Saturday, April 20, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমোবাইলে খুদে বার্তা পাঠানোর ৩০ বছর

মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠানোর ৩০ বছর

মোবাইলে প্রথম খুদে বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল ৩০ বছর আগে। ১৯৯২ সালের ৩ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারের একজন ভোডাফোন প্রকৌশলী নিল প্যাপওয়ার্থ পরীক্ষামূলকভাবে একটি বার্তা মোবাইল ফোনে প্রেরণ করেন। আর সেটি ছিল—‘মেরি ক্রিসমাস’। আর এটি পাঠানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানেরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রিচার্ড জার্ভিসের কাছে।

ভদ্রলোক তখন একটি ক্রিসমাস পার্টিতে ছিলেন। তবে বার্তাটির কোনো উত্তর পাননি প্যাপওয়ার্থ। সেই থেকে শুরু খুদে বার্তা পাঠানোর প্রচলন। এখন তো ফোন ব্যবহারকারীরা প্রতিবছর কোটি কোটি এসএমএস বা সংক্ষিপ্ত বার্তা পরিষেবার মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করে থাকে। এসএমএস সার্ভিসটি এখনো ব্যবহার করা হলেও, ইন্টারনেটভিত্তিক এনক্রিপ্ট করা মেসেজিং প্ল্যাটফরম ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ দিন দিন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্ট্যাটিস্টার রিপোর্ট অনুসারে শুধু যুক্তরাজ্যেই ২০১২ সালে ১৫ হাজার কোটি এসএমএস বার্তা পাঠানো হয়েছিল। এসএমএস বার্তাগুলো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্ট করা হয় না। ফলে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয় না। ফলে ২০১২ সালের পরিসংখ্যানটা ২০২১ সালে কমে চার হাজার কোটিতে এসে দাঁড়ায়।

২০১০ সালে ‘টেক্সটিং’ শব্দটি অভিধানে জায়গা করে নেয়। মূলত এসএমএস শুধু টেক্সট হতে পারে এবং অক্ষরসংখ্যা হবে ১৬০টি পর্যন্ত। এই ধারণাটি ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে প্রচলিত হলেছিল, যা মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানোর ১০ বছর আগের কথা। শুরুর দিকের বেশির ভাগ ফোনেই তখন সাংখ্যিক কি-বোর্ড ছিল। প্রতিটি নম্বরের সঙ্গে দুটি বা তিনটি অক্ষর সংযুক্ত ছিল। ধরুন, আপনি ডি টাইপ করতে চান। তখন আপনাকে ওই বাটনটি চারবার চাপতে হতো। এ বিষয়ে সালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিকমিউনিকেশনের অধ্যাপক নাইজেল লিং বলেন, ‘হ্যান্ডসেট নির্মাতারা সঠিক কোয়ার্টি কি-বোর্ড অন্তর্ভুক্ত করেনি বলেই এমনটি করতে হয়েছে। তখন মোবাইলগুলো শুধু টেলিফোন কল করার জন্য এবং বার্তা গ্রহণ করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। এসএমএস পাঠানোর জন্য নয়। ’ সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড কিভাবে বার্তা পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে হয় সেই সম্পর্কে প্রশিক্ষণ সেশন করিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ‘বার্তা পাঠানোর শুরুর সময়টা বেশ জনপ্রিয় ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে ওই সময়ের ব্যবহারকারীরা ফোনে টেক্সট এত দ্রুত করতে পারত যে তারা একটি সংখ্যাসূচক কি-বোর্ডে প্রায় টাচ-টাইপ কি-বোর্ডের মতো করে ব্যবহার করতে পারত। আজকাল লোকেরা কথা বলার চেয়ে তাদের ফোনের দিকে তাকিয়ে বেশি সময় ব্যয় করে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments