Friday, April 19, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা

আলমগীর স্বপন 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটের দিনে চকচকে রোদে ভাসছিল আটলান্টিক পাড়ের নর্থ ক্যারোলিনা। মনোহর এমন প্রকৃতির মাঝেই কটনি গিলসের সঙ্গে দেখা। তিনি তখন কিপ ডারহাম কলেজ প্রেপ পাবলিক স্কুল ভোটকেন্দ্রে। কটনি, পেশায় নার্স। প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে লড়েছেন। ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী। আগের দিন এক প্রোগ্রামে তিনি তার ক্যাম্পেইন নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাই ভোটকেন্দ্রে দেখে এগিয়ে গেলাম তার দিকে। সে-ও তখন ভোটকেন্দ্রের একটি কক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা তাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, প্রার্থী হলেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রথমবার নির্বাচন করায় কটনি হয়তো সে সময় ভুলে গিয়েছিলেন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি।

এমন পরিস্থিতি দেখে বাংলাদেশের ভোটকেন্দ্রের কথা মনে পড়ে গেল। একটু অবাকই হলাম। কী বলে? যেখানে ভোট হচ্ছে সেখানে প্রার্থী ঢুকতে পারবেন না! মনে মনে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে কটনির পিছু নিয়ে তার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকেও সতর্ক করে দেওয়া হলো। কেন্দ্রের বাইরের উঠানের মতো একটি জায়গা। এর মেঝেতে সাদা চক দিয়ে আঁকা দাগ দেখিয়ে বলা হলো এর ভেতরে ঢোকা যাবে না। সঙ্গে থাকা মার্কিন ফরেন প্রেস সেন্টারের কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, যেখানে, ভোটগ্রহণ চলছে, সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরাও যেতে পারবেন না? তার উত্তর, ‘না’। প্রার্থী বা সংবাদকর্মী যেই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। ভোটারদের কোনোভাবেই বিরক্ত করা যাবে না। এ অধিকার নিশ্চিতে নির্বাচনি কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। সেখানে কে সরকারি দলের প্রার্থী, আর কে বিরোধী দলের, তা আমলে নেন না।

ভোটারদের ভোটদান নিশ্চিত ও নির্বিঘ্ন করতেই এমন নির্দেশনা। ভোটার কোন প্রার্থী বা দলকে ভোট দিচ্ছে, তা যদি সে নিজ থেকে বলে এটা সেই ভোটারদের স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতা এখানে নিশ্চিন্তেই উপভোগ করেন ভোটাররা। গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করা হয়, এর উদাহরণ পেলাম আরেক ভোটকেন্দ্র নর্থ ক্যারোলিনার র‌্যালের পিলগ্রিম প্রেসবাইটারিয়ানে। ভোট দিয়ে বের হয়ে আসছেন এমন তিন-চারজনকে কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করলাম, তারা কোন দলকে ভোট দিয়েছেন? রাখঢাক কিংবা আমতা আমতা না করে শিনা টানটান করেই জানিয়েছিলেন ডেমোক্রেট বা রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার তথ্য। এ নিয়ে নিরাপত্তার সংকট বা বিপক্ষ দলের প্রার্থীর সমর্থক-ক্যাডারদের হামলার মুখে পড়ার কোনো আশঙ্কাই তাদের চোখে-মুখে দেখিনি।

এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভোটারদের কথা কি চিন্তা করা যায়? কোন দল বা প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে, তা জানাজানি হলে কি সেই ভোটারের রক্ষা আছে? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, কোন দলকে ভোট দেয় তা মোটামুটি জানা থাকায় তাদের অনেকেই ২০০১ সালের নির্বাচনের পর কী বর্বরতার শিকার হয়েছিলেন-লোমহর্ষক সেসব ঘটনার কথা সবারই জানা আছে। এ অবস্থা থেকে কি আমাদের উত্তরণ হয়েছে? না হয়নি। শুধু পক্ষ বদল ও নির্যাতনের ধরন পালটেছে। গত প্রায় দুই দশকে ছন্দপতন ঘটেছে নির্বাচনি ব্যবস্থারও। এখন ভোট দিয়ে সাহস করে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে তা বলা তো দূরের কথা, বিপক্ষের সমর্থক সন্দেহ হলে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশই কঠিন হয়ে গেছে। যদিও ক্ষমতাসীন দলের এক্ষেত্রে ভিন্নমত রয়েছে। সমালোচকরা বলতে পারেন, যুক্তরাষ্ট্রেও নির্বাচনের পর হামলা-মামলার ঘটনা ঘটেছে। পরাজয়ের পর ট্রাম্প সমর্থকরাও ক্যাপিটল হিলে হামলা চালিয়েছে! যা যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা পছন্দ করেননি। এর জবাব ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে। তার দল রিপাবলিকান পার্টি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাইমারিতে তিনি দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন পাবেন কি না, এ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। দলেই তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দাঁড়িয়ে গেছেন ফ্লোরিডার পুনর্নির্বাচিত গভর্নর রন ডি স্যান্টিস। নর্থ ক্যারোলিনার ডিউক ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অ্যাসার হিলডোন্ড এমন আভাসই দিয়েছেন। অ্যাসার ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন ইউএস কংগ্রেসম্যানদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে। বাংলাদেশি পরিচয় দিতে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ধারণাই দিয়েছেন।

ভোটার উপস্থিতি-অনুপস্থিতি

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন প্রেস সেন্টারের আমন্ত্রণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে ২২ দেশের বিভিন্ন মাধ্যমের ২২ জন সাংবাদিক গিয়েছিলাম যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির অঙ্গরাজ্য অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলিনায় ভোটারদের মনোভাব, প্রার্থীদের প্রচার কৌশল, নির্বাচনি ব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্র দেখার সুযোগ হয়েছিল আমাদের। এ খবর শুনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুজ বলেছিলেন, ‘দেশে মানুষ ভোট দিতে পারে না, আর আপনারা এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কাভার করতে?’ তার কথায় জবাবে বলেছিলাম, ‘তোমার অভিযোগ অনুযায়ী, আমাদের ওখানে না হয় ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়; কিন্তু তোমাদের এখানে ভোটারদের উপস্থিতি কম কেন?’ উদাহরণ হিসাবে তাকে, রিপাবলিকান প্রার্থী কটনি গিলসের ভোটার খোঁজার তরতাজা স্মৃতির কথা বললাম। ভোটের দিনে প্রেপ স্কুল কেন্দ্রে কটনির বক্তব্য যখন নিচ্ছিলাম, তখন আমাদের সঙ্গে কথা বলার চেয়ে তার চোখ খুঁজছিল ভোটারদের। অনেকক্ষণ পরপর দু-একজন ভোটার আসছে, আর তিনি তাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, লিফলেট নিয়ে। যে দুটি কেন্দ্রে আমরা ভোট দেখতে গিয়েছিলাম, সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম ছিল। পরে তো জেনেছিই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে।

কেন যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার উপস্থিতি কম হয়? এ নিয়ে কথা বলেছিলাম, ‘মি ফ্যামিলা ভোটা’র অ্যারিজোনার পরিচালক ক্যারোলিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে। তারা ভোটারদের নিবন্ধন ও ভোট দিতে উদ্ধুদ্ধ করতে সহায়তা ও সচেতন করে। ক্যারোলিনা, অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের প্রেক্ষাপটে ভোটার নিবন্ধনে কিছু বৈষম্যের কথা বলেছিলেন। ভোটার হিসাবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বসবাসের প্রমাণপত্র প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে অনেক দক্ষিণ আমেরিকান অভিবাসী বা ল্যাটিনো সচেতন না। আবার কাজের চাপ, আর্থিক দিক ও দূরত্ব বিবেচনা করে অনেকে নিবন্ধিত হতে যায় না।

এর জবাবে অ্যারিজোনার ফিনিক্সের মেরিকোপা কাউন্টির রেকর্ডার স্টিফেন রিচার বলেছিলেন, ‘রিপাবলিকান সমর্থক হলেও ভোটারদের সুরক্ষা দেওয়া তার পবিত্র দায়িত্ব। সে যে দলেরই হোক। আর ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন না মানলে অবৈধ ভোটের সুযোগ থাকে। আর যুক্তরাষ্ট্রে সব অঙ্গরাজ্যে ভোটের নিয়মও এক না।’ ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশেও নানা সমস্যা আছে। ২০০৫-০৬ সালে তখনকার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভুয়া ভোটার নিবন্ধনে বড় ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সমস্যা থাকলেও দেশে ভোটাররা অবশ্য সব সময়ই ভোট দিতে উন্মুখ। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল। সেই সময় সেই অনুজ দেশেই ছিল। বললেন, ‘যাক উপস্থিতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলতে পেরেছে বাংলাদেশ।’

ইস্যু দল নাকি প্রার্থী? ভোটে ফ্যাক্টর কী ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের বড় অঙ্কের ভোটার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু বিবেচনা করে ভোট দেন। দলীয় সমর্থন বড় হলেও প্রার্থীর যোগ্যতাও ভোটের মানদণ্ড হয় দেশটিতে। এজন্য সুইং ভোটার ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে মার্কিন নির্বাচনে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশির ভাগ জরিপে বলা হয়েছিল সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বিরোধী রিপালিকানরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অ্যারিজোনার অর্থনীতি, জনমিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাজ্যটির এলার কলেজ অব ম্যানেজমেন্টের ইকোনমিক ও বিজনেস সেন্টারের পরিচালক জর্জ ডব্লিউ হ্যামডও এমন পূর্বাভাসই দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, অর্থনৈতিক সংকট, স্মরণকালের রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি, জিনিসপত্রের কয়েকগুণ দামবৃদ্ধি এবং জো বাইডেনের ব্যক্তিগত অজনপ্রিয়তা ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের ভরাডুবির কারণ হবে। নর্থ ক্যারোলিনার ডেমোক্রেট সিনেটর গ্রেগ মায়ারের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা হয়েছিল। জয়ের ব্যাপারে তার কথায় আÍবিশ্বাস দেখা যায়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফলে বিশেষ করে সিনেটে তার দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। অর্থনৈতিক ইস্যুর চেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষা, গর্ভপাত আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের বাড়াবাড়ি। ১০০ সদস্যের সিনেটে আগের চেয়ে একটি আসন বেশি নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটরা। তবে নিম্নকক্ষে ২২০টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে রিপাবলিকানরা। যদিও নিম্নকক্ষেও রিপাবলিকানদের আরও বেশি আসনের প্রত্যাশা ছিল। সেরকম ফল যে শেষ পর্যন্ত হয়নি, এজন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়াবাড়ি, কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনে ভুল, ক্যাপিটল হিলে নজিরবিহীন হামলার বিষয়টিই সামনে এসেছে।

ইভোটিং-ইভিএম-পোস্টাল ব্যালট

বাংলাদেশে নির্বাচন পরিচালনা করার সর্বময় ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনি ব্যবস্থা ভিন্ন। সেখানে কোনো একক কর্তৃপক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এর দায়িত্বে থাকে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের সময় কোনো সিইসির চেহারা ঘনঘন টিভিতে বা পত্রিকায় দেখা যায় না। এখনকার অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনি পদ্ধতিও অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন। আবার একই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ব্যালট এবং ভোটদানের প্রযুক্তি থাকে। এখানে খুব কম ভোটারই ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নামের পাশে ‘x’ চিহ্ন দিয়ে ছিল মারে। কারণ, সেখানে অপটিক্যাল সিস্টেম ব্যবহার করে যান্ত্রিকভাবে ব্যালট পেপার স্ক্যান করা হয়। অনেক স্থানে যান্ত্রিক ভোটিং ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। আবার আগাম ভোটের জন্য নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়। ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে শপিংমল বা কোনো গণজমায়েতের স্থানের বক্সে জমা দেন ভোটাররা। নির্বাচনের দিনের তিন সপ্তাহ আগে থেকে এ সুযোগ পান ভোটাররা। অ্যারিজোনার ফিনিক্সের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ইয়ালানা মোরালেস আগাম ভোট দিয়েছিলেন। সে সময় তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন ভোটের দিন ভোট দিচ্ছ না? সে বলেছিল, ‘সেদিন তার কাজ আছে। শহরের বাইরে বেড়াতে যাবেন নাতিপুতিদের নিয়ে।’

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনের সময় বাড়তি সুবিধা পায় না। সব দলের অবস্থান সে সময় সমান থাকে। ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষ থাকেন। সমালোচকদের মতে, আমাদের দেশে যা এখন অকল্পনীয়। ভোটারদের ভোটের অধিকারই এখন প্রশ্নবিদ্ধ? নিচের কৌতুকের মতোই এ পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংকট নিশ্চয়ই আরও বাড়বে! তাহলে এবার কৌতুকটা শুনে নির্বাচন নিয়ে আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর নেওয়া শেষ হোক।

দুই ভোটার কিছুক্ষণ আগে ভোটকেন্দ্র থেকে এসেছেন। প্রথমজন বলছেন, ‘গেছিলাম ভোট দিতে, কিন্তু দিতে পারলাম না। কে জানি আগেই আমার ভোটটা দিয়া গেছে।’ এবার দ্বিতীয় জন বলল, ‘তাতে কী! আমরাটাও কে জানি দিয়া গেছিল, কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা, আরেকজনেরটা দিয়া আসছি।’ এবার প্রথমজন বলল, ‘আমারে কি বেকুব ভাবছস? আমিও একই কাজ করছি!’

আলমগীর স্বপন : সাংবাদিক

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments