Monday, May 20, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামশক্তিশালী ও কর্মক্ষম সরকার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মোটেও কাম্য নয়

শক্তিশালী ও কর্মক্ষম সরকার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মোটেও কাম্য নয়

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন)-এর শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠন হতে চলেছে। পিএমএল-এন ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)সহ আরও কয়েকটি ক্ষুদ্র দল এ জোটের অংশীদার। দুবছর আগে এ দলগুলোই সংসদে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে উৎখাত করে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বেই জোট সরকার গঠন করেছিল। কথিত আছে, ইমরান খানের উৎখাতের নেপথ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) নামের জোট, ২০২২ সালের এপ্রিলে ইমরান খানকে উৎখাতের ওই তৎপরতা চালিয়েছিল। সে সময় জোটের প্রধান ছিলেন পাকিস্তান জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলামের আমির মাওলানা ফজলুর রেহমান।

সম্প্রতি পাকিস্তানের এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যালেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাওলানা ফজলুর রেহমান জানিয়েছেন, তৎকালীন পাকিস্তান সেনাপ্রধান বাজওয়ার নির্দেশেই সংসদে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর প্রধান তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজ হামিদ ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য জেনারেল বাজওয়ার নির্দেশটি ফজলুর রেহমানের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুতির পদ্ধতিও তখন তিনি ফজলুর রেহমানকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এর আগে অবশ্য আইএসআই, ইমরান সরকারের অংশীদার, বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানসহ অন্যান্য দলকে জোট থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করে ফেলেছিল। আইএসআই প্রধান জেনারেল হামিদ ফজলুর রেহমানকে বলেছিলেন, ‘পিটিআইবিরোধীরা এখন পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ; কাজেই সরকারবিরোধী জোট এখন যা চায় তাই করতে পারে এবং যা কিছু করার তা পার্লামেন্টের ভেতরই করতে হবে। রাজপথে কিছু হবে না।’ জেনারেল বাজওয়ার নির্দেশনাটি ছিল বেশ স্পষ্ট ও অর্থবহ, কী করতে হবে মাওলানা ফজলুর রেহমানের বুঝতে বাকি রইল না। তিনি পিএমএল-এন নেতা শাহবাজ শরিফ ও পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টোসহ জোটের অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সংসদের অনাস্থা প্রস্তাব এনে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে একযোগে চারটি প্রাদেশিকসহ জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের মাধ্যমে ইমরান খানের পিটিআইকে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়। এমনকি তার দলের নির্বাচন প্রতীক ‘ক্রিকেট ব্যাট’ বরাদ্দ করাও হয়নি। তারপরও পিটিআইয়ের নেতানেত্রীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে ২৬৫ আসনে ভোট হয়। নির্বাচনে কোনো একক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ২৬৫টির মধ্যে ইমরানের পিটিআইসমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৯৩ আসনে জয়লাভ করেন। নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন ৭৫ ও বিলওয়ালের পিপিপি ৫৪ আসন পেয়েছে। অন্যান্য দল পেয়েছে বাকি আসনগুলো। এত প্রতিকূলতা ও চারদিকের নানাবিধ বৈরিতা মোকাবিলা করে ইমরানের দল এতগুলো আসন পাবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। অপরদিকে সেনাবাহিনীর আশীর্বাদ নিয়েও নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন পিছিয়ে পড়বে, তা অনেকের ধারণার বাইরেই ছিল। তবে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের তুলনায় পিএমএল-এন ও পিপিপির জনপ্রিয়তা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। সে হিসাবে ইমরানের দলের জনপ্রিয়তা গত নির্বাচনের চেয়ে এবারের ভোটে কিছুটা কমেছে।

পরিসংখ্যান যাই বলুক, নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন-এর চেয়ে ইমরানের পিটিআইসমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশি সংখ্যায় আসন লাভ করবেন, তা ভোটের কোনো হিসাবেই ছিল না। ভোটের এক মাস আগেও সবার ধারণা ছিল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই পিএমএল-এন ক্ষমতায় আসছে। এমন ধারণা করার কারণ, এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর একসময়ের সবচেয়ে অপছন্দের রাজনৈতিক ব্যক্তি নওয়াজ শরিফ ছিলেন জেনারেলদের আশীর্বাদপুষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনী নির্বাচনের আগে পিএমএল-এন এর সর্বোচ্চ আসন লাভের পথ কণ্টকমুক্ত রাখার সব ব্যবস্থাই করে রেখেছিলে। এ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও দুর্নীতির দুটি মামলায়, নির্বাচনের ঠিক আগে আগে ইমরানের বিরুদ্ধে ১৪ ও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। শুধু তাই নয়, ইমরানের সেকেন্ড-ইন কমান্ড, অর্থাৎ তার দলের দ্বিতীয় কাণ্ডারি শাহ মাহমুদ কুরেশিকেও ১০ বছরের জেল দেওয়া হয়। এতকিছুর পরও ভোটের ফলাফল দেখে সেনাসমর্থিত নির্বাচনকালীন সরকার, পিএমএল-এন ও পিপিপি হতভম্ব হয়েছে। সেনা কর্তৃপক্ষও কম বিস্মিত হয়নি।

আসলে ইমরান খানের প্রবল জনপ্রিয়তাই বিরোধীদের সব হিসাব ওলট-পালট করে দিয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইমরানের ওপর যতই নিপীড়ন করা হয়েছে, ততই তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আসল রহস্য হলো, প্রচণ্ড প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের নীতিতে ইমরান ছিলেন অটল। তিনি পাকিস্তানের প্রথাগত রাজনীতিবিদদের মতো ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর সঙ্গে আপসরফা করে দেশত্যাগ করেননি, বরং জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন, যা তাকে ভোটারদের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন ইমরান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রভাব বলয় থেকে রাজনীতিকে বের করে নিয়ে বেসামরিক সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া, ইমরানের ওপর চলমান দমন-পীড়ন তার প্রতি জনগণের সমবেদনা বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ইমরান ও তার দল পিটিআইকে যে হারে রাজনৈতিক ও আইনি হেনস্তা করা হয়েছে, তা জনগণ ভালো চোখে দেখেনি। রাজনীতির খোলা ময়দানে ইমরান অনুপস্থিত থাকলেও, তার নিছক অস্তিত্বই তার সমর্থকদের চাঙা রেখেছে। প্রবল চাপের মুখেও দলীয় সদস্যরা তাকে ছেড়ে যাননি। বরং তারা রাজনৈতিকভাবে সবকিছু মোকাবিলা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। যে কারণে, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ধারণা ভুল প্রমাণ করে ইমরানের দল পিটিআই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। একটি কথা স্মরণীয়, যখন কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিপীড়ন করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ইমরান খানের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, তার বিরোধীরা তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ভোট নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে প্রথম থেকেই। ভোটের দিন কারচুপি ছাড়াও ফলাফল পালটে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে অনেক স্থানে। এসব নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনাও চলছে। পিটিআইয়ের অভিযোগ, তাদের অনেক প্রার্থীকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তাদের কাছ থেকে ৮৫টি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে ভোটের পরদিন থেকে চারদিকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এ লেখা যখন লিখছি, তখন পিটিআইয়ের ডাকে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। পিটিআইয়ের বিজয় যে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তার প্রমাণও মিলেছে; ভোটের ফলাফল পালটে দেওয়ার প্রতিবাদে বিজয়ী প্রার্থী নিজ থেকেই সরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। করাচির প্রাদেশিক বিধানসভার পিএস-১২৯ আসনে জামায়াত-ই-ইসলামীর প্রার্থী হাফিজ নাঈম উর রেহমান এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তিনি মোট ২৬ হাজার ভোট পাওয়ার পরও ৩১ হাজার ভোট পাওয়া পিটিআইসমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফ বারীকে ১১ হাজার ভোট পেয়েছে দেখিয়ে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় হাফিজ নাঈম উর রেহমান আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি অবৈধ উপায়ে বিজয়ী হতে চাননি। গণতন্ত্র ও সত্যের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে হাফিজ নাঈম উর রেহমান নিজের বিজয়কে প্রত্যাখ্যান করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির নির্বাচনের একটি উলঙ্গ চিত্র ফুটে উঠেছে।

পাকিস্তানে সরকার গঠন করতে হলে জাতীয় পরিষদে ন্যূনতম ১৩৪ আসনের প্রয়োজন হয়। ৯৩ আসন নিয়ে ইমরানসমর্থিত স্বতন্ত্র বিজয়ী প্রার্থীদের সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ৩৩৬ আসনের মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়। ৬০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে। এছাড়া ১০টি আসন রাখা আছে সংখ্যালঘুদের জন্য। যেহেতু দল হিসাবে পিটিআই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, তাই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য তারা নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন পাবে না। এ আসনগুলো ছাড়া কোনো দলই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ক্ষমতায় যেতে হলে, যে কোনো দলকে ন্যূনতম ১৬৮টি আসন পেতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইমরানসমর্থিত বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অন্য কোনো ক্ষুদ্র বিজয়ী দলের সঙ্গে জোট করতে হবে। তবে, এ মুহূর্তে সেনাবাহিনীর চাপে অন্য কোনো দল পিটিআইয়ের সঙ্গে জোট করবে বলে মনে হয় না।

অপরদিকে, পিএমএল-এন ও পিপিপি জোটবদ্ধ হয়ে যে সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, তাদের সংরক্ষিত নারী ও সংখ্যালঘু আসন মিলিয়ে ১৬৯টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, তারাই সরকার গঠন করবে সন্দেহ নেই। মজার বিষয় হলো, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপর পিপিপি প্রধানমন্ত্রী পদে বিলাওয়াল ভুট্টোর নাম ঘোষণা দিয়েছিল। অপরদিকে পিএমএল-এনও প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির জোট সরকার গঠনে একে অপরকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ইচ্ছায় পিপিপি সে পদ ছেড়ে দিতে রাজি হয়। তবে সাংবিধানিক দায়িত্বে পিএমএল-এন তাদের সমর্থন করবে বলে শর্ত জুড়ে দেয়। এ মুহূর্তে জাতীয় পরিষদের স্পিকার পদের জন্য পিপিপি দাবি করেছে। বিনিময়ে নওয়াজ শরিফের দল উচ্চকক্ষের চেয়ারম্যানের পদটি চেয়েছে। ওদিকে পিপিপি ও পিএমএল-এন এর সঙ্গে জোটবাঁধা আরেক শরিক, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান বা এমকিউএম-পি সিন্ধু প্রদেশের গভর্নরের পদ চাচ্ছে। সিন্ধু প্রদেশে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে পিপিপি। এমকিউএম বলেছে, পিপিপি যদি তাদের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট পদে আসিফ আলী জারদারিকে ভোট দেবে না তারা।

প্রধানমন্ত্রী যদি পিএমএল-এন থেকে হয়, তাহলে প্রেসিডেন্টের পদ খালি হলে সে পদটি পিপিপিকে ছেড়ে দিতে হবে। সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় এমন বোঝাপড়াই নাকি হয়েছে এ দু’দলের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর পদে পিএমএল-এনকে সমর্থন দিলেও সরকারের মন্ত্রিপরিষদে না থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে পিপিপি। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে পিএমএল-এন যে সরকার গঠন করবে, তা একটি দুর্বল সরকার হবে সন্দেহ নেই। এমন ভঙ্গুর সরকারের পক্ষে দেশ ও রাজনীতির স্বার্থে যে কোনো সাহসী পদক্ষেপ নিতেও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে, এ ধরনের সরকার বেশিদিন টেকেও না। অতীতে পাকিস্তানে এমন ঘটনার অনেক উদাহরণ আছে। সম্ভবত এমন দুর্বল সরকারই সে দেশের সেনাবাহিনীর কাম্য। কারণ, দুর্বল সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। তাছাড়া, এ ধরনের সরকার দেশ পরিচালনায় সেনাবাহিনীর ওপর অনেক নির্ভরশীল থাকে। অপরদিকে অধিকতর শক্তিশালী ও কর্মক্ষম সরকার ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা অনেকটা গৌণ হয়ে যায়। পাকিস্তানের মতো দেশে, সেনাবাহিনীর জন্য তা মোটেও কাম্য নয়।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনদের অভিমত, শাহবাজ শরিফকে মেয়াদ পূর্ণ করতে হলে সে দেশের সেনাবাহিনীকে তোয়াজ করেই দেশ চালাতে হবে; তা না হলে তাকেও একই ভাগ্যবরণ করতে হবে। শাহবাজ শরিফ যতদিনই ক্ষমতায় থাকুন, তা যে খুব বেশি শান্তিপূর্ণ হবে তা বলা যাচ্ছে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসাবে পিটিআইয়ের বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংসদে বিরোধীদলের আসনে বসে শাহবাজ শরিফকে কিছুতেই ছাড় দেবেন না। সংসদের বাইরেও শাহবাজ শরিফকে শক্ত প্রতিপক্ষ মোকাবিলা করতে হবে। দুর্বল ও ভঙ্গুর সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তা সামাল দিতে ব্যর্থ হলে, শাহবাজ শরিফকে সেনাবাহিনী ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সহায়তা ছাড়া তার পক্ষে দেশ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments