Thursday, February 22, 2024
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকব্রিটেনের পরবর্তী রানি ক্যামিলা

ব্রিটেনের পরবর্তী রানি ক্যামিলা

১৯৭৩ সালে ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা অ্যান্ডরু বোলসের সঙ্গে বিয়ে হয় ক্যামিলার। দুই বছর পর ১৯৭৫ সালেই বিচ্ছেদ হয় দু’জনের

ছেলে প্রিন্স চার্লস রাজা হবেন। আর পুত্রবধূ ক্যামিলা পার্কার হবেন রানি। এমনটাই চান ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

শনিবার সিংহাসনে আরোহণের ৭০তম বার্ষিকী ‘প্লাটিনাম জুবিলি’ উপলক্ষ্যে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

জানান, তার একান্ত ইচ্ছে, তার মৃত্যুর পর ছেলে রাজা হলে পুত্রবধূ ক্যামিলা রানি হবেন। সে ক্ষেত্রে তার পরিচিতি হবে ‘কুইন কনসর্ট’ হিসাবে।

১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ২৫ বছর বয়সে রানি হিসাবে সিংহাসনে আরোহণ করেন এলিজাবেথ।

ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের শাসক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বর্তমানে ৯৫ বছর বয়সি এই নারী।

তিনি হয়তো আর বেশি দিন সিংহাসনে থাকবেন না। তার মৃত্যুর পর বড় ছেলে প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লসই হবেন তার উত্তরাধিকারী।

তাহলে পুত্রবধূ ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলার পদ কি হবে-বহু আগে থেকেই ছিল এমন প্রশ্ন।

সিংহাসন আরোহণের ৭০তম বার্ষিকীতে সেই বিষয়টিতেই আলোকপাত করেছেন রানি এলিজাবেথ।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সময় হলে আমার ছেলে চার্লসই রাজা হবেন। আমি জানি, আপনারা আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তাকে ও তার স্ত্রী ক্যামিলাকেও সেভাবেই সহযোগিতা করবেন। আমার আন্তরিক ইচ্ছা, ক্যামিলার পরিচয় হবে ‘কুইন কনসর্ট’ হিসাবে এবং এই পরিচয়েই তিনি তার রাজদায়িত্ব পালন করবেন।’

বিবিসি বলেছে, এতদিন ধারণা ছিল, প্রিন্স চার্লস রাজা হলে ‘প্রিন্সেস কনসর্ট’ হিসাবে পরিচিত হবেন ক্যামিলা। কিন্তু রানির আচমকা এমন ঘোষণার পর ক্যামিলার রানি উপাধি পাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।

রাজপ্রাসাদ ক্লারেন্স হাউজের এক মুখপাত্র বলেন, রানির এমন ঘোষণায় প্রিন্স অব ওয়েলস ও ডাচেস অব কর্নওয়াল ‘আপ্লুত ও সম্মানিত’ বোধ করছেন।

ক্যামিলা চার্লসের দ্বিতীয় স্ত্রী। ১৯৮১ সালে প্রিন্সেস ডায়ানাকে বিয়ে করেন চার্লস। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়।

পরের বছরই এক সড়ক দুর্ঘটনায় ডায়ানার মৃত্যু হয়। ডায়ানার সঙ্গে বিয়ের আগে থেকে বিবাহিত ক্যামিলার সঙ্গে চার্লসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরও তারা সেই সম্পর্ক চালিয়ে যান এবং ২০০৫ সালে বিয়ে করেন।

ক্যামিলার জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৭ জুলাই লন্ডনে। সাউথ কেনসিংটনের কুইন্স গেট স্কুলে তার পড়াশোনা শুরু। এরপর সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সে উচ্চতর ডিগ্রি নেন তিনি।

১৯৭৩ সালে ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা অ্যান্ডরু পার্কার বোলসের সঙ্গে বিয়ে হয় ক্যামিলার। কিন্তু দুই বছর পর ১৯৭৫ সালেই বিয়েবিচ্ছেদ হয়।

২০০৫ সালে চার্লস ও ক্যামিলার বিয়ের সময় একটি রাজকীয় ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হয়, ক্যামিলা প্রিন্সেস কনসর্ট হিসাবে পরিচিত হবেন। কিন্তু তিনি ধীরে ধীরে ভবিষ্যৎ রাজার অনুগত স্ত্রী হিসাবে প্রশংসা অর্জন করেছেন। এই আবহে রানি এলিজাবেথের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য বড় পদক্ষেপ।

চার্লস ও ডায়ানার গল্পের মধ্যে ক্যামিলাকে প্রায়ই ভিলেন হিসাবেই দেখা হয়। বিশেষ করে চার্লসের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ক্যামিলা।

কিন্তু চার্লসের সঙ্গে বিয়ের পর আস্তে আস্তে রাজপরিবারের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে গত দুই দশকে রানির আস্থা অর্জন করতেও সক্ষম হয়েছেন।

যার প্রকাশ্য স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন। ২০১৬ সালে তাকে প্রিভি কাউন্সেলর ও ২০২০ সালে ‘দ্য অর্ডার অব দ্য গার্টার’ হিসাবে নিয়োগ করা হয় যা তাকে রানির মতো আরও বড় দায়িত্বের প্রস্তুতিপর্ব বলে মনে করা হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments