করোনা মহামারি ইতোমধ্যে গত বছর ভারতের অর্থনীতিতে মারাত্মক ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতীয় লকডাউনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর থেকে চাপ কমানো। কিন্তু এটি দেশটির অর্থনীতিকে ২৪ শতাংশ সংকোচনে ফেলে দেয়, যা কাজের অভাবের জন্য শহরে আসা লাখ লাখ অভিবাসী দিনমজুরকে শহরগুলি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে।
গত সপ্তাহে ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের তীব্রতা বিশ্বের কাছে স্পষ্ট হওয়ার সাথে সাথে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা শীঘ্রই ভারতের জাতীয় বিপর্যয়ের কৌশলগত প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেন। বাইডেন প্রশাসন স্পষ্টভাবে ভারতের সঙ্কটের মাত্রাকে বৈশ্বিক সঙ্কট হিসেবে অভিহিত করেছে। কারণ করোনার ধ্বংযজ্ঞ কারণ শুধুমাত্র ১.৩ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের দেশ ভারতের সীমানার মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে না। করোনার নতুন স্ট্রেন ভারতের বাইরে মানুষদের স্বাস্থ্য হুমকিকেও আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং বৈশি^ক অর্থনীতি এর পরিণতি অনুসরণ করবে। দেশটির বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বিশ্ব বাণিজ্য ও বিনিয়োগকেও ক্ষতিগ্রস্থ করবে।
করোনা বিপর্যস্ত ভারতের ভ‚-রাজনৈতিক প্রভাবগুলি অবশ্যই নতুন বাইডেন প্রশাসনে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। সেকারণে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে ভারতের পাশে দাড়িয়েছে। ভারতের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও আশা করা হচ্ছে যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে না। তবে, বাস্তবতা হ›ল এই যে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার আগে ইতোমধ্যেই চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘাত নিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা করোনারভাইরাস থেকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপজ্জনক হুমকির মুখোমুখি।
নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট বাইডেনের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাগণ বেইজিংয়ের সাথে প্রতিযোগিতার মার্কিন কৌশল হিসাবে নয়া দিল্লির সাথে দ্রæত ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব লক্ষ্য নির্ধারণ করে। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট বাইডেন কোয়াড এর ভার্চুয়াল ‘লিডার্স সামিট’ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন এবং তারপর মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিনের ৩ দিনের ভারত সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এবং আঞ্চলিকভাবে ভারতের গূরুত্বকে তুলে ধরে।
এদিকে, ভারত ও চীনের সম্পর্কের অবনতির অনেক কারণ উহ্য রয়ে গেছে। ২০২১ সালের গোড়ার দিকে হিমালয়ের সীমান্ত সংঘাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উভয় পক্ষ কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে তাদের দ্বিপাক্ষিক সামরিক সংলাপ কোনও প্রকার অগ্রগতি ছাড়াই স্থবির হয়ে গেছে। বেইজিং যদি ভারতের চলমান বিপর্যয়ের আঞ্চলিক সুবিধা গ্রহণ করতে চায়, তবে একাধিক সঙ্কটের সংমিশ্রণ নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল করে তুলবে এবং নীতিগত ভুলের সম্ভাব্যতা এবং অন্যথায় এড়ানো সক্ষম সশস্ত্র সংঘাতকে বাড়িয়ে তুলবে। সূত্র : কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English