Monday, November 29, 2021
spot_img
Homeধর্মযাঁরা আল্লাহর ক্ষমা পাবেন

যাঁরা আল্লাহর ক্ষমা পাবেন

যারা নিজেদের সৎকর্মের কারণে আল্লাহর কাছে নিশ্চিত ক্ষমার অধিকারী হবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আত্মসমর্পণকারী পুরুষ ও নারী, বিশ্বাসী পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনম্র পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও নারী, যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে বেশি স্মরণকারী পুরুষ ও নারী এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান রেখেছেন।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৩৫)

মহান আল্লাহর দয়া, ক্ষমা, রহমত ও অনুগ্রহ প্রভৃতি সর্বজনবিদিত। তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং তাঁর কাছে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব মানুষ সমান ভালোবাসার পাত্র এবং সবার প্রতি তিনি সমানভাবে ক্ষমাশীল। মানুষ একান্তভাবেই আল্লাহর প্রিয় ও শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে ঘোষিত। তাদের মধ্যে আল্লাহ তাঁর মুমিন ও বিশ্বস্ত বান্দাদের ভালোবাসেন। সুতরাং ফেরেশতারাও আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় মানুষকে ভালোবাসে এবং তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে আল্লাহর কাছে মঙ্গল ও ক্ষমা প্রার্থনা করে। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে অনেক প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করে, তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সব কিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথে চলে তাদের ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদের দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদের দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, পতি-পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদের। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আর আপনি তাদের অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফল্য।’ (সুরা মুমিন, আয়াত : ৭-৯)

আল্লাহর কাছে ক্ষমা লাভের জন্য প্রিয় নবী (সা.)-এর আনুগত্য ও অনুসরণ অপরিহার্য। এর কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন ও তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)।

ক্ষমা প্রার্থনা অন্যতম ইবাদত। তবে এ ক্ষমা প্রার্থনা অবশ্যই অকৃত্রিম হতে হবে। যারা ক্ষমা প্রার্থনায় ও জীবনের কর্মকাণ্ডে আল্লাহর পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হবে তারাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাবে। আল্লাহ বলেন, ‘নভোমণ্ডল ও ভূখণ্ডের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল পরম মেহেরবান।’ (সুরা ফাতাহ, আয়াত : ১৪)

এ ক্ষমা আল্লাহর সন্তুষ্টি, ভালোবাসা ও করুণার বহিঃপ্রকাশ। যা সরাসরি জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে বাঁচার মাধ্যম। ক্ষমাপ্রাপ্ত ও ক্ষমাবঞ্চিত উভয় দলের পরিণতির বর্ণনা দিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ভাগ্যবান (ক্ষমাপ্রাপ্ত) তারা থাকবে জান্নাতে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে তত দিন পর্যন্ত, যত দিন আকাশ ও পৃথিবী থাকবে, যদি না তোমার রব অন্যরূপ ইচ্ছা করেন। এ এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।’ (সুরা হুদ, আয়াত : ৮)

যারা ক্ষমাবহির্ভূত তাদের সম্পর্কেও মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যারা হতভাগা হবে তারা জাহান্নামে থাকবে। সেখানে তারা চিৎকার ও আর্তনাদ করবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, যত দিন আসমান ও জমিন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার রব যদি অন্য কিছু চান। নিশ্চয়ই তোমার রব যা চান তা-ই করে থাকেন।’ (সুরা হুদ, আয়াত : ১০৬-১০৭)

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments