Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeধর্মমাহে রমজানে মরক্কোর ঐতিহ্য

মাহে রমজানে মরক্কোর ঐতিহ্য

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে রমজান উদযাপিত হয় বর্ণিল সব আয়োজনে। যার একদিকে থাকে ইবাদত ও আধ্যাত্মিকতা, অন্যদিকে নির্মল উৎসবের আবহ। মরক্কোর মুসলিমরা এসব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে আসছে। রমজানের এমন পাঁচটি ঐতিহ্য নিম্নে তুলে ধরা হলো—

১. পূর্বপ্রস্তুতি : রমজান মাস আসার আগেই মরক্কোর মুসলিমরা রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

যেমন ১০ দিন আগেই পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আনা হয়। ঘরবাড়ি ও মসজিদ পরিষ্কার করা হয়।২. তোপধ্বনি দেওয়া : রমজান আগমনের পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তোপধ্বনি দিয়ে পবিত্র এই মাসকে স্বাগত জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে চাঁদ দেখার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং মসজিদগুলোতে সাইরেন বাজানো হয়।

৩. ঐতিহ্যবাহী খাবার গ্রহণ : মরক্কোর মুসলিমরা রমজানে ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়ে থাকে। ইফতারে মরক্কোর মুসলিমরা স্যান্ডউইচ, চিপসের সঙ্গে সুস্বাদু হারিরা স্যুপ, মধুযুক্ত পিঠা চেবাকিয়া খেতে পছন্দ করে। তারা হাতে তৈরি মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পিঠা দিয়ে দস্তরখান সাজাতে ভালোবাসে। পিঠার মধ্যে আছে ব্রিওয়াত, বাগরির, মুসমেন ইত্যাদি।

তবে বর্তমানে খাদ্যপণ্যের কম্পানিগুলো রমজানের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো বিক্রি করে।৪. ইসলামী সংগীত শোনা : মরক্কোর মুসলিমরা রমজান মাসকে ইসলামী সংগীত ও সাহিত্য চর্চার মাস বলে। তারা এ সময় ঐতিহ্যবাহী সংগীত আমদাহ শোনে। আমদাহ হলো স্তুতি ও ভক্তিমূলক সংগীত, যা প্রধানত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রশংসায় রচিত হয়, বিশেষ করে মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রশংসায় রচিত মুসলিম স্পেনে সৃষ্ট সংগীতগুলো শোনে। চার শ বছর ধরে রমজানে সংগীতচর্চার এই ধারা চলমান আছে।

প্রতিদিন ইফতারের আগে মরক্কোর জাতীয় টেলিভিশনে আমদাহ ও আন্দালুসিয়ান (মুসলিম স্পেন) সংগীত সম্প্রচার করা হয়।ধর্মীয় সংগীত মরক্কোর শিল্প-সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ধর্মীয় দিবস ও উৎসবের দিনগুলোতে মুসলিম আন্দালুসিয়ান সংগীতগুলো শ্রবণ করে। যেমন—ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ইত্যাদি।

৫. ঐতিহ্যবাহী পোশাক

পরিধান : রমজানে মরক্কোর মুসলিমরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক আবায়া ও জেল্লাবা পরিধান করে। দুটিই আলখাল্লাজাতীয় লম্বা পোশাক। রমজানে সব বয়সের নারী ও পুরুষ জেল্লাবা পরিধান করে। কেননা জেল্লাবা খুবই আরামদায়ক পোশাক এবং তা পরে নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগি করা সহজ। যদিও তরুণ প্রজন্ম খুব একটা জেল্লাবা পরিধান করে না, কিন্তু রমজানে সব বয়সীরা তা পরিধান করতে ভালোবাসে।

৬. পারিবারিক সাক্ষাৎ : রমজানকে পারিবারিক সাক্ষাৎ ও বন্ধন সুদৃঢ় করার সুযোগ হিসেবে দেখে মরক্কোর মুসলিমরা। তাদের একটি বিশেষ রীতি হলো আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ইফতার করা। তারা রমজানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ইফতারসামগ্রী পাঠায় এবং তাদের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর এই রীতি কিছুটা ম্লান হতে শুরু করেছে।

৭. ধর্মীয় আলোচনাসভা : ইফতারের পর তারাবির আগে মরক্কোর মসজিদগুলোতে ধর্মীয় আলোচনা হয়। মরক্কোর মুসলিমরা ইফতারের পর দ্রুত মসজিদে হাজির হয় এবং ধর্মীয় আলোচনা ও তারাবির পর ঘরে ফেরে। মসজিদ থেকে আসা-যাওয়ার পথে তারা অসহায় মানুষকে দান করে। এ ছাড়া রমজানে জনসেবামূলক কাজ করতে ভালোবাসে মরক্কোর মুসলিমরা।

তথ্যসূত্র : ব্লু ডোর ও মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments