Wednesday, July 17, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামভিডিও সাইটে অশ্লীল কনটেন্ট: অসাধু চক্রের অপতৎপরতা রোধে পদক্ষেপ নিন

ভিডিও সাইটে অশ্লীল কনটেন্ট: অসাধু চক্রের অপতৎপরতা রোধে পদক্ষেপ নিন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং সাইটে অশ্লীল ও অশোভন কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অহরহ। মূলত অর্থ উপার্জনের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি শর্ট ফিল্ম, নাটক, কৌতুক, কল রেকর্ড ও বিভিন্ন কথোপকথনের চ্যাটিংয়ের নামে অশ্লীল ও অশোভন কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব সাইট সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অনুঘটক হিসাবে কাজ করছে, যা রোধ করা জরুরি।

উলে­খ্য, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নিখাদ বিনোদনমাধ্যম হিসাবে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি সাইটের সঙ্গে পরিচিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের একটি অংশ আয়ের মাধ্যম হিসাবে সাইটগুলো বেছে নিয়েছে।

সাধারণত ইতিহাস, রাজনীতি, ভ্রমণ, সংবাদ, স্বাস্থ্য, গেম, বিষয় সমালোচনা, আলোচিত ঘটনা, রান্না, বাগান পরিচর্যাসহ অসংখ্য বিষয়ে তৈরি করা এসব ভিডিও কৌত‚হলীরা উপভোগ করে থাকেন। আর এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অর্থলোলুপ অসাধু চক্র সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা শক্ত হাতে রোধ করা প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবন দিন দিন অনলাইননির্ভর হয়ে পড়ছে। কেনাকাটা, ব্যাংকিং লেনদেন থেকে শুরু করে একান্ত গোপনীয় ব্যক্তিগত তথ্য-সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং অন্যান্য ডিভাইসে স্থান পাচ্ছে। ফলে একে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপরাধও পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। দেশেও ক্রমান্বয়ে পর্নোগ্রাফি, ফেসবুক-ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ চুরিসহ নানা অপরাধ বাড়ছে।

এ অবস্থায় ইন্টারনেট সংক্রান্ত অপরাধ রোধে সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। তবে কেবল সচেতনতা তৈরিই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর আইন ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। সাইবার ক্রাইম ইউনিট নামে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি ইউনিট আছে বটে, তবে এর জনবল অপ্রতুল। যে হারে সাইবার অপরাধ বাড়ছে এবং মানুষ যে হারে ইন্টারনেটনির্ভর হচ্ছে, সে তুলনায় এ জনবল একেবারেই নগণ্য।

অশ্লীল ও অশোভন কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গের মাধ্যমে মানুষের জীবন বিষিয়ে তোলার কাজে লিপ্ত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সচেতনতা তৈরি জরুরি হলেও এক্ষেত্রে আমাদের সীমাবদ্ধ রয়েছে। আমরা মনে করি, সব ধরনের অপরাধ তো বটেই, একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক সাজার বিকল্প নেই।

এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের হাতে অ্যান্ড্রয়েডসহ দামি ডিভাইস তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সবার সচেতনতা, কঠোর আইন ও এর কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে দেশবাসীর সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, এটাই প্রত্যাশা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments