Sunday, December 5, 2021
spot_img
Homeধর্মযেভাবে মানসিক বোঝা হালকা হয়

যেভাবে মানসিক বোঝা হালকা হয়

নানামুখী প্রত্যাশা, দায় ও দায়িত্ব মানুষের জীবনে মানসিক বোঝা হয়ে চেপে বসে। মানসিক বোঝা বহন করতে না পেরে মানুষ আত্মার পথ পর্যন্ত বেছে নেয়। বস্তুবাদী জীবনব্যবস্থা মানুষের ওপর অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও প্রত্যাশার বিশাল বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জীবনের বোঝাকে আরো ভারী করে তুলেছে। ইসলাম নানাভাবে মানুষের জীবনের এই বোঝা হালকা করার চেষ্টা করেছে। যেমন আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস, ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ, জীবনে সংযম, অল্পে তুষ্টি ও পরকালে উত্তম জীবনের প্রত্যাশা। প্রকৃতপক্ষে এমন মুমিন সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো ও ঈমান আনো, তবে তোমাদের শাস্তিতে আল্লাহর কি কাজ? আল্লাহ পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৪৭)

১. আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস : মুমিনমাত্রই বিশ্বাস করে আল্লাহ বান্দার সর্বোত্তম অভিভাবক ও সংকট নিরসরণকারী। সুতরাং প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হলেও আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে ভেঙে পড়ে না। সে বলে, ‘আমাদের জন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তা ছাড়া আমাদের আর কিছুই হবে না। তিনি আমাদের অভিভাবক। আল্লাহর ওপরই মুমিনদের নির্ভর করা উচিত।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৫১)

২. আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা : মুমিনের ওপর কোনো বিপদ নেমে এলে সে আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করে এবং দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে আল্লাহ তাকে এমন অসহায় অবস্থার মধ্যে ফেলে রাখবেন না। আর মুমিন হিসেবে এটাই তার মানসিক শক্তি। হাদিসে কুদসিতে (রাসুলের জবানে আল্লাহর ভাষ্য) এসেছে, ‘আমি বান্দার সঙ্গে আমার প্রতি তার ধারণার অনুরূপ আচরণ করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৫০৫)

৩. ধৈর্যধারণ করা : ইসলাম যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতে মুমিনদের ধৈর্যধারণে শিক্ষা দিয়ে বলে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুমিনের বিষয়টি কত চমৎকার। তার জন্য শুধুই কল্যাণ, কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নেই। যদি তার জন্য কোনো খুশির ব্যাপার হয় এবং সে কৃতজ্ঞতা আদায় করে তবে সেটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি কোনো দুঃখের বিষয় হয় এবং সে ধৈর্যধারণ করে, সেটাও তার জন্য কল্যাণকর।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৯৯)

৪. সংযত জীবন : সংযম মানুষের জীবনের বোঝা হালকা করে, মানসিকভাবে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখে আর অসংযম মানুষকে বিপদগ্রস্ত করে, জীবনের বোঝা ভারী করে। আর জীবনে সংযম লাভের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আল্লাহভীতি। আল্লাহভীরু মানুষের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি যেসব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং আল্লাহভীতি অবলম্বন করত, তবে আমি অবশ্যই তাদের জন্য আসমান ও জমিনের কল্যাণগুলো উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং আমি তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের পাকড়াও করেছি।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৯৬)

৫. অল্পে তুষ্টি : অল্পতুষ্টি মানুষের ওপর থেকে প্রত্যাশার ভার ও অসুস্থ প্রতিযোগিতার বোঝা হালকা করে, মানসিক অতৃপ্তি ও অস্থিরতা দূর করে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা পার্থিব বিষয়ে তোমাদের চেয়ে কম সমৃদ্ধিশালী লোকদের প্রতি দৃষ্টি দাও এবং তোমাদের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধিশালী লোকদের প্রতি তাকিয়ো না। তাহলে তোমাদের দেওয়া আল্লাহর নেয়ামত তোমাদের কাছে তুচ্ছ মনে হবে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৪২)

৬. সুসময়ের আশা রাখা : হতাশা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। মুমিন সব সময় ইতিবাচক এবং সুসময়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কেননা মুমিনের আশ্রয় মহান আল্লাহ কখনো অক্ষম ও অপারগ হয়ে যান না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার ছেলেরা, তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার ভাইয়ের অনুসন্ধান কোরো। তোমরা আল্লাহর আশিস থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহর আশিস থেকে অবিশ্বাসীরা ছাড়া কেউ নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৮৭)

৭. উত্তম প্রতিদান আশা করা : বিপদাপদের কারণে মুমিনের যে পার্থিব ক্ষতি ও কষ্ট হয়, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। সুতরাং মুমিন সংকটকালে ধৈর্যধারণ করবে এবং আল্লাহর কাছে এর উত্তম প্রতিদান আশা করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে—এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে এসবের বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস:  ৫৬৪১)

৮. পরকালীন জীবনের প্রত্যাশা : মুমিন যদি পার্থিব জীবনের সব কিছু থেকে বঞ্চিত হয়, তবু তার সামনে পরকালীন জীবনের সুখ ও সমৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ থেকে যায়। সুতরাং সে শত দুঃখের মধ্যেও সান্ত্বনা খুঁজে পায়। বরং মুমিন পরকালকেই প্রাধান্য দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘এ লোকেরা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন ক্রয় করেছে; তাদের ওপর থেকে সামান্য পরিমাণও শাস্তি হালকা করা হবে না, না সেদিন তাদের কোনো রকম সাহায্য করা হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৮৬)

আল্লাহ তাআলা সংকটকালে সবাইকে মানসিকভাবে সুস্থির থাকার তাওফিক দিন। আমিন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments