Tuesday, May 21, 2024
spot_img
Homeধর্মযে গুণে বিশ্ব জয় করা যায়

যে গুণে বিশ্ব জয় করা যায়

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধু মুহাম্মদ (সা.)-কে গোটা দুনিয়ার জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। তাঁর দয়া, ভালোবাসা ও কল্যাণকামিতার গুণে মুগ্ধ হয়েছে গোটা বিশ্ব। তিনি ভালোবাসা দিয়ে বিশ্ব জয় করেছেন। তাঁর ভালোবাসা ও ক্ষমাশীলতায় মুগ্ধ হয়ে শত্রুও পরম বন্ধুতে পরিণত হয়েছে; যার একটি উদাহরণ সুমামা ইবনে উসাল (রা.)।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) একদল অশ্বারোহী সেনা নজদের দিকে পাঠিয়েছিলেন। তারা যুদ্ধবন্দি হিসেবে সুমামা ইবনে উসাল নামে বনু হানিফার এক লোককে ধরে আনলেন এবং মসজিদ-ই-নববীর একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখেন। তখন নবী (সা.) তার কাছে গিয়ে বলেন, ওহে সুমামা! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? সে জবাব দিল, হে মুহাম্মদ! আমার কাছে তো ভালোই মনে হচ্ছে। যদি আমাকে হত্যা করেন, তাহলে আপনি একজন খুনিকে হত্যা করবেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তাহলে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তিকে অনুগ্রহ করবেন। আর যদি আপনি অর্থ-সম্পদ পেতে চান, তাহলে যতটা ইচ্ছা দাবি করুন। রাসুল (সা.) তাকে ওই অবস্থায় রেখে দিলেন। এভাবে পরের দিন এলো। নবী (সা.) আবার তাকে বলেন, ওহে সুমামা! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? সে বলল, আমার কাছে সেটিই মনে হচ্ছে, যা আমি আপনাকে আগেই বলেছিলাম। যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তাহলে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপর অনুগ্রহ করবেন। মহানবী (সা.) তাকে আগের অবস্থায় রেখে দিলেন। এভাবে এর পরের দিন এলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে সুমামা! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? সে বলল, আমার কাছে তা-ই মনে হচ্ছে, যা আমি আগেই বলেছি। রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা সুমামার বন্ধন ছেড়ে দাও। এবার সুমামা মসজিদ-ই- নববীতে প্রবেশ করল এবং বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল।

সুমামা আরো বলল, হে মুহাম্মদ! আল্লাহর কসম! এর আগে আমার কাছে পৃথিবীতে আপনার চেহারার চেয়ে বেশি অপছন্দনীয় আর কোনো চেহারা ছিল না। কিন্তু এখন আপনার চেহারাই আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয় চেহারা। আল্লাহর কসম! আমার কাছে আপনার দ্বিন-ধর্মের চেয়ে বেশি ঘৃণিত অন্য কোনো দ্বিন-ধর্ম ছিল না। এখন আপনার দ্বিন-ধর্ম আমার কাছে সব দ্বিনের চেয়ে প্রিয়। আল্লাহর কসম! আমার মনে আপনার শহরের চেয়ে বেশি খারাপ শহর আর কোনোটি ছিল না। কিন্তু এখন আপনার শহর আমার কাছে সব শহরের চেয়ে বেশি প্রিয়। আপনার অশ্বারোহী সৈনিকরা আমাকে যখন ধরে এনেছে, সে সময় আমি ওমরাহর উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। এখন আপনি আমাকে কী আদেশ দেবেন? তখন রাসুল (সা.) তাকে সুসংবাদ দেন এবং ওমরাহ পালনের নির্দেশ দিলেন। এরপর সে যখন মক্কায় এলো, তখন (কুরাইশদের) এক ব্যক্তি তাকে বলল, বেদ্বিন-বিধর্মী হয়ে গেছ? সে জবাব দিল, না, বরং আমি মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আর আল্লাহর কসম! রাসুল (সা.)-এর অনুমতি ছাড়া তোমাদের কাছে ইয়ামামা থেকে গমের একটি দানাও আসবে না। (বুখারি, হাদিস : ৪৩৭২)

সুবহানাল্লাহ! যে লোকটি একসময় প্রিয় নবী (সা.)-কে পরম শত্রু ভাবত, একসময় সে-ই তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হলো। একসময় যে সুমামা ছিল ইসলামের বিরুদ্ধশক্তি, সেই সুমামা ইসলামের পক্ষে কাজ করতে শুরু করল। প্রিয় নবী (সা.) আমাদের শিখিয়ে গেছেন, মন্দকে মন্দ দিয়ে নয়, ভালো ও উত্কৃষ্ট দিয়ে জয় করতে হয়। শত্রুকে নিঃশেষ করে দেওয়াই প্রকৃত বিজয় নয়, বরং প্রকৃত বিজয় হলো শত্রুকে পরম বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীতে পরিণত করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই চারিত্রিক গুণ অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments