Friday, May 24, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামমোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। প্রতিদিন সংবাদপত্রের একটি বিশেষ স্থানে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার যুগান্তরে দেশের ছয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজনের প্রাণহানির খবর ছাপা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। নিহতদের একজন রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া পিরোজপুর-বাগেরহাট মহাসড়কের শিবপুরে বাসের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহী। যুগান্তরে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলটি বাসটির সামনের অংশ ভেঙে এর তলায় ঢুকে পড়েছে। এদিকে শেরপুর শহরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন প্রকৌশলী। এসব তথ্য বলে দিচ্ছে, সড়ক-মহাসড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোর একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ বলছে, সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪১৭ জন, যাদের মধ্যে ১৭২ জন প্রাণ হারিয়েছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এটি মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৩ শতাংশ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া চালনা, মাত্রাতিরিক্ত গতি, আইন না মানা এবং চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকা। রাজধানী ঢাকায় এ প্রবণতা বেশি দৃশ্যমান। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালকরা ঘনঘন লেন পরিবর্তন করেন, এমনকি কোনো কোনো সময় বাইক ফুটপাতের ওপর উঠিয়ে দেন। অর্থাৎ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকদের বেপরোয়াপনা। এ কারণে মোটরসাইকেলচালকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানাতে হবে। সবচেয়ে যা জরুরি তা হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনিটরিং। চালক বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালালেই তাকে থামিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর একটি বড় কারণ হেলমেট না থাকা কিংবা নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহার করা। তাই শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও চালক ও আরোহীর ভালো মানের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মোটরসাইকেল চালানোর জন্য সড়কে আলাদা কোনো লেন নেই। ফলে চালককে বিশৃঙ্খলভাবে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যায়। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ করতে পারলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে সন্দেহ নেই। তাই মোটরসাইকেলচালকদের মোটিভেশনেরও দরকার আছে। আর তা হতে পরে পরিবারের ভেতরেই। পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি মোটরসাইকেল চালক সদস্যকে সাবধানে চালানোর দীক্ষা দিতে পারেন, তাহলে তা দুর্ঘটনা রোধে বড় সহায়ক হবে বলে মনে করি আমরা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments