Monday, May 16, 2022
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকভারতের কাছে বড় লজ্জা !

ভারতের কাছে বড় লজ্জা !

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে তথ্যকে অস্ত্র করা যেতে পারে। আবার তথ্যের অনুপস্থিতিও একইভাবে কার্যকরী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। সুপ্রিম কোর্টে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি থেকে এটি স্পষ্ট যে, ক্ষুধায় মারা যাওয়া ভারতীয়দের সংখ্যার কোনো তথ্য নেই কেন্দ্রের কাছে। সম্প্রতি আদালতের সামনে পুরানো পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে গতবছর খাদ্যের অভাবে নাকি একটি মাত্র প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রের এই দাবি অগ্রহণযোগ্য। ২০২১ এর গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স – এর তথ্য অনুযায়ী, ১১৬ টি দেশের মধ্যে ভারত ১০১তম স্থানে এমনকি পাকিস্তান, নেপাল এবং বাংলাদেশের পেছনে।
সর্বোচ্চ আদালতে তথ্য-সংগ্রহের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছে ভারত সরকার। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স- এর পদ্ধতিকে না মানার জন্য আদালতের ভৎসনার মুখে পড়েছে সরকার।

উল্লেখযোগ্যভাবে, জাতীয় নমুনা জরিপ অফিস দ্বারা সংগৃহীত পরিসংখ্যান বিবেচনায় নেয়া হলে, ভারতের ফল আরও খারাপ হতে পারে।আদালত, সরকারের বিপরীতে আরও কঠিন অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাসঙ্গিক পরিসংখ্যান জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দেশে ক্ষুধা ও অপুষ্টি কমাতে দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিউনিটি কিচেন তৈরির প্রকল্পের ওপর জোর দিয়েছে। এটি মোটেই খুব একটা কঠিন কাজ নয়। ভারতের ক্ষুধার প্রধান কারণগুলি সম্পর্কে অনেকেই সুপরিচিত।

সর্বশেষ অক্সফাম রিপোর্ট অনুযায়ী  দেশে বৈষম্য গভীরতর হচ্ছে। পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে গলদ, দারিদ্র্য, কৃষি সঙ্কট এবং জলবায়ু-পরিবর্তন-জনিত কারণগুলো প্রায়শই তুলে ধরা হয় নানা বক্তৃতা , আলোচনায় । মহামারীর কারণে স্কুল বন্ধ হওয়ার জেরে মিড-ডে মিল প্রোগ্রামও ভীষণভাবে বাধা পেয়েছে। অন্যান্য কিছু চ্যালেঞ্জও আছে যা খুব একটা সামনে আনা হচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু। যার জন্য দায়ী আমলাতন্ত্রের প্রভাব এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে তাদের হস্তক্ষেপ । যেমন ঝাড়খণ্ডে অনাহারে মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যের খাদ্য অধিকার কর্মীরা সুবিধাভোগীদের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে। তাদের দাবি এক শ্রেণির মানুষ আধারের সাথে রেশন কার্ড লিংক করতে বাধা দিচ্ছে যার জেরে মানুষ সঠিক সময়ে রেশন পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে কমিউনিটি কিচেনের মত প্রকল্প সমস্যা সমাধানের একটি উপায় হতে পারে। প্রতিটি কারণকে চিহ্নিত করতে হবে এবং ধরে ধরে তার সমাধান করতে হবে। ভারত এমন একটি দেশ যেখানে ক্ষুধার কবলে জর্জরিত মানুষদের সাথে অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। অবিলম্বে সরকারের উদাসীনতা থেকে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতির দিকে নজর দেবার আবেদন করেছেন দেশের বিদ্যজনেরা।

সূত্র : telegraphindia.com

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments