Monday, May 20, 2024
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকরুশ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে পরিবহণ নিষেধাজ্ঞা লিথুনিয়ার, কঠিন পরিণতির হুমকি মস্কোর

রুশ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে পরিবহণ নিষেধাজ্ঞা লিথুনিয়ার, কঠিন পরিণতির হুমকি মস্কোর

রাশিয়ার মূলভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্য দিয়েই ওই অংশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে রাশিয়া। তবে এবার কালিনিনগ্রাদে পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে লিথুনিয়া। এর ফলে ওই অঞ্চলে সরবরাহ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে বড় হুমকির মুখে পড়েছে রাশিয়া। দেশটি যদিও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে। তবে তার আগে সময় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায় মস্কো। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, কালিনিনগ্রাদে পরিবহণের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়াকে বড় ধরনের আঘাত করেছে লিথুনিয়া। রাশিয়া জানিয়েছে, বাল্টিক ওই দেশটিকে তার এই সিদ্ধান্তের জন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। লিথুয়ানিয়ার এই সিদ্ধান্তের জবাবে রাশিয়া এমন ব্যবস্থা নেবে যার ফলে ওই দেশের জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ নিয়ে একটি বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

কালিনিনগ্রাদে কিছু কিছু পণ্য পরিবহনের ওপর লিথুয়ানিয়ার নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের পরেই রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রায় চার মাসের মাথায় ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়ার নতুন এই উত্তেজনা তৈরি হলো। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সাথে কালিনিনগ্রাদের স্থলপথে কোনো সংযোগ নেই। রুশ এই ভূখণ্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ ঘিরে রেখেছে। এই ভূখণ্ডটি রাশিয়া ১৯৪৫ সালে দখল করে নেয় যা তাদের জন্য কৌশলগতভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রেমলিন বলছে লিথুয়ানিয়ার এই সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন এবং বেআইনি। তারা বলছে, এটি শত্রুতামূলক আচরণ এবং লিথুয়ানিয়াকে অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, কালিনিনগ্রাদ এবং রুশ ফেডারেশনের বাকি অংশের সঙ্গে মালবাহী রেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে শুরু করা না হলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য রাশিয়ার পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার রয়েছে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে এবং কখন সেসব ব্যবস্থা নেয়া হবে সেবিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
বিবিসি জানিয়েছে, লিথুয়ানিয়ার এই সিদ্ধান্তে রুশ কর্মকর্তারা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছেন। তারা এটিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের মতো ঘটনা হিসেবেই দেখছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একজন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার বলেছেন, পরিস্থিতি আসলেই গুরুতর এবং যেকোনো ব্যবস্থা কিম্বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন। আগামী কয়েকদিন ধরে বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট পুতিনের একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র নিকোলাই পাত্রুশেভ রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনার জন্য কালিনিনগ্রাদে গেছেন।

তবে রুশ হুমকির মুখে লিথুনিয়া জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তের কারণেই রাশিয়ার পন্য পরিবহণে বাধা দেয়া হচ্ছে। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েলিয়াস ল্যান্ডসবার্গিস বলেন, এখানে লিথুয়ানিয়া নিজেরা কিছু করছে না। এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যা ১৭ই জুন থেকে কার্যকর হওয়া শুরু হয়েছে। লিথুয়ানিয়ার এই সিদ্ধান্তের পরই রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মস্কোতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মারকাস এডেরারকে তলব করে। রাশিয়া বলছে যে এধরনের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কালিনিনগ্রাদ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ভূখণ্ড। রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের সদর দপ্তর এই কালিনিনগ্রাদে। সেখানে পরমাণু অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এরকম এক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্কান্দর ব্যালিস্টিক মিসাইল মোতায়েন করেছিল মস্কো। এই অঞ্চলটি ইউরোপের একদম মাঝামাঝি অবস্থিত হওয়ায় রাশিয়ার নিরাপত্তায় এটি বড় ভূমিকা পালন করে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments