Sunday, June 16, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামসংকটের পাঁচ বছর

সংকটের পাঁচ বছর

রোহিঙ্গারা আদৌ প্রত্যাবাসিত হতে পারবে কি?

আজ রোহিঙ্গা সংকটের পাঁচ বছর পূর্তি হলো। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হলে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগেও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল। এছাড়া গত পাঁচ বছরে আরও অনেক রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হয় বাংলাদেশে। সব মিলে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১২ লাখের অধিক বলে ধারণা করা হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, সংখ্যাটি ক্রমেই বড় হচ্ছে।

বাংলাদেশ এখন রোহিঙ্গার ভারে জর্জরিত। অথচ গত পাঁচ বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কোনো অগ্রগতি নেই। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অবস্থানজনিত সংকটটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানাভাবে আলোচিত হয়েছে। জাতিসংঘেও এ সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গারও প্রত্যাবাসন হয়নি।

একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, মিয়ানমার বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে আগ্রহী নয়। গত পাঁচ বছরের তাদের ট্র্যাক রেকর্ড তা-ই বলছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর একটাই উপায় রয়েছে আর তা হলো, মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা। মনে রাখা দরকার, আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আমলে নিয়ে অন্তর্বর্তী রায় দিলেও দেশটি তাতে গা করেনি।

বস্তুত মিয়ানমার এক চরম স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ধার ধারছে না। এমন অবস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের বিকল্প নেই।

এদিকে বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তারা এখানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বসবাস করছেন না। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা খুনাখুনিতে লিপ্ত হচ্ছেন। অনেকেই মাদক ব্যবসা, অপহরণ ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের পরিবেশ-প্রতিবেশেরও ক্ষতি করছে প্রচুর। বিপর্যয় ঘটাচ্ছে পরিবেশের।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে কক্সবাজারের আট হাজার একরের বনভ‚মি ধ্বংস হয়েছে। গত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল­াহসহ শতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছেÑকক্সবাজার তথা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল কি অপরাধমুক্ত করা সম্ভব? তাদের অপকর্মে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এবং তারা চাচ্ছেন রোহিঙ্গাসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় পূর্বাবস্থা ফিরে আসুক।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি উত্থাপিত হচ্ছে তা হলো, বাংলাদেশ আর কতদিন রোহিঙ্গাদের ভার বহন করতে পারবে? রোহিঙ্গা ঢলের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহŸান জানিয়েছে।

আমরা মনে করি, আর্থিক সহায়তা রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধান হলো স্বদেশে তাদের প্রত্যাবাসন। আর তাই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে পৌনঃপুনিকভাবে আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরতে হবে। প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানকে যুক্ত করতে হবে। তবে আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সবচেয়ে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারে চীন।

কয়েকদিন আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তার ও তার দেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তার কথার সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ক‚টনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আমাদের শেষ কথা হলো-রোহিঙ্গা সংকট আরও দীর্ঘায়িত করার কোনো সুযোগ নেই। যতটা দ্রুত সম্ভব এ সংকট থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে আমরা আরেকবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments