আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেকের কাছে শয়তান এসে বলে, এটা কে সৃষ্টি করেছে? ওটা কে সৃষ্টি করেছে? এমনকি সে বলে, আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? এ পর্যন্ত পৌঁছালে যেন আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে ও শয়তানকে বুখারি, হাদিস : ৩২৭৬) অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘সে যেন বলে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান এনেছি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৩৪) উল্লিখিত দুই হাদিসে মহানবী (সা.) শয়তানের প্রতারণার ব্যাপারে উম্মতকে সতর্ক করেছেন এবং তা থেকে আত্মরক্ষার উপায়ও বলে দিয়েছেন। তা হলো, এক. বিরত হওয়ার মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণ, দুই. আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা, তিন. ঈমানের বাক্য উচ্চারণ। শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে বাঁচতে এবং তাকে পরাজিত করতে এই তিনটি উপায় যেমন স্বতন্ত্র হিসেবে গণ্য করা যায়, তেমনি তার মধ্যে ধারাবাহিকতাও খুঁজে পাওয়া যায়। মুমিনের অন্তরে যখন শয়তান ঈমানবিরোধী কোনো প্রবঞ্চনা দিতে চায়, তখন সে প্রথম এই বিষয়ে চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকবে। এরপর আল্লাহর আশ্রয় চাইবে এবং ঈমানের বাক্য উচ্চারণ করে ঈমান তরতাজা করে নেবে।

বিরত থাকা

শয়তানের প্রতারণা থেকে বাঁচতে মুমিনের প্রথম কাজ বিরত থাকা। কেননা আল্লাহ সৃষ্টি জগতের চিন্তাশক্তি, মেধা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যা সে কখনো অতিক্রম করতে পারে না। ঈমানবিরোধী চিন্তা মনে চলে এলে মুমিন নিজের অপারগতার কথা স্মরণ করবে। আর মহান আল্লাহর বড়ত্বের সামনে নিজেকে সঁপে দেবে। সেদিকে ইঙ্গিত করেই মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর এই যে, সব কিছুর সমাপ্তি তো তোমার প্রতিপালকের কাছে।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৪২)

তা ছাড়া নিজের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে অক্ষমতার জায়গায় চেষ্টা করতে থাকা নির্বুদ্ধিতার শামিল।

আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা

শয়তানের প্ররোচনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা মুমিনের দ্বিতীয় কাজ। আল্লাহ মানবহৃদয়ে শয়তানের প্রভাব বিস্তার করার অবকাশ রেখেছেন। তেমনি শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষাও দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তুমি কোরআন তিলাওয়াত করো আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তানের কাছ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৮)

ঈমানের বাক্য উচ্চারণ

ঈমান বা দৃঢ় বিশ্বাস সব ধরনের সংশয়ের বিপরীত। সব ধরনের সংশয় দূর করে মানুষ যখন কোনো কিছু তার অন্তরে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে, তাকেই ঈমান বলা হয়। সুতরাং শয়তান কোনো বিষয়ে সংশয় তৈরি করতে চাইলে ঈমান নবায়নের মাধ্যমে তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে এবং ঈমান ও ইসলামের প্রতি নিষ্ঠা অর্জন করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করলেন, তজ্জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপ কাজ শোভন করে তুলব, আমি তাদের সবাইকে বিপথগামী করব। তবে তাদের মধ্যে আপনার নিষ্ঠাপূর্ণ বান্দাদের ছাড়া।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৩৯-৪০)

তিন পদ্ধতির রহস্য

শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার তিন নির্দেশনার ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসরা বলেন, বিরত থাকার আদেশে সূচনাতেই মন্দ কাজ নির্মূল করার নির্দেশনা রয়েছে; আশ্রয় প্রার্থনার আদেশে শয়তানের শক্তি খর্ব করার উপায় বলা হয়েছে আর ঈমানের মাধ্যমে ব্যক্তির দ্বিধা-সংশয় দূর করার পদ্ধতি বলা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের শয়তানের প্রতারণা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English