Monday, November 28, 2022
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমাংকি আইল্যান্ডে প্রত্যাবর্তন

মাংকি আইল্যান্ডে প্রত্যাবর্তন

কম্পিউটার গেমিংয়ের শুরু থেকে মাংকি আইল্যান্ড ফ্র্যাঞ্চাইজির নামটি জড়িয়ে আছে। ওই সময়ের কম্পিউটারগুলোর পক্ষে টুডি এনিমেশন দেখানোই ছিল কষ্টকর, পয়েন্ট অ্যান্ড ক্লিক পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল বেশির ভাগ গেম। তার পরও ওই সময় তৈরি মাংকি আইল্যান্ড গেমগুলো এখনো গেমারদের মধ্যে সমাদৃত শুধু তার কাহিনি এবং ধাঁধার জন্য। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কয়েক যুগ ধরে মুলতবি থাকায় বর্তমান গেমারদের কাছে একেবারে অপরিচিতই বলা যায়।

নির্মাতা টেরিবল টয়বক্স চাইলেই আধুনিক হাইডেফিনেশন গ্রাফিকসভিত্তিক অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার আকারে নতুন গেমটি তৈরি করতে পারত, তার বদলে গেমটি আগের মতোই পয়েন্ট অ্যান্ড ক্লিক পাজল অ্যাডভেঞ্চার ফরম্যাটেই রাখা হয়েছে। পুরনো গেমারদের নস্টালজিয়া আর নতুনদের রেট্রো গেমের প্রতি আকর্ষণকে লক্ষ্য করেই কাজ করেছে তারা, বলা যায়।

গেমটির কাহিনি একদম মাংকি আইল্যান্ড ২-এর পর থেকেই শুরু। মূল চরিত্র গাইব্রাশ তার ছেলে বয়ব্রাশকে তার অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনি শোনাতে শুরু করে। সেই কাহিনিটাই গাইব্রাশকে নিয়ে খেলার মধ্য দিয়ে জানতে পারবে গেমার। মাংকি আইল্যান্ড ২-এর শেষে জম্বি পাইরেট লেচাকের কাছ থেকে মাংকি আইল্যান্ডের গোপন রহস্যের ম্যাপ পেয়ে যায় গাইব্রাশ। সঙ্গে সঙ্গে সে মেলি আইল্যান্ডে ছুটে আসে ক্রু জোগাড় করে দ্রুত সেই ম্যাপ অনুযায়ী রওনা দেওয়ার জন্য। কিন্তু নতুন তিন পাইরেট লিডার তাকে সাহায্য করতে নারাজ। উপায় না দেখে গাইব্রাশ নিজেকে জম্বি সাজিয়ে লেচাকের সঙ্গেই বেরিয়ে পড়ে। যাত্রাপথে নানা ধরনের ধাঁধার মুখে পড়ে গাইব্রাশ, তার সঙ্গে বেশ কিছু মানুষ বিশ্বাসঘাতকতাও করে। বহু বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে মাংকি আইল্যান্ডের গোপন রহস্য খুঁজে পায় ঠিকই গাইব্রাশ। কিন্তু তার পরও রয়ে যায় বেশ কিছু প্রশ্ন, যার উত্তর অবশ্য আছে গেমের মধ্যেই। মূল বিষয়, গেমটি একবার খেলে পুরো মজা পাওয়া যাবে না।

নতুন গেমটি আগেরগুলোর মতো খুব কঠিন নয়। স্ক্রিনের প্রতিটি জিনিসের ওপর কার্সর রাখলেই গেমারকে দেখানো হবে কী কী করা যেতে পারে সেই জিনিসটি নিয়ে বা গাইব্রাশ কী করার চিন্তা করছে। ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টও করা হয়েছে সহজ, যাতে নতুন গেমাররা দ্রুত অভ্যস্ত হয়। পুরো গেমটিই ট্রেজার আইল্যান্ড, গিলিগান্স আইল্যান্ড বা পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ানের মতো গুপ্তধন আর জলদস্যুদের কাহিনিকে কটাক্ষ করে বা স্যাটায়ার হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যারা এ ঘরানার ভক্ত বা পুরনো গেমগুলোর প্রতি নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত, তাদের কাছে খুবই ভালো লাগবে। কিন্তু নতুনদের কাছে এই পুরনো ফরম্যাটের গেমপ্লে অত ভালো না-ও লাগতে পারে। তবে যারা টাচ স্ক্রিনে গেমটি খেলতে পারবে, তাদের অভিজ্ঞতা হবে সবার চেয়ে আলাদা।

গেমটির গ্রাফিকস পুরনো ধাঁচের, যে কারণে খেলার জন্য তেমন শক্তিশালী পিসি লাগবে না। পিসি ছাড়াও বেশ কিছু কনসোল এবং নিন্টেন্ডো সুইচ ডিভাইসেও খেলা যাবে। খেলতে পারবে প্রায় সবাই, কিন্তু ধাঁধা একেবারে ছোটদের জন্য কঠিন হতে পারে। তবে ধাঁধা সহজ করে খেলারও সিস্টেম রাখা হয়েছে।

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত কোয়াডকোর সিপিউ, ৮ গিগাবাইট র‌্যাম, রেডিয়ন ৭৭৫০ ১ গিগাবাইট বা এনভিডিয়া জিটি ৬৪০ ১ গিগাবাইট জিপিউ এবং ৪ গিগাবাইট জায়গা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments