Sunday, August 14, 2022
spot_img
Homeধর্মযেভাবে বিদায় দেওয়া হতো হাজিদের

যেভাবে বিদায় দেওয়া হতো হাজিদের

ভেঙে যাওয়া মনোবল সুদৃঢ় হলো, অস্থির হৃদয় স্থির হলো, কম্পমান পা নিজেকে সামলে নিল। কয়েক দিন আগে হায়দরাবাদ যেতে হয়েছিল, সেখানে কয়েকজন ‘আহলে দিল’ বুজুর্গের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের সান্নিধ্যে সময় কাটিয়ে অন্তরে আবেগ ও স্পৃহা তৈরি হলো। রমজানে দেওবন্দ ও থানা ভবনের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি আরো বেশি উৎসাহিত করলেন। এত সব উৎসাহের পরও যদি কোনো হতভাগা দ্বিধাগ্রস্ত ও পিছপা হয়, তবে সে মানুষের পরিবর্তে জড় পদার্থ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আজমগড়, লখনউ ও হায়দরাবাদ থেকে ফিরে সফরসঙ্গীরা নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে সফরের প্রয়োজনীয় পাথেয় সংগ্রহ করল এবং যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি গ্রহণ করল।

১ শাওয়াল জোহরের নামাজ আদায়ের সুন্নত দোয়া পাঠ করে ঘর থেকে বের হলাম এবং মসজিদ থেকে বিদায় নিলাম। পরদাদা মুহাম্মদ আ-বকশ চিশতি নিজামী (রহ.)-সহ অন্য বুজুর্গদের কবর জিয়ারত করলাম। সারা পৃথিবীর মুসলমানের মতো মহল্লার মুসলিমরাও পরস্পর বিরোধে লিপ্ত। এমনকি তারা ঈদের দিনও পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে না। কিন্তু মহান আল্লাহর কুদরত যে, তারা এই অধমকে বিদায় জানাতে একত্র হলো এবং সব দল ও মতের লোকেরা পূর্ণ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিদায় জানাল। ঈদ আয়োজন ও আপ্যায়নের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে দুই মাইল পর্যন্ত পূর্ণ আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে আসা সহজ বিষয় ছিল না।

ঘর থেকে বিদায় নেওয়ার পর প্রথম যাত্রাবিরতি হয় লখনউতে। বহুবিধ সম্পর্কের বিচারে লখনউও ছিল নিজ এলাকার মতো। ১ শাওয়াল রাতে এখানে পৌঁছেছিলাম আমরা। ৪ শাওয়াল শুক্রবার রাতে এখান থেকে যাত্রা শুরু করি। দুপুর থেকে গুরুজন ও বন্ধুদের আগমনের যে ধারা শুরু হয়েছিল তা রাত ১০টায় গাড়ি ছাড়ার আগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সঙ্গে ছিল উপহার উপঢৌকন। বিদায় জানাতে যারা উপস্থিত হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিল শহরের খ্যাতিমান ব্যারিস্টার, উকিল, চিকিৎসক, পত্রিকার সম্পাদক, সংবাদকর্মী, নদওয়াতুল উলামা ও ইংরেজি কলেজের অধ্যাপক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ভক্ত ও অনুরাগীরা। কে তাদের সংখ্যা গুণে রাখবে এবং তাদের প্রতি পরিপূর্ণ তালিকা স্মরণে রাখার মতো স্মৃতিশক্তি কার আছে। ছোট-বড়, আলেম ও সাধারণ মানুষ সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ভালোবাসার সঙ্গে বিদায় জানিয়েছে। সেই স্মৃতি সহজে ভোলার নয়।

হাদিসে জুমা-রাতের সফরকে বরকতময় বলা হয়েছে। অনুগ্রহকারী আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন।

দরিয়াবাদ স্টেশন থেকে যখন গাড়ি ছাড়ছে তখন বুধবারের সূর্য ডুবছে এবং বৃহস্পতিবার রাত শুরু হচ্ছে। লখনউ থেকে রওনা হওয়ার সময় শনিবার রাত শুরু হয়ে কয়েক ঘণ্টা গত হয়েছে। রাস্তায় ভূপাল স্টেশনে শুধু শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রিয়ভাজনরাই উপস্থিত হলেন না, এমন মহান ব্যক্তিরাও উপস্থিত হলেন যাঁদের সঙ্গে এর আগে কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। তাঁরা যে আতিথেয়তার প্রমাণ দিয়েছিলেন তার প্রতিদান কল্যাণের দোয়া আর কী-ই বা হতে পারে। আল্লাহ সবাইকে উভয় জগতে সাফল্যমণ্ডিত করুন। আমিন।

‘সফরে হিজাজ’ থেকে আতাউর রহমান খসরু’র ভাষান্তর

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments