দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনার রহস্যের জোট খোলেনি। রহস্য উদ্ঘাটনে নেমেছে বিভিন্ন সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) ছাড়াও র‌্যাব, পিবিআই, সিআইডিও মাঠে রয়েছে। ঘটনার ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো বিষয় জড়িত কিনা, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে থাকা চার আসামি ছাড়াও সরকারি কর্মচারীসহ আরও অন্তত ২৫ জনকে ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

ইউএনও ওপর হামলার ঘটনায় প্রথমে আসাদুল, পরে মালি রবিউলের নাম আসায় প্রশ্ন উঠেছে। র‌্যাব প্রাথমিক অবস্থায় আসাদুলকে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করলেও পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা ঘটনার অষ্টম দিনে জানায়, মূল হামলাকারী ইউএনও অফিসের মালি রবিউল। এ অবস্থায় ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ডকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা ঘটনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর রংপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব দাবি করে, প্রাথমিক তদন্তে আসাদুল নিজেই এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আট দিনের মাথায় গত শনিবার পুলিশ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত কর্মচারী রবিউল ইসলামই ইউএনওর ওপর হামলা চালিয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে প্রথম দিকে ওয়াহিদা খানমের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে রবিউলকে সাময়িক বরখাস্ত করেন জেলা প্রশাসক। পরে গত ১ আগস্ট তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ কারণে হতাশা আর ক্ষোভে ইউএনওর ওপরে রবিউল হামলা চালাতে পারে। এদিকে রবিউলের মা, ভাই ও ভাবিসহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সঙ্গে রবিউলের সম্পৃক্ততা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

ইউএনওর ওপর হামলার এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একেক সময় একেক রকম তথ্য মেনে নিতে পারছে না দিনাজপুরের নাগরিক সমাজ। বিষয়টির অধিকতর তদন্তে আসল মাস্টারমাইন্ডকে খুঁজে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী কানিজ রহমান।

৩ সেপ্টম্বর ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ২৫ জনের অধিক ব্যক্তিকে। সবশেষ রবিউল ইসলাম নামে ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত এক কর্মচারীকে একমাত্র জড়িত বলে দাবি করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English