Saturday, April 20, 2024
spot_img
Homeজাতীয়মারধরের কথা জানালে আবরারের অবস্থা হবে

মারধরের কথা জানালে আবরারের অবস্থা হবে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন মতিহার হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহা। এ ছাড়া মারধরের ঘটনা সাংবাদিক ও পুলিশকে জানালে তার অবস্থা বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মতো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। শিবির বলে তাকে পিটিয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মতিহার হলের ১৩২নং রুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সামসুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে ভাস্কর নানাভাবে নির্যাতন করেন। অভিযুক্ত ভাস্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী।

মতিহার হলের তৃতীয় ব্লকের ১৫৯নং রুমে থাকেন নারায়ণগঞ্জের সামসুল। পাশাপাশি তিনি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করেন। ১৫ আগস্ট তাকে ফোন দিয়ে ১২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন ভাস্কর। ৫ হাজার টাকা দিতে চাইলে শুক্রবার রুমে ডেকে নিয়ে সামসুলকে অতিরিক্ত টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়। এত টাকা দিতে পারবে না বলায় তার গলায় ছুরি ধরে এবং রড ও স্ট্যাম্প দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বেধড়ক পেটায় ভাস্কর। বেলা ৩ থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

সামসুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, আমার পরিবার খুবই গরিব। মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ের কাজ করে পরিবারের দেখাশোনা করি। হলে সার্ভিসিংয়ের কাজ করায় ছাত্রলীগ নেতা চাঁদা দাবি করলে আমি ৫ হাজার টাকা দিতে চাই। ৫ হাজার টাকা হবে না বলে রুমে ডেকে নিয়ে তিনি আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এর বিচার চাই বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা ভাস্কর সাহা বলেন, আমাকে ফাঁসাতে এমনটা করা হচ্ছে। কারও ইন্ধনে এমনটা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, এ বিষয়ে মাত্র অবগত হলাম। খোঁজ নিচ্ছি। সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেওয়া এক ধরনের অপরাধ। তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাবি প্রক্টর প্রফেসর ড. আসাবুল হকও একই কথা বলেন। মতিহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এবং তড়িৎ ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আরিফুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন-সহকারী প্রক্টর ও ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল মামুন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জহুরুল আনিস।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments