Friday, May 24, 2024
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকশিশুদের নিয়ে সীমান্তের পথে ইউক্রেনীয় নারীদের ঢল

শিশুদের নিয়ে সীমান্তের পথে ইউক্রেনীয় নারীদের ঢল

রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে বাঁচতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তে ঢল নেমেছে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের। আগ্রাসন শুরুর তিন দিনেই এক লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ শুধু পোল্যান্ড সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। সীমান্তে অপেক্ষমান মানুষের সারি এখন ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। বিবিসির সাংবাদিকরা ঘুরে ঘুরে দেখেছেন সেখানকার মর্মস্পর্শী বিভিন্ন ছবি।

শরণার্থীদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। কারণ ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সব ইউক্রেনীয় পুরুষকে দেশে থেকে যুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। এতে করে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হতে হয়েছে বহু মানুষকে।

পূর্ব ইউরোপের দেশ মলদোভার সীমান্ত থেকে দেখলে এখন ইউক্রেনকে মনে হবে শুধুই নারীদের রাষ্ট্র। সেখানে মা এবং দাদি-নানিদের দেখা যাচ্ছে সুটকেস হাতে শিশুদের হাত ধরে অজানার পথে এগোতে। মাতৃভূমির কী হবে, তারা কোথায় যাবেন – কোনো কিছুই জানা নেই তাদের।  

পালানকা সীমান্ত পারাপারে পৌঁছানোর পর ইউক্রেন অংশে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়। এখানেই দেখা মিলল আনা নামের এক নারীর। মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এসেছেন দেশ ছাড়তে। কাঁদতেই কাঁদতে আনা বললেন, ‘আশা করি, পশ্চিমারা আমাদের এ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে বের হতে সহায়তা করবে। কারণ আমরা এই মুহূর্তে রাশিয়ার আগ্রাসন একা সামাল দিচ্ছি। ’

মলদোভার শহর ও গ্রামের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে এসেছেন ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের সহযোগিতায়। পায়ে হেঁটে আসা ব্যক্তিদের তাঁরা নিজে থেকেই গাড়িতে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন।   

শরণার্থীদের এ দৃশ্য শুধু মলদোভা সীমান্তে নয়। একই চিত্র দেখা গেছে পোল্যান্ডের শহর পর্যেমিসিলে-ও। ইউক্রেন রাজধানী কিয়েভ থেকে লভিভ হয়ে ট্রেনে করে ওই শহরের স্টেশনে আসছেন অনেক শরণার্থী।  

এরকমই এক শরণার্থী কাতেরিনা লিওনতিয়েভা বলেন, পর্যেমিসিলে পৌঁছাতে তার ৫২ ঘণ্টা সময় লেগেছে। কাতেরিনার সঙ্গে রয়েছে তার কিশোরী মেয়ে। দুজনের হাতে পাসপোর্ট, সঙ্গে মালপত্রের বোঝা। পোল্যান্ডের মাটিতে পৌঁছে যাওয়ায় তারা এখন নিরাপদ।

তবে, নিরাপদ হলেও চিন্তামুক্ত নন আরেক শরণার্থী আইরিন। দুই অল্পবয়সী মেয়েকে নিয়ে পোল্যান্ডে পৌঁছেছেন তিনি। কিন্তু দেশ রক্ষায় পেছনে রয়ে গেছেন তাঁর স্বামী। ‘শুধু নারী ও শিশুদেরই আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পুরুষরা চাইছে থেকে যেতে, লড়তে ও রক্ত দিতে। তাঁরা বীর। ’

কান্না চেপে ভাঙা গলায় আইরিন জানালেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছি। আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা ওদের জন্য প্রার্থনা করছি। ’

হাঙ্গেরিতে দেখা মিলল ব্যতিক্রমী ভিক্টোরিয়ার। তিনি এসেছেন পশ্চিম ইউক্রেনের ইরভাশা থেকে। ভিক্টোরিয়া জানালেন, ‘আমি হাঙ্গেরিতে এসেছি দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। এখানে সীমান্তে অপেক্ষারত আত্মীয়দের কাছে তাদের রেখে আবার স্বামীর কাছে ফিরে যাচ্ছি আমি। ’

যুদ্ধকবলিত দেশে ফিরে যেতে ভয় লাগছে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে ভিক্টোরিয়া বললেন, ‘সত্যি বলতে, আমি ভয় পাচ্ছি না। শুধু মেয়েদের ব্যাপারে চিন্তা হচ্ছে আমার। বুঝতে পারছি, ইউক্রেনের পরিস্থিতি ভালো নয়। কিন্তু আমি আমার দেশ ছাড়তে পারি না। আমাদের দেশপ্রেমী হতে হবে। ’

স্লোভাকিয়ার ছোট গ্রাম ভেলকে স্লামেন্সের পথে দেখা গেছে আরেক চিত্র। ধীরগতিতে সেখানে পথ ধরে এগোচ্ছেন শরণার্থীদের দল। কিন্তু চোখ যেন খুঁজছে পরিচিত কোনো চেহারাকে। হঠাৎ পরিচিত একজনকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দিত চিৎকার কানে আসে। ক্ষণিকের জন্য দৃশ্যটি অনেককে প্রশান্তি দিচ্ছে। পরক্ষণেই হয়তো বেদনায় ক্লিষ্ট হতে হয়। যেমন, কান্নার শব্দ শুনে ঘুরে তাকিয়ে যন্ত্রণাক্লিষ্ট চেহারার এক নারীকে দূরে সরিয়ে নিতে দেখা গেল। এক কিশোরীকে দেখা গেল ছোট ভাইয়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে। তাঁদের বাবা-মা রয়ে গেছেন ইউক্রেনেই। ভাই-বোন কার জন্য অপেক্ষা করছে তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল না।  

ঠিক একইভাবে ভিনদেশের অচেনা গাঁয়ের পথে দাঁড়িয়ে ছিলেন ২০ বছর আগে কিয়েভ ছেড়ে আসা তানিয়াও। তিনি এখন থাকেন জার্মানির স্টুটগার্টে। কিন্তু পুরনো এক বন্ধুকে উদ্ধারে এসেছেন সেখানে। সূত্র: বিবিসি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments