গেই সংগতিপূর্ণ। এ থেকে প্রতিটি দেশই উপকৃত হবে। জলবিদ্যুৎ তথা সবুজ জ্বালানির উৎপাদন এ সহযোগিতা জোরদারকরণের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments