Wednesday, December 6, 2023
spot_img
Homeধর্মযাদের আরশের কাছাকাছি বিশেষ সিংহাসন দেওয়া হবে

যাদের আরশের কাছাকাছি বিশেষ সিংহাসন দেওয়া হবে

পৃথিবীতে বেশির ভাগ মানুষ মানুষকে ভালোবাসে স্বার্থের জন্য। স্বার্থ শেষ, ভালোবাসাও শেষ। কিন্তু যাদের ভালোবাসা একমাত্র আল্লাহর জন্য হয়, তাদের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না। কারণ তাদের ভালোবাসায় কোনো চাওয়া-পাওয়া থাকে না, তারা ভালোবাসে শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আর ভালোবাসা পূর্ণতা পাওয়ার জন্য শর্তই হচ্ছে তা নিঃস্বার্থ হওয়া। মানুষের কল্যাণে কিছু করলেও তা একমাত্র আল্লাহর জন্য করা। যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষকে শুধু আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের কল্যাণে কাজ করে, মানুষের উপকার করে, রাসুল (সা.) তাদের পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসল, আল্লাহর জন্য কাউকে ঘৃণা করল, আল্লাহর জন্য কাউকে দান করল এবং আল্লাহর জন্য কাউকে দান করা থেকে বিরত থাকল, সে ব্যক্তি নিজ ঈমানকে পূর্ণতা দান করল।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৮১)

আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসলে যেমন ঈমানের পূর্ণাঙ্গতা পাওয়া যায়, তেমনি মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনও সহজ হয়ে যায়। কিয়ামতের দিন আল্লাহর জন্য একে অপরকে মহব্বতকারী ও সাক্ষাৎকারীদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। সেদিন তাদের রাজকীয় অভ্যর্থনা দেখে অন্যরা ঈর্ষা করবে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আরশের চারপাশে কতগুলো নুরের মিম্বর রয়েছে, যেগুলোর ওপর একদল লোক অবস্থান করবে, যাদের পোশাকে নুর এবং চেহারাতেও নুর, তারা নবী নন এবং শহীদও নন, তাদের প্রতি ঈর্ষা করবেন নবী ও শহীদরা। সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কাছে তাদের বিবরণ তুলে ধরুন; তখন তিনি বলেন, তারা হলেন আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে একে অন্যকে মহব্বতকারী, পরস্পর আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য বন্ধুত্ব স্থাপনকারী এবং আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারী।’ (সুনানে কুবরা লিন নাসায়ি)

মহান আল্লাহ সবার মনে অন্য মুমিনের প্রতি অকৃত্রিম ও পবিত্র ভালোবাসা দান করুন। সবাইকে কিয়ামতের দিনের সেই রাজকীয় সম্মাননার বিশেষ মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments