Friday, April 19, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশ্রমিকসংকট জাপান ঝুঁকেছে অবতার, এআই আর রোবটে

শ্রমিকসংকট জাপান ঝুঁকেছে অবতার, এআই আর রোবটে

২০৪০ সাল নাগাদ এক কোটি ১০ লাখেরও বেশি শ্রমিকের সংকটে পড়তে যাচ্ছে জাপান। অতি দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি বড় আকারে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৭ সাল থেকে জাপানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার দ্রুত কমবে এবং শ্রমের চাহিদা স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও ২০২২-৪০ সাল নাগাদ শ্রমিক সরবরাহ কমতে পারে প্রায় ১২ শতাংশ। গত এক দশকে বিদেশি কর্মী নিয়োগে কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘাটতি পূরণে জাপান সে দেশের মহিলা ও বয়স্ক শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করত।

তবে ‘হেজ ফান্ড কেগান ক্যাপিটাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা নারুহিসা নাকাগাওয়ার মতে, এই পদ্ধতি চলতি বছর থেকে আর কার্যকর হবে না। তবে সংকট কাটাতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে শ্রমিক আমদানি না করে কর্মশক্তিতে অবতার, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে রিক্রুট করতে চাইছে জাপান।

প্রাথমিক অবস্থায় চারটি খাতে অবতার, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে তারা। নির্মাণ খাত, পরিবহন খাত, কৃষি ও খুচরা বিক্রির শপগুলো আছে এই তালিকার প্রথমে।

অতি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ, কঠোর শারীরিক শ্রম এবং কম মজুরির কারণে নির্মাণশিল্পে তরুণ ও নারীরা আর আকৃষ্ট হচ্ছে না। ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা যায়, নির্মাণ শ্রমিকের মাত্র ১২ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের কম, অন্যদিকে ৩৬ শতাংশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি। বেশি বয়সী শ্রমিকের কারণে ধুঁকছে জাপানের নির্মাণ খাত। সারা বিশ্বে নির্মাণকাজে পারদর্শী রোবট খুঁজছে জাপানি বিভিন্ন কম্পানি।
গত বছর জাপানি নির্মাণগোষ্ঠী ‘তাকেমুরা’ থেকে দেড় মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে টগল টোকিউ কনস্ট্রাকশন। আর তা শুধু নির্মাণশিল্পের রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতিকল্পে। মধ্য জাপানের টয়োটার মটোমাচি প্লান্টে নতুন বানানো গাড়িকে লোডিং এলাকায় তোলা ও সরানোর জন্য ভেহিকল লজিস্টিক রোবট ব্যবহার করছে। একটি ইয়ার্ডে থাকা ২২ জন মানবকর্মীর জন্য ১০টি রোবট ব্যবহার করছে তারা।

গত গ্রীষ্মে দক্ষিণ জাপানের মিয়াজাকির কৃষিভূমিতে ‘রাইচো ১’ নামের একটি রোবট হস ব্যবহার করা হয়েছিল।

ধানের আগাছা পরিষ্কার, ফসল বোনা, ফসল কাটাসহ সব কাজের কাজি হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছিল রোবটটিকে। ওই অঞ্চলে মানুষের আনাগোনা কমে যায়, বন্য শূকর ও হরিণের অবাধ যাতায়াত ও ফসলের ক্ষতি করার কারণে পানি কামানের ব্যবহারও দেখা যায়, যেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানুষের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। জাপানি কৃষকদের ৪৩ শতাংশের বয়স এখন ৭৫ বছরের বেশি এবং সব কৃষকের গড় বয়স প্রায় ৬৮ বছর। কৃষিতে রোবটের ব্যবহারের কোনো বিকল্প ছিল না তাঁদের কাছে। জাপানে বিভিন্ন শপে থাকা খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের কাজের সময় কমিয়ে এনেছেন। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা এসব শপের মালিকপক্ষ ক্ষতি এড়ানোর জন্য মানব বিক্রয়কর্মীর বদলে অবতারের দিকে নজর দিচ্ছে এবং শ্রমের ঘাটতি মেটাতে নিয়োগ দিচ্ছে বিদেশি ছাত্রদের। সেন্ট্রাল টোকিওর বেশ কিছু শপের প্রবেশপথে হাস্যোজ্জ্বল নারীদের দেখা যায়। চার ফুট স্ক্রিনের ডিসপ্লেতে থেকে থেকে ভেসে আসে এনিমেটেড বিক্রয়কর্মীর শুভেচ্ছা ও বিভিন্ন পরামর্শ। বর্তমানে আট ধরনের অবতার কাজ করছে শপগুলোতে, ২০৩০ সাল নাগাদ এক লাখ অবতার দোকান পরিচালনার কাজে নিয়োজিত হবে বলে আশা করছেন জাপানের নীতিনির্ধারকরা।
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments