Sunday, June 16, 2024
spot_img
Homeধর্মযিনি কোরআন সংকলন কমিটির প্রধান ছিলেন

যিনি কোরআন সংকলন কমিটির প্রধান ছিলেন

জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)

জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করার আগেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১১ বছর। ইসলামগ্রহণের পর থেকেই কোরআন পড়া শুরু করেন। তাঁর মেধা ছিল অত্যন্ত প্রখর।

বিজ্ঞাপনরাসুল (সা.) হিজরত করে মদিনায় গেলে লোকজন তাঁকে রাসুল (সা.)-এর কাছে নিয়ে বলে, হে আল্লাহর রাসুল! এ বনু নাজ্জার গোত্রের বালক। সে আপনার ওপর নাজিল হওয়া ১৭টি সুরা হিফজ (মুখস্থ) করে নিয়েছে। অতঃপর তিনি তা রাসুল (সা.)-কে পড়ে শোনালেন। রাসুল (সা.) অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। অতঃপর বললেন, ‘তুমি ইহুদিদের লেখা শিখে নাও। ’ জায়েদ (রা.) বলেন, ‘আমি ১৫ দিনে তাতে দক্ষতা অর্জন করে ফেলি। ’ (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ২/৪২৮, ৪৩৩)

জায়েদ (রা.) ছিলেন রাসুল (সা.)-এর ওহির লেখক। কোনো আয়াত বা সুরা নাজিল হলে রাসুল (সা.) তাঁকে ডেকে তা লিখিয়ে নিতেন। তাই তিনি সদা দোয়াত-কলম নিয়ে প্রস্তুত থাকতেন। তা ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহদের কাছে রাসুল (সা.)-এর দাওয়াতি চিঠিপত্র লিখতেন এবং আগত পত্রগুলো রাসুল (সা.)-কে পড়ে শোনাতেন। আগত চিঠিগুলোর বেশির ভাগ ছিল সুরিয়ানি ও ইবরানি ভাষায়, যা সাধারণত মুসলমানরা জানত না। তা জানত ইহুদিরা। রাসুল (সা.) জায়েদ (রা.)-কে এই দুই ভাষা শিখে নিতে বলেন। তিনি মাত্র ১৫ দিনে ইবরানি ভাষা এবং ১৭ দিনে সুরিয়ানি ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। অতঃপর ওই সব ভাষায় চিঠি লিখতেন এবং আগত চিঠি পড়ে শোনাতেন। এভাবে তিনি রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁর লেখালেখির দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।

প্রথম ও তৃতীয় খলিফার তত্ত্বাবধানে কোরআন সংকলন

উমর ফারুক (রা.)-এর পরামর্শক্রমে আবু বকর (রা.) কোরআন সংকলনের গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য জায়েদ (রা.)-কে ডেকে পাঠান।

এই সংকলনে কুরাইশি ভাষারীতির বাধ্যবাধকতা করা হয়নি, বরং রাসুল (সা.)-এর যুগে কোরআন পাঠের ক্ষেত্রে যেসব গোত্রীয় (সাত) ভাষারীতির অনুসরণের (সাময়িক) অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা বহাল রাখা হয়েছে। তাই এই এডিশনের অনুলিপিকালে কেউ কেউ নিজ নিজ গোত্রীয় রীতির অনুসরণ করেছে। ফলে বিভিন্ন গোত্রীয় রীতিতে কোরআন পাকের বিভিন্ন পাঠ অব্যাহত থাকে।

এরপর তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)-এর খিলাফতের প্রথম দিকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান যুদ্ধ চলাকালে হিজাজ ও শামের বিভিন্ন গোত্রের মুসলমানদের মধ্যে কোরআন পাকের বিভিন্ন পঠনরীতি দেখে হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.) পুরো উম্মতকে কোরআন পাকের এক পাঠে বাধ্য করার জন্য খলিফাতুল মুসলিমিন উসমান (রা.)-কে পরামর্শ দেন। হুজাইফা (রা.)-এর পরামর্শক্রমে উসমান (রা.) ২৫ হিজরি সনে ৫০ হাজার সাহাবির বিশাল সম্মেলন ডেকে সবার সম্মতিক্রমে কুরাইশি ভাষায় কোরআনের চূড়ান্ত এডিশন তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সে জন্য তিনি চার সদস্যবিশিষ্ট পরিষদ—১. জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.); ২. আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.); ৩. সায়িদ ইবনে আস (রা.) এবং ৪. আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রা.)-কে দায়িত্ব দেন। তাঁরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিখুঁতভাবে এই মহতী কাজের আনজাম দেন। তৈরি হয় কোরআনের ফাইনাল এডিশন। (বুখারি ২/৭৪৫)

ওই এডিশনের ছয় মতান্তরে সাত কপি অনুলিপি প্রস্তুত করা হয়। এক কপি মদিনায় রেখে অবশিষ্ট কপির একেক কপি মক্কা, শাম, ইয়েমেন, বসরা ও কুফায়, কারো মতে সপ্তম কপি বাহরাইনে প্রেরণ করেন এবং তার হুবহু অনুকরণ করার জন্য মুসলিম জনসাধারণের প্রতি ফরমান জারি করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত এডিশনকে ‘মাসহাফে উসমানি’ বলা হয়। বর্তমান দুনিয়ার মুসলমানদের হাতে যে কোরআন আছে, তা সেই ‘মাসহাফে উসমানি’র অবিকল অনুলিপি, যা জায়েদ (রা.)-এর কঠোর সাধনার ফল। জায়েদ (রা.) ৪৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৫৬ বছর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments