Monday, May 20, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসবচেয়ে দ্রুতগামী রোভারের তকমা জিতল টিম অ্যাটলাস

সবচেয়ে দ্রুতগামী রোভারের তকমা জিতল টিম অ্যাটলাস

প্রতিবছর সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ নামের রোবটিকস প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ও লুনার প্রজেক্টে ব্যবহার উপযোগী রোভার তৈরি করা নিয়েই এই প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এই প্রতিযোগিতার সহযোগী হিসেবে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংসহ বেশ কয়েকটি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বেশ কয়েক ধাপে প্রতিযোগিতামূলক বাছাই পর্ব শেষ করে সারা বিশ্বের মাত্র ১৪টি রোভার দল এই প্রতিযোগিতায় মূল পর্বে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছে।

সেসবের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া থেকে একমাত্র দল হিসেবে ছিল বাংলাদেশের ‘টিম অ্যাটলাস

ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেইডে অনুষ্ঠিত চার দিনের ফাইনাল রাউন্ডের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্যমে টিম অ্যাটলাস বিশ্বের সেরা দশে জায়গা করে নেয়। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার থেকে সবচেয়ে দ্রুতগামী রোভারের খেতাব পায় টিম অ্যাটলাসের অ্যাটলাস মার্স রোভার ভি-৩’। প্রতিযোগিতাটিতে টিম অ্যাটলাসের হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানি জুবায়ের (দলনেতা) ও জান্নাতুল ফেরদৌস ফাবিন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহতাব নেওয়াজ (টিম ম্যানেজার), শিহাব আহমেদ অনন্ত, মো. আদহাম ওয়াহিদ ও মোহাম্মদ সাদমান ওয়াসিফ।

এ ছাড়া আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের শিক্ষার্থী নুর হোসেন আসিফ, বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলার মো. তানজীর আরাফাত, দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের আতিক শাহারিয়ার হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. ফাহিম শাহরিয়ার এবং বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকার মোহাম্মদ মেহরান ইসলাম মাহিম অংশগ্রহণ করেন। 

https://cdn.kalerkantho.com/public/news_images/share/photo/shares/1.Print/2024/04.April/07-04-2024/2/kalerkantho-tw-1a.jpg

লুনার মিশন

সহজভাবে বললে, চাঁদে গিয়ে যখন বিভিন্ন পদার্থ, উপাদান, পারিপার্শ্বিকতা পর্যবেক্ষণ করে ডাটা পৃথিবীতে পাঠানোর যে মিশনগুলো নাসা করত সেগুলোই লুনার মিশন। অস্ট্রেলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতাটিও লুনার মিশনের আদলে করা। এখানে প্রতিযোগীদের বানানো রোভার চাঁদে গিয়ে ল্যান্ড করার পর চাঁদের পরিবেশের আশপাশ পর্যবেক্ষণ করে ডাটাগুলো কিভাবে পৃথিবীতে পাঠাবে তার ওপর ভিত্তি করেই এই প্রতিযোগিতা।

প্রতিযোগীরা কৃত্রিমভাবে বানানো একটি সিমুলেটেড বা অনুরূপ চন্দ্র পরিবেশে তাঁদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। নেভিগেশন, রিসোর্স, নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ চাঁদের পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন করে থাকেন।

টিম অ্যাটলাসের দলনেতা সানি জুবায়ের বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিকভাবে নবম স্থান অর্জন করতে পেরে বেশ আনন্দিত। আন্তর্জাতিকভাবে অনেক পুরস্কার পেলেও এটার গুরুত্ব আসলেই অন্য রকম। এবারের রোভার চ্যালেঞ্জে সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সারা বিশ্বের রোভার দল, নাসা এবং অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির ইঞ্জিনিয়ার ও প্রফেসরদের উপস্থিতিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করতে পেরে আমরা বেশ গর্বিত।

যে কাজ করতে পারে রোভারটি

রোভারটি দিয়ে মাটি পর্যবেক্ষণ, পানি আলাদা করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলা, চারপাশের ডাটা কালেকশন করে বেইস স্টেশনে পাঠানো যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পাথর শনাক্ত, সংগ্রহসহ আরো নানা কাজ করা যায়। রোভারটি চন্দ্র পর্যবেক্ষকদের কাছে পর্যবেক্ষণকৃত তথ্যগুলো সাজিয়ে পরিবেশন করতে পারে। প্রতিযোগিতাটির এবারের আয়োজনে অ্যাটলাস মার্স রোভারের দুটি সংস্করণ ব্যবহার করা হয়—রোকার বগি ও ভাইপার বডি।

ধাপে ধাপে ফাইনাল রাউন্ডে

এই প্রতিযোগিতায় সিলেকশন রাউন্ড দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে বিভিন্ন দল নিজেদের রোভারের ডিজাইন এবং রোভারটি কিভাবে কাজ করবে তা গবেষণা নিবন্ধের মাধ্যমে তুলে ধরে। টিম অ্যাটলাস এই ধাপ সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করে। দ্বিতীয় ধাপে ডিজাইন করা রোভার তৈরি করে ফিল্ড টেস্টের মাধ্যমে রোভারের কাজ তুলে ধরা হয়। টিম অ্যাটলাস নিজেদের রোভারের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার কিছু কাজ ভিডিও ও রিপোর্টের মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপের জন্য জমা দেয়। ফিল্ড টেস্টের দিন টিম অ্যাটলাসের তৈরি করা বেইস স্টেশন থেকে রোভারটিকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্তব্যে বিভিন্ন ধরনের সারফেসে চলাচলসহ রোভারের হাত বা বাহুর মাধ্যমে নির্দিষ্ট জিনিস তুলে জায়গামতো পাঠানোসহ আরো নানা ধরনের টাস্ক সম্পন্ন করে।

এ ছাড়া রোভারে হাই রেজল্যুশন ক্যামেরা, নাইট ভিশনসহ এক বিশেষ ধরনের চাকার ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে রোভারটির পাওয়ার সিস্টেমকে চার্জ প্রদান করা যায়। দলের সদস্যরা তিনটি সাবসেকশনে অর্থাৎ ডিজাইন ও পেপার টিম, মেকানিক্যাল টিম এবং প্রগ্রামিং ও গ্রাফিকস টিমে ভাগ হয়ে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য কাজ করতে থাকেন। ফাইনাল রাউন্ডে রোভারটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করে পাথর, বিভিন্ন বস্তু এড়িয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে রোভারটিকে নিয়ে যেতে হয়। পাশাপাশি কিউবিক আকারে বিভিন্ন বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা রোভারটিকে মাপতে হয়েছে। পুরো কাজটি রোভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে করেছে। চার দিনের কঠিন কঠিন টাস্ক রোভারের মাধ্যমে সম্পন্ন করে সেরা দশে নবম স্থান অর্জন করে টিম অ্যাটলাস।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments