Monday, December 6, 2021
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামরিজার্ভের ওপর চাপ বৃদ্ধি

রিজার্ভের ওপর চাপ বৃদ্ধি

রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ার সংবাদ উদ্বেগজনক। মূলত বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়েছে। উল্লেখ্য, আমদানি ব্যয়ের বড় অংশই মেটানো হয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে। তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৫০৬ কোটি ডলার, যা দিয়ে গড়ে ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, যেভাবে আমদানি ব্যয় বাড়ছে, তাতে উল্লেখিত পরিমাণ রিজার্ভ দিয়ে আগামী ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো কঠিন হতে পারে। এ অবস্থায় পরিত্রাণের উপায় খোঁজা জরুরি বলে মনে করি আমরা। বস্তুত দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় অংশই আসে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স থেকে। অথচ ক্রমশ কমছে রেমিট্যান্স। তাছাড়া বৈদেশিক ঋণপ্রবাহও বর্তমানে কমেছে। অথচ এর বিপরীতে চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৪৮ শতাংশ। এছাড়া ভ্রমণ, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এসব খাতেও ডলার খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশে লোকজনের যাতায়াতের কারণে যেভাবে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বেড়েছে, সেভাবে আয় বাড়েনি। এতে স্বাভাবিকভাবেই দেশের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তৈরি হয়েছে।

করোনার প্রকোপ বিশ্ব অর্থনীতিকে যেমন সংকটে নিমজ্জিত করেছে, একইভাবে দেশের অর্থনীতিও নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা ইতঃপূর্বে করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক কাঠামোর করুণ পরিণতির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, করোনার অভিঘাতে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা যে কোনো আর্থিক মন্দার চেয়ে খারাপ হবে। এছাড়া লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দি ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট করোনা মহামারির প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বিপর্যয় নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছিল, যা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শিল্পের কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে। এতে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রফতানি খাত। তাই এ খাতে রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন জনশক্তি রপ্তানি খাতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া। আমাদের অর্থনীতিতে কৃষির পরেই প্রবাসী আয়ের স্থান। প্রবাসী আয়ের ফলেই অতীতে দেশের অর্থনীতিতে বিশ্বমন্দার নেতিবাচক প্রভাব খুব একটা অনুভূত হয়নি। তবে এবার এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে, এর প্রমাণ রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়া। এর মানে হলো, দেশের অর্থনীতিতে অশনিসংকেত ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার পাশাপাশি চলমান শ্রমবাজারগুলোয় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিতে হবে। অতীতে আমাদের অর্থনীতি নানামুখী প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এগিয়েছে। দেশের পরিশ্রমী মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। আশা করা যায়, সরকারের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এবারও সব ধরনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করা সম্ভব হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments