কানাডায় আশ্রয় নেয়া সৌদি আরবের সাবেক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাদ আল জাবরির সন্তানদের সম্পর্কে সৌদি আরবের কাছে জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাদ জাবরি যাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হন, সেজন্য তার দুই সন্তান ও এক ভাইকে আটক করেছে সৌদি আরব। তাদের ‘স্ট্যাটাস এবং নেচার’ কি অর্থাৎ বন্দি অবস্থায় তারা কি রকম আছে এ বিষয়ে সৌদি আরবকে পরিষ্কার করতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক চিঠিতে তারা বলেছে, সৌদি আরবকে এ বিষয়ে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে। কানাডায় নির্বাসনে থাকা সাদ আল জাবরি অভিযোগ করেছেন তাকে হত্যা করতে চান সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এ খবর দিযেছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে আরো বলা হয়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সিনেটর একটি চিঠি লিখেছিলেন। তারপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরেকটি চিঠি লিখেছে।

ওই চিঠিতে সাদ আল জাবরির আটক সন্তানদের মুক্ত করতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য, সাদ আল জাবরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব লেজিস্লেটিভ অ্যাফেয়ার্সে ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়ান এম কালদাহল চিঠিতে বলেছেন, অনেক বছর ধরে সন্ত্রাস বিরোধী প্রচেষ্টায় রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পক্ষে কাজ করেছেন ড. সাদ আল জাবরি। আমাদের মিশন ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকির বিষয়ে সার্বক্ষণিক তৎপর ছিলেন। তনি মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ রাখার জন্য যে অবদনা রেখেছেন সে জন্য আল জাবরির প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাই তার সন্তানদের সুস্থ থাকা, ভাল থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কিছু করা উচিত।

গত মাসে যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল সৌদি আরবের কাছে তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর মারকো রুবিও, ডেমোক্রেট সিনেটর প্যাট্রিক লেহি, টিম কেইন এবং ক্রিস ভ্যান হোলেন। ওই চিঠিতে তারা বলেন, সাদ আল জাবরিকে দেশে ফিরতে বাধ্য করার জন্য তার দুই সন্তান সারাহ ও ওমরকে জিম্মি করে রেখেছে সৌদি আরবের রাজপরিবার। তারা দু’জনই প্রাপ্ত বয়স্ক। এ ছাড়া সাদ আল জাবরির এক ভাইকেও মার্চে আটক করে সৌদি আরব। বলা হচ্ছে, সাদ আল জাবরির ওই ভাইও রাষ্ট্রীয় অনেক গোপন তথ্য জানেন। এর আগে সন্তানদের সৌদি আরব থেকে বের করে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন আল জাবরি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে বৃহস্পতিবার একটি মামলা করেছেন সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাদ আল জাবরি। এতে তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে ধরতে এবং হত্যা করতে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স একটি স্কোয়াড টিম পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। এই টিমের নাম ‘দ্য টাইগার স্কোয়াড’। ক্রাউন প্রিন্সের এই পরিকল্পনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন আল জাবরি। কারণ, টাইগার স্কোয়াডের কানাডায় প্রবেশে অনুমতি ছিল না। মামলায় বলা হয়েছে, তিন বছর ধরে আল জাবরিকে হত্যার চেষ্টা করছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English