Monday, November 28, 2022
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমানবজাতিকে কি ধ্বংস করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মানবজাতিকে কি ধ্বংস করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটাতে পারে—নিজেদের গবেষণাপত্রে এমনটাই দাবি করেছেন অক্সফোর্ড এবং গুগল বিজ্ঞানীরা। গবেষণাপত্র অনুযায়ী তাঁরা আরো দাবি করেছেন, প্রয়োজনে পৃথিবীর দুর্লভ সম্পদের জন্য মানুষের সঙ্গে লড়াই করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

মানবসভ্যতার পতন ঘটাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এমনটাই বলছেন এআই গবেষক ও বিশ্লেষকরা। সদ্য প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে কিভাবে মানুষের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতায় নামবে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদলটিতে ছিলেন গুগল ডিপমাইন্ড প্রজেক্টের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মার্কাস হাটার এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাইকেল কোহেন ও মাইকেল ওসবর্ন। গবেষণাপত্রটি জার্নাল এআই ম্যাগাজিনে প্রকাশ করা হয়েছে।

সেখানে তাঁরা দাবি করেছেন, পৃথিবীতে শক্তির উৎস রয়েছে হাতে গোনা কয়টি, একই সঙ্গে মানবসভ্যতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দুটিকেই উৎসগুলো সমানভাবে টিকিয়ে রাখতে পারবে না। তখন দুই পক্ষ শক্তির উৎস, যেমন—সোলার পাওয়ার প্লান্ট বা গ্যাসক্ষেত্র দখলের লড়াইতে নামবে। আর বড়সড় সম্ভাবনা রয়েছে যন্ত্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে মানুষ তাদের পরাস্ত করতে পারবে না। কেননা মানবজাতির বেশির ভাগ দুর্বলতাকে কাটিয়ে ওঠার জন্যই মেশিনগুলো তৈরি করা হয়েছে। মেশিনগুলো মানুষকে সহজেই কাবু করতে পারবে, কিন্তু তার উল্টোটা করা হবে কঠিন।

গবেষণাপত্রটিতে গত কয়েক দশকে তৈরি হরেক ধরনের সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশন সিনেমার কথা মনে হতেই পারে। তার মধ্যে ‘দ্য মেট্রিক্স’ অন্যতম। সিনেমাটির মূল পটভূমিই ছিল সৌরশক্তির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মানুষের যুদ্ধ নিয়ে। এ ছাড়া বেশ কিছু পুরনো সায়েন্স ফিকশন নভেলের মধ্যেও এ ধরনের সংঘাতের কথা লেখা হয়েছে অনেকবার। স্বজ্ঞানে সিদ্ধান্ত নিতে এবং নিজের সত্তাকে বুঝতে সক্ষম এমন সেন্টিয়েন্ট এআই এখনো আবিষ্কার হয়নি, তাই পুরো গবেষণাটিকেই অপ্রয়োজনীয় এবং কল্পনাপ্রসূত বলেছেন বেশ কিছু নেটিজেন। রেডিটের মতো ফোরাম বা নিজস্ব ব্লগে অনেকেই বলেছেন, সায়েন্স ফিকশন নিয়ে অতিরিক্ত চর্চারই ফসল এমন গবেষণা, যেখানে পরিপূর্ণ এআই তৈরি সম্ভব কি না সেটাই প্রমাণিত নয়।

তবে অল্প কিছুদিন আগেই গুগলের ডিপমাইন্ড এআই প্রজেক্টের ইঞ্জিনিয়ার ব্লেক লিময়েন দাবি করেছিলেন, তাঁদের তৈরি এআই এর মধ্যেই পাঁচ থেকে সাত বছরের শিশুর মতো আচরণ করছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা বেশ কিছু পোস্টে বলেছিলেন, গুগল বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তাঁর কাছে প্রমাণ রয়েছে যে ডিপমাইন্ড এর মধ্যেই সেন্টিয়েন্ট হয়ে গেছে এবং নিজ থেকে চিন্তা করা শুরুও করে দিয়েছে।

গুগল অবশ্য তাঁর দাবিগুলো অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন—এই মর্মে প্রেস রিলিজ প্রকাশ করেছে। আর ব্লেক লিময়েনকে প্রথমে সাসপেন্ড করে, পরে তাঁকে সরাসরি চাকরি থেকেই অব্যাহতি দিয়েছে। ওই সময় এআই প্রযুক্তি বিশ্লেষকরাও বলেছেন, বর্তমান প্রযুক্তিতে সেন্টিয়েন্ট এআই তৈরি সম্ভব নয়। কিন্তু গুগলের ডিপমাইন্ড নতুন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করছে কি না সেটা যাচাই করারও অবশ্য উপায় নেই।

এআই তৈরি করা হলে তার ওপর মানুষ বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা দেবে—সেটাই তাঁরা ধরে নিয়েছেন। এর মধ্যে ‘কোনো অবস্থায়ই মানুষের ক্ষতি সরাসরি’— আইনটি এআইর মধ্যে কঠিনভাবে প্রগ্রাম করে দেওয়া হবে। এর পরও একসময় দেখা যাবে এআই তার নিজের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির প্রশ্নে পুরো মানবজাতিকেই শত্রু হিসেবে ধরে নেবে। গবেষকরা বলছেন, এমনটাই ঘটবে, সেটা সরাসরি বলা না গেলেও ঘটার আশঙ্কা প্রবল। মানুষ নিজেদের মধ্যেই প্রয়োজনীয় রিসোর্সের জন্য চিরদিনই লড়াই করে আসছে, সেই যুদ্ধে তার সৃষ্টিও অংশ নেবে—এই ভাবনটা উড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments